ক্রিকেট যতই আধুনিক হোক, খেলাটির কিছু পুরোনো অভ্যাস যেন আজও বদলায়নি। প্রযুক্তি, ফিটনেস, পুষ্টি ও বৈজ্ঞানিক প্রস্তুতিতে বিপ্লব এলেও ক্রিকেটের সঙ্গে মদ্যপানের সম্পর্ক এখনও আগের মতো রয়ে গেছে- এমনটাই মনে করেন ইংল্যান্ডের সদ্য পদত্যাগ করা টেস্ট অধিনায়ক বেন স্টোকস।
সতীর্থ স্টুয়ার্ট ব্রড ও জস বাটলার সঞ্চালিত এক পডকাস্টে দেওয়া দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে স্টোকসকে প্রশ্ন করা হয়, ইংল্যান্ড দলে কি মদ্যপানের সমস্যা রয়েছে?
জবাবে তিনি বলেন, ‘না। একটি দলের ক্ষেত্রে এমন কথা বলা খুবই চরম মন্তব্য হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তবে আমি মনে করি ক্রিকেটে একটি মদ্যপান-সংস্কৃতি রয়েছে এবং সেটি বদলায়নি। আমরা এখন ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে আছি। বছরের পর বছর ধরে ক্রিকেট অনেক বেশি পেশাদার হয়েছে। কিন্তু একটি বিষয় অপরিবর্তিত থেকেছে, ক্রিকেটের সঙ্গে অ্যালকোহলের সম্পর্ক। ক্লাব ক্রিকেট থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত এটি ছড়িয়ে আছে এবং খেলাটির সংস্কৃতির অংশ হয়ে গেছে।’
স্টোকসের ভাষায়, ‘মদ্যপান ও ক্রিকেটের এই সম্পর্ক খেলাটি যতই পেশাদার হোক না কেন, বদলায়নি। এখন আরও বেশি বিজ্ঞান, চিকিৎসা, পুষ্টিবিদ্যা ও নানা আধুনিক ব্যবস্থা এসেছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে একটি বিষয় একই রয়ে গেছে, মদের সঙ্গে ক্রিকেটের সম্পর্ক। কেউ যদি মনে করেন ইংল্যান্ড দলের নিজস্ব মদ্যপানের সংস্কৃতি আছে, আমি বলবো না। আমি বলবো, ক্রিকেট খেলাটিরই এমন একটি সংস্কৃতি রয়েছে, যা অ্যালকোহলের সঙ্গে জড়িয়ে আছে।’
ক্যারিয়ারের বিভিন্ন সময়ে মদ্যপান নিয়ে নানা অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছেন স্টোকস। ২০১৭ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে ম্যাচের পর ব্রিস্টলে মাতাল অবস্থায় মারামারির ঘটনায় তিনি গ্রেফতার হয়েছিলেন। পরে অবশ্য তিনি মদ্যপান ছেড়ে দেন।
তবে চলতি বছরের জুনে লর্ডসে নিউজিল্যান্ডকে হারানোর পর রাতে বাইরে গিয়ে দলের কারফিউ ভাঙার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে স্টোকস বলেন, ‘আমি মনে করি এটি সমস্যা হয়ে উঠতে পারে। বছরের পর বছর ধরে ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত অনেক মানুষই মদ্যপানের কারণে খারাপ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন। কীভাবে এটি বদলানো সম্ভব, আমি জানি না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি বলতে চাই না যে আমার মদের সমস্যা ছিল। তবে ক্যারিয়ারের বিভিন্ন সময়ে মদের সঙ্গে আমার সম্পর্ক এমন ছিল, যা বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারতো। তবে এখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন।’
মদ্যপানের প্রসঙ্গের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন স্টোকস। তিনি বলেন, খেলোয়াড়ি জীবন শেষ হওয়ার পর ইংল্যান্ড দলের কোচ হওয়ার স্বপ্ন দেখেন তিনি, ‘আমি এখনও খেলছি, কিন্তু এর মধ্যেই লেভেল-৩ কোচিং কোর্স করছি। কারণ যেদিন খেলোয়াড়ি জীবন শেষ হবে, সেদিন যেন সব প্রস্তুতি সম্পন্ন থাকে।’









