পাকিস্তানের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডের শেষ ওভারটা ছিল স্নায়ুক্ষয়ী। শেষ ২ বলে দরকার ছিল ১২ রান। আর স্ট্রাইকে তখন হাত খুলে খেলতে থাকা শাহীন। পঞ্চম বলে তখন গুরুত্বপূর্ণ এক রিভিউ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। যা কাজেও আসে। শেষ ম্যাচে সফরকারীদের ১১ রানে হারিয়ে সিরিজ ২-১ ব্যবধানে নিশ্চিত করেছে স্বাগতিকরা। তাতে পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয়বার ওয়ানডে সিরিজ জয়ের কীর্তি গড়ে বাংলাদেশ। ম্যাচের পর অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ জানিয়েছেন, গুরুত্বপূর্ণ সেই রিভিউ নেওয়া হয় উইকেটকিপার লিটন দাস ও সতীর্থ নাজমুল হোসেন শান্তর পরামর্শে। যা সিরিজ জয়ে বড় ভূমিকা রাখে।
শেষ দুই বলে যখন ১২ রান প্রয়োজন, তখন লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন লেগ স্টাম্পের বাইরে একটি বল করেন। যা ব্যাটে লাগাতে পারেননি শাহীন আফ্রিদি। মাঠের আম্পায়ার প্রথমে সেটিকে ওয়াইড ঘোষণা করেন। এতে পাকিস্তানের সমীকরণ দাঁড়ায় দুই বলে ১১ রান। ফলে ম্যাচে টিকে থাকার সুযোগ পায় সফরকারীরা। তখনই আবার কৌশলগত একটি সিদ্ধান্তও নেয় বাংলাদেশ। এলবিডাব্লিউ হওয়ার সম্ভাবনা না থাকলেও মিরাজ রিভিউ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পরিকল্পনাটি ছিল সহজ—যদি দেখা যায় বলটি উইকেটকিপারের কাছে যাওয়ার আগে ব্যাটে লেগেছে, তাহলে সেটি আর ওয়াইড হিসেবে গণ্য হবে না।
রিপ্লেতে দেখা যায়, বলটি সত্যিই শাহীন আফ্রিদির ব্যাটে লেগে উইকেটকিপারের কাছে পৌঁছেছিল। ফলে ওয়াইডের সিদ্ধান্ত বাতিল হয়। এতে উইকেট না পড়লেও অতিরিক্ত রান বাতিল হওয়ায় কার্যত বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত হয়ে যায়।
বাংলাদেশ রিভিউ নেওয়ার পর পাকিস্তান অধিনায়ক আফ্রিদিকে আপত্তি জানাতে দেখা যায়। কেন রিভিউ নেওয়া হয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হয়েছে কিনা—সেটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। শেষ পর্যন্ত রিভিউ বহাল থাকে।
ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে মিরাজ এই সিদ্ধান্তের পেছনের ঘটনা উল্লেখ করে বলেছেন, ‘রিভিউটা আমরা সবাই মিলে আলোচনা করেই নিয়েছিলাম। লিটন আর শান্ত সেখানে ছিল। ওরা দুজনই বলেছিল, যেহেতু আমাদের হাতে রিভিউ আছে, তাই এটা নেওয়া উচিত। আমাদের হাতে তখন দুইটা রিভিউ ছিল, পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই আমরা এটা করেছি।’
ম্যাচে তানজিদ হাসান তামিমের সেঞ্চুরিতে ভর করে ২৯০ রান তোলে বাংলাদেশ। জবাবে পাকিস্তানের শুরুটা ছিল নড়বড়ে। ১৭ রানের মধ্যে তিন উইকেট হারায় তারা। পরে তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমানের বোলিংয়ে ৮২ রানে পাঁচ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে সফরকারীরা। তার পরও সালমান আগার দারুণ এক সেঞ্চুরিতে ম্যাচে ফিরে আসে পাকিস্তান। এক সময় শেষ চার ওভারে তাদের দরকার পড়ে ৩৯ রান। জমে উঠে ম্যাচ।
মিরাজ স্বীকার করেন যে, ম্যাচটি শেষ দিকে বেশ স্নায়ুচাপ তৈরি করেছিল, ‘আমি সব সময় বিশ্বাস করছিলাম ইনশাআল্লাহ আমরা ম্যাচটা জিতবো। কিন্তু হ্যাঁ, শেষ দিকে খুব কাছাকাছি চলে গিয়েছিল। মাঝের ওভারগুলোতে আমরা উইকেট নিতে পারিনি। তখন যদি কয়েকটা উইকেট পেতাম, তাহলে হয়তো ম্যাচটা সহজ হতো।’