কার্সের কাণ্ডে ফের প্রশ্নের মুখে ইংল্যান্ডের দলীয় শৃঙ্খলা

মাঠের বাইরে নতুন বিতর্কে ইংল্যান্ডের অস্বস্তি যেন কাটছেই না। ডার্বির নাইটক্লাবে একটি ঘটনার পর ব্রাইডন কার্সকে হাতকড়া পরা অবস্থায় একটিও ভিডিওতে দেখা গেছে। যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। আর ঘটনাটি ঘটেছে ঠিক এমন সময়, যখন নতুন করে ইংল্যান্ডের টেস্ট অধিনায়কত্ব পাওয়া জো রুট সতীর্থদের রোল মডেল ও ভালো মানুষ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিওতে কার্সকে হাতকড়া পরা অবস্থায় দেখা যায়। চার পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে তাকে একটি ক্লাব থেকে বের করে নিয়ে যেতেও দেখা গেছে।

দ্বিতীয় টেস্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের স্কোয়াডে থাকা ডারহামের এই পেসারকে সতীর্থ ম্যাথিউ পটসের সঙ্গে দেখা গিয়েছিল। সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক বেন স্টোকসকেও ওই সময়ের কিছু ছবিতে দেখা গেছে।

তবে ঘটনাটি ঘটার সময় কার্স ইংল্যান্ড দলের দায়িত্বে ছিলেন না। সোমবার দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তার।

এক বিবৃতিতে ইসিবি বলেছে, ‘গত রাতে ডার্বিতে একটি ঘটনা ঘটেছে বলে আমরা জানতে পেরেছি এবং বর্তমানে বিষয়টি তদন্ত করছি। সম্ভব হলে পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে আরও তথ্য জানানো হবে।’

অদ্ভুত ব্যাপার হলো, এই তদন্তের মাত্র পাঁচ দিন আগেই নতুন করে টেস্ট অধিনায়কত্ব পাওয়া জো রুট সতীর্থদের ‘ভালো রোল মডেল ও ভালো মানুষ’ হিসেবে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

৩৫ বছর বয়সী রুট বলেছিলেন, ‘আপনি সবসময়ই চান, আপনার দেশকে ভালোভাবে প্রতিনিধিত্ব করতে। সাম্প্রতিক অতীতে কয়েকটি ঘটনায় হয়তো আমরা সেটা ঠিকভাবে করতে পারিনি। এটি শুধরে দেওয়ার একমাত্র উপায় হলো সত্যিই ভালো রোল মডেল হওয়া, ভালো মানুষ হওয়া এবং মাঠে শক্তিশালী পারফরম্যান্স দেওয়া।’

ইংল্যান্ডের জন্য গত কয়েক মাস এমনিতেই ছিল তুমুল অস্থিরতার। সাবেক অধিনায়ক বেন স্টোকস আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে আকস্মিক অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। এরপর টেস্ট কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালামকেও বরখাস্ত করা হয়েছে।

এর আগের শীতকালীন সফরগুলোতেও মাঠের বাইরের ঘটনা বারবার আলোচনায় এসেছিল। ওয়েলিংটনে নাইটক্লাবের এক বাউন্সারের সঙ্গে হ্যারি ব্রুকের ঘটনা এবং অ্যাশেজের মাঝপথে দলের সদস্যদের মদ্যপান-সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ছিল বেশ অস্বস্তিকর। শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৪-১ ব্যবধানে বড় সিরিজ হারও সইতে হয় ইংল্যান্ডকে।

গোলমাল সেখানেই শেষ হয়নি। গ্রীষ্মে স্টোকস দলের কারফিউ ভাঙার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। 

দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্ম নেওয়া কার্স অবশ্য এর আগেও শাস্তির মুখে পড়েছেন। ২০২৪ সালে পুরোনো বেটিং অপরাধের কারণে তাকে তিন মাসের জন্য ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।