অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইতিহাসের দুয়ারে গিয়েও শেষ পর্যন্ত সিরিজ ড্র নিয়ে ফিরেছে বাংলাদেশ। তবে দুই টেস্টের লড়াইয়ে যে আত্মবিশ্বাস আর সম্মান অর্জন করেছে, সেটিই এখন বড় স্বপ্ন দেখাচ্ছে। একসময় টেস্ট ক্রিকেটে ছন্দহীন বাংলাদেশ এখন বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের দৌড়ে। হাতে এখনও গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ, সামনে কঠিন পরীক্ষা। কিন্তু বাংলাদেশের প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার মনে করেন, এবার বাস্তব হওয়ার মতো অবস্থানেই আছে দল।
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলে বর্তমানে চতুর্থ স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। চলমান চক্রে এখনও ছয়টি ম্যাচ বাকি। চলতি বছরের শেষ দিকে ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজ দিয়ে পরবর্তী পরীক্ষা দিতে হবে বাংলাদেশকে। তবে বাশার শীর্ষ দুইয়ে থেকে আগামী বছরের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে জায়গা করে নেওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। বার্তা সংস্থা এএনআইকে বলেছেন, ‘আমরা এখন বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে খুব ভালো অবস্থানে আছি। সামনে আমাদের পাঁচটি খুব গুরুত্বপূর্ণ টেস্ট রয়েছে। দেখা যাক কী হয়।’
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সের উন্নতির কথাও তুলে ধরেছেন বাশার। বছরের শুরুতে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় এবং অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে চমক জাগানো জয়কে নিজেদের উন্নতির বড় প্রমাণ হিসেবে দেখছেন তিনি, ‘এটা শুধু অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টের বিষয় নয়। এর আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে আমাদের টেস্টগুলো কিংবা তারও আগের ম্যাচগুলোর দিকে তাকান। আমরা নিয়মিত টেস্ট জিতেছি। ২০০০ সাল থেকে পরিসংখ্যান দেখলে এবং গত দুই বছরের সঙ্গে তুলনা করলে আপনাকে বলতেই হবে, বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেট অনেক দূর এগিয়েছে।’
তবে সাম্প্রতিক সাফল্যে আত্মতুষ্টিতে ভুগতে চান না বাশার। টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশ এখনও সেরা দলগুলোর কাতারে পৌঁছায়নি বলেই মনে করেন তিনি, ‘আমি মনে করি না যে এই মুহূর্তে টেস্ট দল হিসেবে আমরা খুব ভালো একটি দলে পরিণত হয়েছি—এটা বলার মতো অবস্থায় আছি। আমাদের এখনও অনেক দূর যেতে হবে। তবে আমরা নিজেদের একটা অবস্থান তৈরি করতে পেরেছি।’
অস্ট্রেলিয়া সফর থেকে সবচেয়ে বড় অর্জন হিসেবে সম্মানকে দেখছেন বাশার। সফরের আগে যে লক্ষ্য নিয়ে দল দেশ ছেড়েছিল, সেটি পূরণ হয়েছে বলেই মনে করেন তিনি, ‘অস্ট্রেলিয়া থেকে বাংলাদেশ যা নিয়ে ফিরছে, সেটা নিয়ে আমরা এখানে আসার আগেই কথা বলেছিলাম। আমরা চেয়েছিলাম দেশে ফেরার সময় নিজেদের জন্য একটা নির্দিষ্ট মাত্রার সম্মান নিয়ে ফিরতে। আমার মনে হয়, আমরা সেই সম্মান নিয়েই দেশে ফিরতে পেরেছি।’