ঘরোয়া ক্রিকেটে এসজি বলের পথে বাংলাদেশ, কী সুবিধা তাতে? 

চার বছর আগে দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে বড় এক পরিবর্তন এনেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ব্যাটারদের টেকনিক উন্নত করতে এবং বিদেশের কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে জাতীয় ক্রিকেট লিগে (এনসিএল) চালু করা হয়েছিল ইংল্যান্ডের বিখ্যাত ডিউক বল। সেই পরীক্ষা এবার শেষ হতে যাচ্ছে। বিসিবি এখন আবারও এসজি বলে ফেরার পরিকল্পনা করছে। যা বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নতুন আরেকটি পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

যদিও বিষয়টি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, তবু বাস্তবায়িত হলে গত চার মৌসুম পর বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে এটি হবে আরেকটি বড় পরিবর্তন। তার আগে জেনে নেওয়া যাক ক্রিকেটে প্রচলিত বলগুলোর পার্থক্যটা আসলে কোথায়? 

বিশ্ব ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত তিন ধরনের বল হলো ডিউক, কুকাবুরা এবং এসজি। উৎপাদন প্রক্রিয়া, সিমের গঠন, উপাদান এবং স্থায়িত্বের দিক থেকে প্রতিটি বলেরই নিজস্ব বৈশিষ্ট্য রয়েছে। তাই খেলোয়াড় ও কোচ—উভয়ের জন্যই এই পার্থক্যগুলো জানা জরুরি, কারণ বিভিন্ন ধরনের বল ম্যাচের পরিস্থিতি ও পারফরম্যান্সে বড় প্রভাব ফেলে।

ডিউক বল 

ইংল্যান্ডে তৈরি ডিউক বল হাতে সেলাই করা উঁচু সিমের জন্য পরিচিত। এই সিম দীর্ঘ সময় পর্যন্ত অক্ষত থাকে, ফলে বলটি অনেকক্ষণ ধরে সুইং করতে পারে।

দীর্ঘ সময় বলের আকৃতি ও চকচকে ভাব বজায় থাকায় এটি মূলত টেস্ট ও অন্যান্য দীর্ঘ সংস্করণের ক্রিকেটে ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত। ইংল্যান্ড এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজে এই বল ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

কুকাবুরা বল 

কুকাবুরা বল, যা সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডসহ আরও কয়েকটি দেশে। যা মূলত মেশিনে সেলাই করা। এর সিম তুলনামূলকভাবে কিছুটা নিচু বা সমতল।

ফলে ডিউক বলের তুলনায় এটি দ্রুত সুইং হারায়। তবে এটি ধারাবাহিক বাউন্স ও গতি নিশ্চিত করে। দ্রুতগতির বোলারদের জন্য এই বল বেশ কার্যকর হওয়ায় কোচরা খেলোয়াড়দের এর আচরণ সম্পর্কে বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন।

এসজি বল 

ভারতে তৈরি এসজি বলের সিমও ডিউকের মতো বেশ উঁচু। তবে এটি বিশেষভাবে উপমহাদেশের শুষ্ক ও স্পিন-সহায়ক উইকেটের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়।

এই বল স্পিনারদের জন্য ভালো গ্রিপ দেয় এবং শুকনো উইকেটে দীর্ঘ সময় কার্যকর থাকে। প্রশিক্ষণের সময় স্পিনারদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে কীভাবে সর্বোচ্চ টার্ন আদায় করা যায়, তা শেখাতে এসজি বল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

পেছনের ঘটনা

২০২২-২৩ মৌসুমের আগে জাতীয় ক্রিকেট লিগে এসজি বলের পরিবর্তে ডিউক বল চালু করেছিল বিসিবি। মূল লক্ষ্য ছিল বিদেশের কন্ডিশনের সঙ্গে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের আরও ভালোভাবে মানিয়ে নেওয়া।

বিশেষ করে নিউজিল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে সুইং ও সিম বোলিংয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের ব্যাটারদের ধারাবাহিক ব্যর্থতার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

হাতে সেলাই করা উঁচু সিম এবং দীর্ঘ সময় সুইং করার সক্ষমতার জন্য পরিচিত ডিউক বল ব্যাটারদের টেকনিক্যাল দুর্বলতা সামনে আনবে এবং ঘরোয়া ক্রিকেটকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলবে-এমনটাই প্রত্যাশা ছিল বিসিবির।

এছাড়া ডিউক বল ব্যবহারের ফলে কিউরেটররাও আগের তুলনায় সবুজ ও পেস-সহায়ক উইকেট তৈরি করতে শুরু করেন, যেখানে স্পিনের চেয়ে পেসাররা বেশি সুবিধা পেতেন।

ডিউক বল ব্যবহারের পর ব্যাটারদের গড় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। বিশেষ করে টপ অর্ডারের ব্যাটারদের জন্য রান করা কঠিন হয়ে ওঠে।

অন্যদিকে, অতিরিক্ত সুইং ও সিম মুভমেন্টের সুবিধা পেয়ে পেসাররা দারুণভাবে উপকৃত হন। এই সময় উঠে আসে বেশ কয়েকজন সম্ভাবনাময় তরুণ ফাস্ট বোলার। বর্তমানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের পেস আক্রমণ দলের অন্যতম বড় শক্তিতে পরিণত হওয়ার পেছনেও এই পরিবর্তনের অবদান রয়েছে বলে মনে করা হয়।

এখন বিসিবি ধারণা করছে ডিউক বল নিয়ে এই পরীক্ষা অনেকটাই সফল হয়েছে এবং এর মূল উদ্দেশ্য পূরণ হয়েছে। তাই টেকনিক্যাল কমিটির বিশ্বাস, ঘরোয়া ক্রিকেটের উন্নয়নের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে।