অস্ট্রেলিয়ায় জয়ের পর মিরাজ, ‘এই ম্যাচ কোনোদিন ভুলবো না’

বাংলাদেশের হয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তবে ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়টি তার স্মৃতিতে বিশেষ জায়গা করে থাকবে নিঃসন্দেহে। অলরাউন্ড নৈপুণ্যে দুই বিভাগেই দুর্দান্ত পারফর্ম করে বাংলাদেশের ৯ উইকেটের জয়ে বড় অবদান রেখেছেন তিনি। পরে এই অলরাউন্ডার বলেছেন, ম্যাচটি তিনি কখনোই ভুলবেন না।

বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ের পর ট্রিপল এম ক্রিকেটকে মিরাজ বলেন, ‘আমার মনে হয়, কন্ডিশন বিবেচনায় এটি খুবই বিশেষ একটি ম্যাচ। এই ম্যাচ কোনোদিন ভুলবো না। কারণ তারা খুব ভালো একটি দল। এই মুহূর্তে তারা বিশ্বমানের দল এবং দারুণ খেলছে। আর আমি পাঁচ উইকেট নিয়েছি। তাই এই ম্যাচ আমি কখনোই ভুলবো না।’

ঐতিহাসিক এই জয়ে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান নায়ক ছিলেন মিরাজ। প্রথম ইনিংসে তিনি করেন ৬৫ রান। তৃতীয় দিনের শেষ দিকে স্টিভ স্মিথকে আউট করেন। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে ২৮৪ রানে অলআউট করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

ফলে বাংলাদেশের সামনে জয়ের জন্য লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ৫৭ রান। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে নিজেদের প্রথম টেস্ট জয় পেতে চতুর্থ দিনের সকালে খুব সহজেই সেই রান টপকে যায় বাংলাদেশ।

তবে নিজের পারফরম্যান্সের চেয়ে দলীয় প্রচেষ্টাকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন মিরাজ। ম্যাচের পর বলেছেন, ‘আমার মনে হয়, প্রথম ইনিংসে ছেলেরা দারুণ খেলেছে। হাসান যেভাবে বোলিং করেছে, প্রথম ইনিংসে সে ছয় উইকেট নিয়েছে।’

ম্যাচের প্রথম দিনেই হাসান মাহমুদের ক্যারিয়ারসেরা (৬/৫৫) বোলিংয়ের সুবাদে অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র ১৯৮ রানে গুটিয়ে দেয় বাংলাদেশ। এরপর নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৪২৬ রান করে ২২৮ রানের বিশাল লিড নেয় টাইগাররা।

তাই বাংলাদেশের ব্যাটিং ইউনিটের প্রশংসা করেছেন মিরাজ। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি করা তানজিদ হাসান তামিমের পাশাপাশি সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হকের অবদানের কথা তুলে ধরেছেন তিনি, ‘তানজিদ তামিম শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলেছে। আর আমার মনে হয় সাদমান ও মুমিনুল দায়িত্ব নিয়ে ব্যাট করেছে। অধিনায়কও খুব ভালো কাজ করেছে।’

প্রথম ইনিংসে মিরাজের ৬৫ রান বাংলাদেশকে ৪০০ পেরোনো স্কোর গড়তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে এই ইনিংসের কৃতিত্বও সতীর্থদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন তিনি। তার ভাষায়, ‘শেষ দিকে একটু জুটি হয়েছিল। হাসান, তাসকিন ও তাইজুল আমাকে রান করার সুযোগ করে দিয়েছে। তারা যদি আমাকে সমর্থন না করতো, তাহলে আমি এত রান করতে পারতাম না।’