৩০ উইকেট। মাত্র ১২৫ ওভার। প্রতি ২৫ বলে একটি করে উইকেট! আর ম্যাচ? দ্বিতীয় দিন শেষও হওয়ার আগেই শেষ। অথচ সেই ম্যাকাইর পিচই পেতে যাচ্ছে আইসিসির সর্বোচ্চ রেটিং!
ফক্স ক্রিকেট ও সেভেন ক্রিকেটের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ম্যাচ রেফারি স্যার রিচি রিচার্ডসন গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনার উইকেটকে ‘ভেরি গুড’ কিংবা খুব ভালো হিসেবে মূল্যায়ন করতে যাচ্ছেন। তবে চূড়ান্তভাবে কার্যকর হওয়ার আগে আইসিসির অনুমোদন প্রয়োজন।
আইসিসির চার স্তরের পিচ রেটিংয়ের মধ্যে ‘খুব ভালো’-ই সর্বোচ্চ। সাধারণত এমন পিচকেই এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়, যেখানে ভালো ক্যারি, সীমিত সিম মুভমেন্ট ও ধারাবাহিক বাউন্স থাকে এবং ব্যাট ও বলের মধ্যে মোটামুটি ভারসাম্যপূর্ণ লড়াই দেখা যায়।
কিন্তু বাংলাদেশের দৃষ্টিকোণ থেকে এই রেটিং সামনে এনে দিয়েছে পুরোনো এক প্রশ্ন—উপমহাদেশে এমন একটি পিচ তৈরি হলে কি একই রকম মূল্যায়ন পেত?
বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ম্যাচ শেষে ঠিক এই প্রশ্নই তুলেছেন। তার দল প্রথম ইনিংসে মাত্র ৬৪ এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ৯৫ রানে অলআউট হয়ে ইনিংস ও ৫১ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরেছে। পুরো ম্যাচ স্থায়ী হয়েছে মাত্র দুই দিন।
শান্ত তাই ম্যাচের পর বলেছিলেন,‘সাধারণত আমরা যখন উপমহাদেশে খেলি এবং এক দিনে ১৮-১৯টি উইকেট পড়ে, তখন অনেক কথা হয়, সবাই কথা বলে। এখানেও প্রথম দিনে ১৮টি উইকেট পড়েছে। মানুষকে সেটাও বুঝতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘পিচটা চ্যালেঞ্জিং ছিল, আর সে কারণেই ১৮টি উইকেট পড়েছে। আমরা যখন উপমহাদেশে খেলি, তখন যেন এসব বিষয় ভুলে না যাই।’
ম্যাকাইর উইকেট যে পেসারদের জন্য যথেষ্ট সহায়ক ছিল, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। প্রথম দিনেই পড়েছিল ১৮ উইকেট। এরপর রবিবার আরও ১২ উইকেট তুলে নিয়ে জয় নিশ্চিত করে অস্ট্রেলিয়া।
সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছেন মিচেল স্টার্ক। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে মাত্র ১২ রানে ৬ উইকেট নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি শিকার করেন আরও ৪ উইকেট। ম্যাচে তার সংগ্রহ দাঁড়ায় ১০ উইকেট। প্যাট কামিন্স ও নাথান লায়নও বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসে তিনটি করে উইকেট নেন।
তবে বাংলাদেশের ব্যাটিং ব্যর্থতার দায়ও এড়ানোর সুযোগ নেই। টেস্ট ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দুই ইনিংসেই ১০০ রানের নিচে অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ। বিপরীতে অস্ট্রেলিয়াও প্রথম ইনিংসে মাত্র ২১০ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল।
তবে অস্ট্রেলিয়ার পেসার জশ হ্যাজলউডের চোখে ম্যাকাইর উইকেটের চিত্রটা ছিল একেবারেই ভিন্ন। একটি টেস্ট ম্যাচ দুই দিনেই শেষ হওয়া উচিত ছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে হ্যাজলউড বলেন, ‘হ্যাঁ, উইকেটটা বেশ ভালোই ছিল। আমার মনে হয় না, এটি দুই দিনের ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল।’
তিনি ব্যাখ্যা করেন, ‘প্রথম দিনে বল কিছুটা সিম করেছে, যা বেশিরভাগ টেস্ট ম্যাচেই আপনি আশা করবেন। কিন্তু বলের উজ্জ্বলতা কমে যাওয়ার পর খুব বেশি কিছু হয়নি।’
তবে দুই দিনের টেস্ট শেষ হওয়ার পরও সর্বোচ্চ রেটিং পাওয়া অস্ট্রেলিয়ার জন্য নতুন কোনো ঘটনা নয়।
গত বছর অ্যাশেজের পার্থ টেস্টও দুই দিনের মধ্যেই শেষ হয়েছিল। সেই ম্যাচে পড়েছিল মোট ৩২ উইকেট, যার মধ্যে শুধু প্রথম দিনেই ১৯টি। এরপর পার্থ স্টেডিয়ামের পিচকে দেওয়া হয়েছিল ‘ভেরি গুড’ রেটিং।
সেই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছিল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। তাদের মতে, এই রেটিং প্রমাণ করে যে পিচটি ব্যাট ও বলের মধ্যে ন্যায্য ভারসাম্য তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিল।

বাংলাদেশের বিপক্ষে আরও খেলতে চান ক্যারি







