ফরম্যাট বদলালেও ভাগ্য বদলায়নি, জিম্বাবুয়ের কাছে হার বাংলাদেশের

জিম্বাবুয়েতে টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজ হারের পর আশা ছিল হয়তো টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ঘুরে দাঁড়াবে বাংলাদেশ। কিন্তু সেখানেও একই হতাশার জন্ম দিয়েছে তাওহীদ হৃদয়ের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ। সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ৩২ রানে হেরে সিরিজ শুরু করেছে সফরকারীরা। 

১৭১ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে লাল-সবুজ দল ১৯ ওভারে ১৩৮ রানে অলআউট হয়েছে। 

দুই বিশেষজ্ঞ বোলার রিচার্ড এনগারাভা ও ব্লেসিং মুজারাবানির বিধ্বংসী বোলিংয়ের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি বাংলাদেশ। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে বাংলাদেশ। পাওয়ারপ্লের মধ্যেই ৩ উইকেট হারিয়ে ৪৩ রান তুলতে পারে সফরকারীরা। ৬.৪ ওভারে ৫০ রান পূর্ণ করলেও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকায় ম্যাচে আর ফিরতে পারেনি।

বাংলাদেশের হয়ে একমাত্র লড়াই করেন ইয়াসির আলী চৌধুরী। ৩৮ বলে ৫৪ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে লড়াই জমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। তাতে ছিল দুটি চার ও তিনটি ছক্কা। মেহেদী হাসানের সঙ্গে মাত্র ৩৭ বলে ৫২ রানের জুটি গড়ে কিছুটা আশা জাগিয়েছিলেন। মেহেদী করেন ১৯ রান। দলের ১৩০ রানে মেহেদীর বিদায়ে ষষ্ঠ উইকেটের এই জুটি ভাঙতেই শেষ হয়ে যায় সব আশা। একই স্কোরে আউট হন ইয়াসির আলীও। 

রিচার্ড এনগারাভা ৪ ওভারে ২৬ রানে ৪ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের মিডল অর্ডার গুঁড়িয়ে দেন। অন্যদিকে ব্লেসিং মুজারাবানি ছিলেন আরও বিধ্বংসী। এক মেডেনসহ ৪ ওভারে মাত্র ১৭ রান দিয়ে ৪ উইকেট শিকার করেন তিনি।

শুরুতে টস জিতে ফিল্ডিং নিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু পেসার নাহিদ রানার ক্যারিয়ারসেরা বোলিং জিম্বাবুয়েকে বড় সংগ্রহ গড়া থেকে বিরত রাখতে পারেনি। উদ্বোধনী ব্যাটার ব্রায়ান বেনেটের দায়িত্বশীল ইনিংসের পর শেষদিকে রায়ান বার্ল ও ব্র্যাড ইভান্সের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ৬ উইকেটে ১৭০ রান তোলে স্বাগতিকরা।

বুলাওয়ের কুইন্স স্পোর্টস ক্লাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা দারুণ করে জিম্বাবুয়ে। ওপেনার ব্রায়ান বেনেট ও তাদিওয়ানাশে মারুমানি উদ্বোধনী জুটিতে পাওয়ারপ্লের মধ্যেই যোগ করেন ৩৭ রান।

চতুর্থ ওভারে মারুমানিকে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন নাহিদ রানা। ৯ বলে ১৪ রান করা মারুমানি দুটি ছক্কা হাঁকানোর পর স্কয়ার লেগে সাইফ হাসানের হাতে ধরা পড়েন।

এরপর বেনেট ও ডিওন মায়ার্স দ্বিতীয় উইকেটে ৩৮ রান যোগ করে ইনিংস গুছিয়ে নেন। তবে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন মায়ার্সকে (২০) মিডউইকেট বদলি ফিল্ডার রিশাদ হোসেনের ক্যাচ বানিয়ে এই জুটি ভাঙেন।

এর কিছুক্ষণ পর আবারও আঘাত হানেন নাহিদ। ৩০ বলে ৪৪ রান করা সেট ব্যাটার বেনেটকে ফিরিয়ে তুলে নেন জিম্বাবুয়ের তৃতীয় উইকেট। বেনেটের ইনিংসে ছিল ছয়টি চার ও একটি ছক্কা।

অধিনায়ক সিকান্দার রাজা নেমেই একটি ছক্কা ও একটি চার মারলেও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ১৩ বলে ২০ রান করে লং-অফে তাওহীদ হৃদয়ের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। তখন জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ ১৪ ওভারে ৪ উইকেটে ১১৬ রান।

১৮তম ওভারে নিজের তৃতীয় স্পেলে জোড়া আঘাত হানেন নাহিদ। মিল্টন শুম্বা ও তাশিঙ্গা মুসেকিওয়াকে ফিরিয়ে স্বাগতিকদের ১৩৯ রানে ৬ উইকেটের পতন ঘটিয়ে চাপে ফেলে দেন।

কিন্তু শেষদিকে রায়ান বার্ল ও ব্র্যাড ইভান্স দারুণভাবে ইনিংস শেষ করেন। তাদের ১৫ বলে ৩১ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে জিম্বাবুয়ে লড়াকু সংগ্রহ পায়।

বার্ল ২৫ বলে ৩০ রানে অপরাজিত থাকেন; তার ইনিংসে ছিল দুটি চার ও একটি ছক্কা। ইভান্স ১০ বলে ১৯ রানে অপরাজিত ছিলেন। তাতে ছিল চারটি চার। 

নাহিদ রানা শেষ ওভারে ১৮ রান দিলেও ৪ ওভারে ২৬ রান খরচায় ৪ উইকেট নেন। যা টি-টোয়েন্টিতে তার ক্যারিয়ারসেরা বোলিং। এছাড়া মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ৩৫ রানের বিনিময়ে দুটি উইকেট নেন।