বিপিএল নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা কম হয়নি। নানা বিতর্কের কারণে এবার বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) আয়োজন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। শনিবার বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের সঙ্গে ফ্র্যাঞ্চাইজিদের সভা হয়েছে। সভা শেষে রংপুর রাইডার্সের প্রধান নির্বাহী ইশতিয়াক সাদেক জানিয়েছেন, নামকাওয়াস্তে বিপিএল আয়োজনের চেয়ে কিছুটা সময় নিয়ে টেকসই ও গুছানো মডেলে টুর্নামেন্ট আয়োজন করাই উত্তম।
বিসিবির ভাবনার সঙ্গে একমত পোষণ করে ইশতিয়াক সাদেক বলেন, ‘বিসিবির যে ভাবনা... এখন বিসিবি একটা ছোট ব্রেক নিয়েছে যেন পুরো টুর্নামেন্টটা আরও সুন্দর মতো, আরও সাসটেইনেবল মডেলে করা যায়। আলোচনা খুবই ফলপ্রসূ হয়েছে। আমরা যে তিনটা ফ্র্যাঞ্চাইজি ছিলাম, রাজশাহীর একটা শব্দ আমার কাছে খুব ভালো লেগেছে যে, সংস্কার। বিপিএলটার সংস্কার প্রয়োজন।’
বিপিএলের বর্তমান কাঠামোর সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমরা গত ১০ বছর ধরে আছি কিন্তু আমাদের কোনো কনস্ট্রাকটিভ আইডিয়া নেই, সাসটেইনেবল কোনও মডেল নেই। এই মডেলগুলোকে যদি আমরা দুই পক্ষ বিসিবি ও ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো একসঙ্গে ডেভেলপ করতে পারি, দীর্ঘ মেয়াদে বিপিএলের জন্য অনেক ভালো হবে।’
ভবিষ্যতে বিপিএল আয়োজনের ক্ষেত্রে অন্তত পাঁচ বছরের স্থায়ী সূচি চেয়েছে রংপুর রাইডার্স। ইশতিয়াক সাদেক বলেন, ‘সূচি থেকে শুরু করে মডেলটা কেমন হবে, কোন সময়ে হবে। পরবর্তীতে যখনই বিপিএল হবে, সেখান থেকে একটা ৫ বছরের ক্যালেন্ডার আমরা চেয়েছি। কারণ আমরা যখন ক্রিকেটারদের সঙ্গে চুক্তি করতে যাই, আন্তর্জাতিক বাজারে ন্যূনতম ২০টা ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট চলে। এখানে আমাদের বিপিএল সবচেয়ে কম গুরুত্ব পায়, যখন টপ ক্লাস ক্রিকেটার আনতে চাই। এই জায়গায় আমরা সূচিটা ৫ বছরের জন্য দেওয়ার কথা বলেছি।’
২০২৬ সালে বিপিএল না হলে দেশি ক্রিকেটারদের আর্থিক ক্ষতির শঙ্কা রয়েছে। তবে ইশতিয়াক সাদেকের মতে, অগোছালোভাবে টুর্নামেন্ট আয়োজন করে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে না পারার চেয়ে কিছুটা সময় নিয়ে ভালোভাবে বিপিএল আয়োজন করাই হবে উত্তম।
তিনি বলেন, ‘ক্রিকেটারদের রুটিরুজির ব্যাপার এখানে যেমন আছে, একইভাবে যখন আবার বিপিএল শেষ হয়ে যায় তখন কিন্তু এই ক্রিকেটাররাই ফ্র্যাঞ্চাইজির পেছনে ছোটে। আমার বলতে কোনো লজ্জা নেই যে, রংপুর রাইডার্স ১০ বছর ধরে এখানে আছি, আমাদের কখনও এটা হয়নি।’
ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর আর্থিক সংকট ও ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক নিয়েও কথা বলেছেন রংপুর রাইডার্সের এই কর্মকর্তা। ইশতিয়াক সাদেক বলেন, ‘তবে ৭-৮ মাস চলছে, আমাদের এখনও কিছু ক্রিকেটারের পারিশ্রমিক দেওয়া বাকি। কারণ আমাদের সঙ্গে যেসব স্পন্সররা চুক্তি করেছিল, তারা প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী টাকাগুলো দেয়নি। বাজারের পরিস্থিতি দিনকে দিন এত খারাপ হচ্ছে, যেটা আরও বেশি খারাপই হবে।’
নামকাওয়াস্তে বিপিএল আয়োজনের বিপক্ষে যুক্তি তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘একটা নামকাওয়াস্তে বিপিএল করে প্রতিশ্রুতি দিলাম যে ৩০ লাখ টাকা দেবো। কিন্তু ক্রিকেটারকে আমি শেষের ১৫ লাখ টাকা দিচ্ছি না, ফোন ধরছি না, হারিয়ে যাচ্ছি- এর থেকে বরং একটু সময় নিয়ে ভালো কোনো একটা মডেলে করাটাই উত্তম।’