আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২২ বছরের বেশি সময় পার করলেও একটি স্বপ্ন অধরা ছিল মুশফিকুর রহিমের। সেটি অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলা। অবশেষে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্ট খেলতে নামার অপেক্ষায় বাংলাদেশের অভিজ্ঞ এই ব্যাটার।
বাংলাদেশ দলের প্রথম অনুশীলনে ডারউইনের ডিএক্সসি অ্যারেনায় যখন তিনি প্রবেশ করেন, সেই মুহূর্তটি তার কাছে নিশ্চয়ই ছিল স্বপ্নপূরণের মতো।
২০০৩ সালের পর এই প্রথম অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট সিরিজ খেলতে গেছে বাংলাদেশ। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হিসেবে শক্তিশালী পূর্ণশক্তির অস্ট্রেলিয়া দলের বিপক্ষে খেলবে টাইগাররা।
আগস্ট ১৩ থেকে শুরু হতে যাওয়া প্রথম টেস্টের ভেন্যু ডিএক্সসি অ্যারেনাতেই ঘাম ঝরিয়ে প্রস্তুতি শুরু করেছে বাংলাদেশ দল। টেস্ট স্কোয়াডের প্রথম বহর শনিবার ডারউইনে পৌঁছেছে। আর ২ আগস্ট ঢাকা ছাড়ার পর লিটন দাসসহ বাকি সদস্যরাও শিগগিরই দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার কথা।
প্রথম দিনের অনুশীলনে নেটে সবচেয়ে বেশি সময় কাটানো ক্রিকেটারদের একজন ছিলেন অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম।
দলের অনেকের কাছেই এটি অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম টেস্ট খেলার রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। তবে মুশফিকের জন্য এই সফরের গুরুত্ব আরও গভীর। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের দুই দশকেরও বেশি সময় পার করার পর অবশেষে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট খেলার সুযোগ পাচ্ছেন তিনি।
বাংলাদেশের পঞ্চপাণ্ডবদের মধ্যে এখন একমাত্র মুশফিকই মাঠের ক্রিকেটে পুরোপুরি নিবেদিত। শুরু থেকে ক্রিকেটকেই জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হিসেবে ধরে রেখেছেন তিনি। যখন তার সতীর্থরা রাজনীতি, প্রশাসন কিংবা কোচিংয়ে ব্যস্ত, তখনও তিনি অনুশীলনে সবার আগে হাজির এবং সবার শেষে মাঠ ছাড়ার অভ্যাস বদলাননি।
এখন ৩৯ বছর বয়সী মুশফিক বাংলাদেশের একমাত্র ক্রিকেটার, যিনি ১০০টির বেশি টেস্ট খেলেছেন। অথচ ২১ বছরেরও বেশি দীর্ঘ টেস্ট ক্যারিয়ারে এবারই প্রথম অস্ট্রেলিয়া সফরে টেস্ট খেলতে যাচ্ছেন তিনি।
ঘনিষ্ঠদের মতে, ২০১৭ সালে মিরপুরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ের পর মুশফিক ভেবেছিলেন খুব শিগগিরই বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়া সফরে যাবে। কিন্তু সেই সুযোগ আর আসেনি। ফলে প্রায় এক দশক অপেক্ষা করতে হয়েছে তাকে।
এই দীর্ঘ অপেক্ষাই তার প্রস্তুতিকে আরও নিখুঁত করেছে। জানা গেছে, সিরিজের আগে নিজ উদ্যোগে বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছেন মুশফিক। অস্ট্রেলিয়ায় থাকা বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলে সেখানকার আবহাওয়া ও উইকেট সম্পর্কে ধারণা নিয়েছেন। এমনকি সাধারণের তুলনায় কিছুটা হালকা ব্যাটও সঙ্গে নিয়েছেন, কারণ তার বিশ্বাস, সেখানকার উইকেটে স্কয়ার অঞ্চলে শট খেলা সহজ হবে।
এছাড়া অস্ট্রেলিয়ার তারকা পেসার প্যাট কামিন্স ও জশ হ্যাজলউড-এর ইনসুইং সামাল দেওয়ার জন্যও আলাদাভাবে অনুশীলন করেছেন তিনি।
কারণ হয়তো এটাই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে নিজের ছাপ রেখে যাওয়ার একমাত্র সুযোগ।