দ্বিতীয় টেস্টের সংক্ষিপ্ত স্কোর:
পাকিস্তান দ্বিতীয় ইনিংসে ৮৬ ওভারে ৩১৬/৭ (সাজিদ ৮*, রিজওয়ান ৭৫*; ফজল ৬, আওয়াইজ ২১, বাবর ৪৭, শাকিল ৬, শান ৭১, সালমান ৭১, হাসান ০)
বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে ১০২.২ ওভারে ৩৯০/১০, লিড ৪৩৬ (, তাইজুল ৮*; তানজিদ ৪, মাহমুদুল ৫২, মুমিনুল ৩০, শান্ত ১৫, লিটন ৬৯, মিরাজ ১৯, তাইজুল ২২, তাসকিন ৬, শরিফুল ১২, মুশফিক ১৩৭)
পাকিস্তান প্রথম ইনিংসে ৫৭.৪ ওভারে ২৩২/১০ (আব্বাস ০*; ফজল ৯, আওয়াইজ ১৩, শান ২১, শাকিল ৮, বাবর ৬৮, সালমান ২১, রিজওয়ান ১৩, হাসান ১৮, শাহজাদ ১০, সাজিদ ৩৮)
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৭৭ ওভারে ২৭৮/১০ ( শরিফুল ১২*; মাহদুমুল ০, তানজিদ ২৬, মুমিনুল ২২, শান্ত ২৯, মুশফিক ২৩, মিরাজ ৪, তাইজুল ১৬, তাসকিন ৭, লিটন ১২৬, নাহিদ ০)
৪৩৭ রানের লক্ষ্য তাড়ায় রেকর্ডই গড়তে হতো পাকিস্তানকে। সেই লক্ষ্যে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের শেষ সেশনে ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে ঘুরে দাঁড়ানেরা চেষ্টা করেছিল পাকিস্তান। সালমান আগা ও মোহাম্মদ রিজওয়ান দারুণ প্রতিরোধ গড়ে স্বপ্ন দেখাচ্ছিলেন। কিন্তু নতুন বল নেওয়ার পর স্পিনার তাইজুল ইসলামের আঘাতে ভেঙেছে ১৩৪ রানের এই জুটি। সালমান আলীকে (৭১) ফিরিয়েছেন তিনি। তার পর হাসান আলীকেও তুলে নিলে জয়ের মঞ্চ গড়ে চতুর্থ দিন শেষ করেছে বাংলাদেশ। রোমাঞ্চকর হয়ে দাঁড়ানো এই টেস্টের শেষ দিন বাংলাদেশের জয়ের জন্য চাই আর ৩ উইকেট। পাকিস্তান দিন শেষ করেছে ৭ উইকেটে ৩১৬ রানে। তাদের জয়ের জন্য আরও দরকার ১২১ রান। বাংলাদেশের পথে কাঁটা হয়ে এখনও আছেন রিজওয়ান। তিনি ৭৫ রানে ব্যাট করছেন। সঙ্গে আছেন সাজিদ খান (৮*)।
দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের সেরা বোলার তাইজুল ইসলাম। ১১৩ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন। ৫৮ রানে দুটি নিয়েছেন নাহিদ রানা। একটি নিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
তাইজুলে নিলেন চতুর্থ উইকেট, আউট হাসান আলী
জুটি ভাঙার পরের ওভারে আবারও আঘাত হেনেছেন তাইজুল ইসলাম। এবার নতুন ব্যাটার হাসান আলীকে স্লিপে নাজমুল হোসেন শান্তর ক্যাচ বানিয়েছেন। তাইজুলের চতুর্থ শিকারে পাকিস্তান সপ্তম উইকেট হারিয়েছে।
১৩৪ রানের জুটি ভাঙলেন তাইজুল
ষষ্ঠ উইকেটে পাকিস্তান শিবিরে আশার সঞ্চার করছিলেন সালমান আলী ও মোহাম্মদ রিজওয়ান। ১৩৪ রানের জুটিতে বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন তারা। কমিয়ে আনছিলেন ব্যবধান। শেষ বিকালে নতুন বল নেওয়ার পরই সেই জুটি ভেঙেছেন তাইজুল ইসলাম। তার দুর্দান্ত একটি ডেলিভারিতে ৭১ রানে বোল্ড হয়েছেন সালমান আলী। তার ১০২ বলের ইনিংসে ছিল ৬টি চার ও ১টি ছক্কা।
জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন ৫ উইকেট
শেষ হয়েছে দ্বিতীয় সেশনের খেলা। ৪৩৭ রানের লক্ষ্যে আরও ২৩৭ রানের প্রয়োজন পাকিস্তানের। বাংলাদেশের জয়ের জন্য দরকার আর ৫ উইকেট। চায়ের বিরতিতে যাওয়ার আগে পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসে সংগ্রহ ছিল ৫ উইকেটে ২০০ রান। ক্রিজে আছেন সালমান আগা (২৫*) ও মোহাম্মদ রিজওয়ান (১৫*)।
পর পর ফিরলেন শাকিল-শান
বাবর ফিরতেই প্রতিরোধ দুর্বল হয়ে পড়েছে পাকিস্তানের। নতুন ব্যাটার সৌদ শাকিলকে ৪৩.৪ ওভারে লিটন দাসের গ্লাভসবন্দি করেছেন নাহিদ রানা। পরের ওভারে সেট হয়ে যাওয়া শান মাসুদকে ৭১ রানে থামিয়েছেন তাইজুল ইসলাম। তাকে মাহমুদুল হাসান জয়ের ক্যাচ বানিয়েছেন তিনি। ১৬২ রানে পঞ্চম উইকেট পড়ায় পাকিস্তান কতক্ষণ টিকতে পারে সেটাই দেখার।
হুমকি হয়ে দাঁড়ানো বাবর-শানের জুটি ভাঙলেন তাইজুল
প্রথম সেশন থেকে প্রতিরোধ গড়ে খেলছিলেন শান মাসুদ ও বাবর আজম। তৃতীয় উইকেটে ৯২ রানের জুটিতে হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন তারা। দলের ১৩৩ রানে এই জুটি ভেঙে স্বস্তি ফিরিয়েছেন তাইজুল ইসলাম। বামহাতি স্পিনারের ঘূর্ণিতে কিপারের গ্লাভসে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন বাবর। ফেরার আগে ৫২ বলে ৪ চার ও ১ছক্কায় করেছেন ৪৭ রান।
প্রথম সেশনে ২ উইকেট নিয়ে লাঞ্চে বাংলাদেশ
দ্বিতীয় টেস্টের চতুর্থ দিনের শুরুতেই উদ্বোধনী জুটি ভেঙে সফরকারীদের রেকর্ড রান তাড়ার পথে দ্রুত চাপ সৃষ্টিতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ।
৪৩৭ রানের লক্ষ্যে দ্বিতীয় ইনিংসে কোনও উইকেট না হারিয়ে দিন শুরু করেছিল পাকিস্তান। ওপেনার আজান আওয়াইজ ও আবদুল্লাহ ফজল শুরুতে সতর্ক ব্যাটিং করছিলেন। দুজন মিলে ২৭ রান যোগ করার পর আঘাত হানেন নাহিদ রানা। ২৮ বলে ৬ রান করা ফজলকে ফিরিয়ে দেন তিনি।
এরপর প্রথম টেস্টের সেঞ্চুরিয়ান আজান আওয়াইজকেও ফেরান মিরাজ। ৪৯ বলে ২১ রান করা এই ব্যাটার এলবিডাব্লিউ হন। রিভিউ নেওয়ার পরও আম্পায়ার্স কল থাকায় সিদ্ধান্ত বদলায়নি।
তখন পাকিস্তানের স্কোর ছিল ২ উইকেটে ৪১ রান। এরপর অধিনায়ক শান মাসুদ ও বাবর আজম দলকে সামাল দিয়েছেন। দুজন মিলে অবিচ্ছিন্ন ৬০ রানের জুটিতে প্রথম সেশন শেষ করেছেন।
লাঞ্চ বিরতিতে পাকিস্তানের সংগ্রহ ছিল ২ উইকেটে ১০১ রান। জয়ের জন্য তাদের আরও প্রয়োজন ৩৩৬ রান। যে কাজটি ইতিহাস গড়ার মতোই কঠিন। টেস্ট ইতিহাসে সর্বোচ্চ সফল রান তাড়ার রেকর্ড ওয়েস্ট ইন্ডিজের। ২০০৩ সালে অ্যান্টিগায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪১৮ রান তাড়া করেছিল তারা। আর পাকিস্তানের সর্বোচ্চ রান তাড়ার রেকর্ড ৩৭৭। যেটি তারা ২০১৫ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে করেছিল। সেই ম্যাচে খেলেছিলেন বর্তমান অধিনায়ক শান মাসুদ।
মিরাজের ঘূর্ণিতে এলো দ্বিতীয় উইকেট
২৭ রানে প্রথম উইকেট পতনের পর দ্বিতীয় উইকেট পড়তেও বেশি সময় লাগেনি। মেহেদী হাসান মিরাজের ঘূর্ণিতে এলবিডাব্লিউ হয়েছেন আরেক ওপেনার আজান আওয়াইজ। ৪৯ বলে ২১ রান করেছেন তিনি। পাকিস্তান ওপেনার রিভিউ নিয়েও সফল হতে পারেননি।
ওপেনিং জুটি ভাঙলেন রানা
সকালের শুরুতে ওপেনিং জুটিতে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টায় ছিল পাকিস্তান। ঘণ্টা পূরণ হওয়ার আগেই তাদের জুটিতে আঘাত হেনেছেন রানা। গালিতে ৬ রানে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন আব্দুল্লাহ ফজল।
জয়ের লক্ষ্যে চতুর্থ দিন খেলতে নেমেছে বাংলাদেশ
সিলেট টেস্ট জিততে পাকিস্তানকে ৪৩৭ রানের লক্ষ্য দিয়েছে বাংলাদেশ। তৃতীয় দিন মাত্র দুই ওভার ব্যাট করতে পেরেছে সফরকারী দল। যদিও স্কোরবোর্ড এখনও শূন্য। ব্যাট করছেন আজান আওয়াইজ (০) ও আব্দুল্লাহ ফজল (০)। একই অবস্থান থেকে চতুর্থ দিন খেলতে নেমেছে দুই দল। বাংলাদেশ চাইবে দ্রুত পাকিস্তানকে গুটিয়ে দিয়ে তাদের বিপক্ষে টানা দ্বিতীয় ধবলধোলাইয়ের স্বাদ পেতে।
সিলেটে পরিসংখ্যানও স্বাগতিকদের পক্ষে। এখন পর্যন্ত হওয়া পাঁচটি টেস্টে চতুর্থ ইনিংসে মাত্র একবারই সফল রান তাড়া করার ঘটনা ঘটেছে। গত বছর বাংলাদেশকে তিন উইকেটে হারিয়ে ১৭৪ রান তাড়া করে জিতেছিল জিম্বাবুয়ে। এর বাইরে ভেন্যুটিতে চতুর্থ ইনিংসের লক্ষ্য ৩০০ ছাড়ালেই ব্যাটিং দলকে বড় ব্যবধানে হারের মুখে পড়তে হয়েছে।
২০১৮ সালে ভেন্যুটির অভিষেক টেস্টে ৩২১ রান তাড়া করতে নেমে জিম্বাবুয়ের কাছে ১৫১ রানে হেরেছিল টাইগাররা। এরপর ২০২৪ সালে শ্রীলঙ্কার দেওয়া ৫১১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে ৩২৮ রানের বড় পরাজয় দেখতে হয়েছিল। আবার ২০২৩ সালে একই মাঠে ৩৩২ রান তাড়া করতে নেমে নিউজিল্যান্ড হেরে যায় ১৫০ রানে।
বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত সব টেস্ট মিলিয়ে ৩৫০ রানের বেশি সফলভাবে তাড়া করার ঘটনা ঘটেছে মাত্র একবার। ২০২১ সালে কাইল মেয়ার্সের অনবদ্য ব্যাটিংয়ে ৩৯৫ রান তাড়া করে স্মরণীয় জয় পেয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
এর আগে মুশফিকুর রহিমের (১৩৭) রেকর্ড ১৪তম সেঞ্চুরিতে তৃতীয় দিন দাপট দেখিয়েছে বাংলাদেশ। তার সেঞ্চুরির পাশাপাশি লিটন দাসের ৬৯ ও মাহমুদুল হাসান জয়ের ৫২ রানের ইনিংসও বড় অবদান রেখেছে। তাতে ৩৯০ রানে থেমেছে স্বাগতিকদের দ্বিতীয় ইনিংস।