প্রথম টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে হার। দ্বিতীয় টেস্টে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় নিয়ে মাঠে নেমেও সেই একই চিত্র। লর্ডসে ইংল্যান্ডের বোলিংয়ের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি পাকিস্তান। প্রথম ইনিংসে মাত্র ১১০ রানে অলআউট হয়েছে বাবর আজমের দল। এই ব্যাটিংয়ে ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ভনের চোখে পাকিস্তানকে মনে হয়েছে ‘দ্বিতীয় বিভাগের কাউন্টি দল’!
দ্বিতীয় টেস্টের তৃতীয় দিন শুরু করেছে ইংল্যান্ড ২৬১ রানের বিশাল লিড নিয়ে। ফলে প্রথম টেস্টের পর দ্বিতীয় ম্যাচেও বড় ব্যবধানে হারের শঙ্কায় সফরকারীরা। পাকিস্তানের এমন অসহায় ব্যাটিং নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে তুমুল হাস্যরস ও সমালোচনা।
তবে ভনের সবচেয়ে বেশি হতাশা পাকিস্তানের ব্যাটিং নিয়েই। ইংল্যান্ডের বোলারদের মোটেও চ্যালেঞ্জ জানাতে পারছে না বাবর আজমের ব্যাটিং লাইনআপ—এমনটাই মনে করেন তিনি। বিবিসির ‘টেস্ট ম্যাচ স্পেশাল’-এ ভন বলেন, ‘আমি একেবারে খোলাখুলি বলবো। ইংল্যান্ডের বোলারদের মোটেও কোনো চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে না। এই পাকিস্তানি ব্যাটিং লাইনআপ সম্ভবত অনেক দিন ধরে দেখা সবচেয়ে সহজ ব্যাটিং লাইনআপ, যাদের বিপক্ষে বোলিং করা যায়।’
শুধু তাই নয়, পাকিস্তানের বিপক্ষে বোলিং করার জন্য ইংল্যান্ডের বোলারদের মধ্যে যেন প্রতিযোগিতা চলছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ভনের ভাষায়, ‘শুধু তা-ই নয়, আমার মনে হয় বোলার হিসেবে সবাই বোলিং করার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। কারণ তারা জানে, এখানে উইকেট আছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘‘আপনি আহত হওয়ার ভয় পাচ্ছেন না। এমন কোনো ব্যাটার নেই, যে আপনাকে চাপে ফেলবে। কেউ আপনার বোলিংয়ের পরিসংখ্যান নষ্ট করবে না। ব্যাপারটা যেন এমন—‘আসুন, আসুন, কে উইকেট নিতে চান?’’
পাকিস্তানের প্রথম ইনিংসে আজান আওয়াইজের ১০২ বলে ৪৬ রানই ছিল দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ। এরপর সৌদ শাকিল করেন ১৬ বলে ১৬ রান। বাকি কোনো ব্যাটারই দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি।
পাকিস্তানের এমন ব্যাটিংয়ের পরও ইংল্যান্ডের বোলিং আক্রমণের প্রশংসা করেছেন ভন। তবে একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, আরও ভালো ব্যাটিং লাইনআপের বিপক্ষেও ইংল্যান্ডের এই বোলিং আক্রমণ ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে, ‘এটা খুবই সহজ। তারা (ইংল্যান্ডের বোলাররা) এখনও দারুণ কাজ করছে এবং ভয়ংকর দেখাচ্ছে। আমার মনে হয়, তারা এভাবেই বোলিং করতে থাকলে আরও ভালো ব্যাটিং লাইনআপকেও চ্যালেঞ্জ জানাতে পারবে।’
এরপরই পাকিস্তানের ব্যাটিং নিয়ে আসে তার সবচেয়ে তীক্ষ্ণ মন্তব্য, ‘কিন্তু এটাই পাকিস্তানের ব্যাটিং। এটা কি দ্বিতীয় বিভাগের কাউন্টি ক্রিকেট? কোনোভাবেই তারা এমন মানের ব্যাটিং করছে না, যাকে টেস্ট ম্যাচের ব্যাটিং লাইনআপ বলা যায়।’









