বিশ্বকাপের নতুন ফরম্যাটে ক্ষুব্ধ স্কটল্যান্ড-নেদারল্যান্ডস

বিশ্বকাপ বড় করার উদ্যোগ নেওয়াতে যেন বিপাকে পড়েছে সহযোগী সদস্য দেশগুলো। পুরুষদের ওয়ানডে বিশ্বকাপের নতুন ফরম্যাট নিয়ে এবার সরাসরি অসন্তোষ প্রকাশ করেছে স্কটল্যান্ড ক্রিকেট ও রয়্যাল ডাচ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (কেএনসিবি)। যৌথ বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সাম্প্রতিক পরিবর্তনে গভীর হতাশা প্রকাশ করেছে দুই বোর্ড। আইসিসির পক্ষ থেকে দুই সপ্তাহের বেশি সময়েও কোনও জবাব না পাওয়াকে তারা বলেছে ‘হতাশাজনক’ ও ‘অসম্মানজনক’।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, স্কটল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসসহ অন্যান্য সহযোগী সদস্য দেশের প্রতিনিধিরা আইসিসির সঙ্গে দুই দফা বৈঠক করেছেন। বিশ্বকাপের ফরম্যাট পরিবর্তন নিয়ে আনুষ্ঠানিক লিখিত যোগাযোগ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়েছিলেন তারা।

তবে দ্বিতীয় বৈঠকের পর দুই সপ্তাহের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও আইসিসির কাছ থেকে কোনও উত্তর আসেনি বলে দাবি করেছে দুই বোর্ড।

তাদের মতে, বিশ্বকাপের নতুন ফরম্যাট সহযোগী সদস্য দেশগুলোর জন্য একটি বড় ধাক্কা। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নতুন কাঠামো ‘সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্ব ক্রিকেটের বিস্তারে যে অগ্রগতি হয়েছে, সেটিকে বাধাগ্রস্ত করার ঝুঁকি তৈরি করবে’।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘এমন এক সময়ে যখন ক্রিকেট তার পরিধি বাড়াতে, নতুন দর্শক আকৃষ্ট করতে এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে চাইছে, তখন উদীয়মান দেশগুলোর জন্য অর্থবহ সুযোগ কমিয়ে দেওয়া সম্পূর্ণ ভুল বার্তা দেয়।’

সহযোগী সদস্য দেশগুলোকে সরাসরি প্রভাবিত করে—এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তাদের সঙ্গে আলোচনা করা এবং পর্যাপ্ত সময় দেওয়ারও দাবি জানিয়েছে দুই বোর্ড। এতে সিদ্ধান্তের সম্ভাব্য প্রভাবগুলো সঠিকভাবে বোঝা এবং প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করছে তারা।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘এই পরিবর্তন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অখণ্ডতা ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে দুর্বল করার ঝুঁকি তৈরি করছে। একই সঙ্গে এটি শক্তিশালী প্রশাসন, স্বচ্ছ সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগের গুরুত্ব আরও স্পষ্ট করে তুলছে।’

বিশ্বকাপের বাছাই পর্বের কাঠামো নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তারা আরও বলেছে, ‘সদস্য দেশ ও তাদের খেলোয়াড়েরা বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতিতে বছরের পর বছর বিনিয়োগ করেন। এই পথে আবার আত্মবিশ্বাসটা অটুট থাকে বাছাই পর্ব চলাকালীন কোনও ধরনের পরামর্শ ছাড়া কাঠামো পরিবর্তন না করার ওপর। অল্প সময়ের নোটিশে এসব কাঠামো পরিবর্তন করলে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়, পরিকল্পনা ব্যাহত হয় এবং এমন প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর অতিরিক্ত পরিচালনাগত ও আর্থিক চাপ পড়ে, যারা এমনিতেই সীমিত সম্পদ নিয়ে কাজ করছে।’

উল্লেখ্য, গত মাসে ওয়ানডে বিশ্বকাপের নতুন ফরম্যাট ঘোষণা করে আইসিসি। এতে দলের সংখ্যা ১০ থেকে বাড়িয়ে ১৪ করা হয়েছে। তবে একই সঙ্গে প্রতিযোগিতায় চারটি ধাপ রাখা হয়েছে। গ্রুপ পর্বের আগে থাকবে রাউন্ড-রবিন ভিত্তিক ‘সুপার সিরিজ’।

১২, ১৩ ও ১৪ নম্বরে থাকা তিন দলের মধ্যে দুটি দল দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠবে। অর্থাৎ একটি দল প্রথম ধাপেই বিশ্বকাপের দৌড় থেকে বাদ পড়বে।

নেদারল্যান্ডস ও স্কটল্যান্ড—দুই দলই এখন বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে জায়গা করে নিয়েছে। ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে এই বাছাই পর্ব অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। তবে এর ভেন্যু এখনও নির্ধারণ করা হয়নি।

বিশ্বকাপের নতুন ফরম্যাট ঘোষণার পর থেকেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কারণ পরবর্তী ওয়ানডে বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার কথা আগামী বছরের অক্টোবরে। অর্থাৎ পরিবর্তনের পর হাতে থাকছে ১৮ মাসেরও কম সময়।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘বিশ্বকাপ শুরু হতে ১৮ মাসেরও কম সময় বাকি থাকতে এই পরিবর্তনগুলো আনা হয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট সদস্য দেশগুলোর এই প্রক্রিয়ায় মতামত দেওয়ার কিংবা নিজেদের মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ খুবই সীমিত।’

শেষ পর্যন্ত আরও বেশি আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে স্কটল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডস। তাদের ভাষায়, ‘আমরা বিশ্বাস করি সহযোগী সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে আরও বেশি আলোচনা হলে কার্যকর ও সহযোগিতামূলক একটি পদ্ধতি নিশ্চিত করা যেত এবং বাছাই পর্বের কাঠামোর ওপর আস্থাও বজায় রাখা সম্ভব হতো।’