বল করতে ১০০ কিলোমিটার দৌড়! বিশ্ব রেকর্ডের পথে যে ক্রিকেটার

এক-দুই কিলোমিটার নয়, ক্রিকেট বল হাতে নিয়ে টানা ১০০ কিলোমিটার দৌড়। এরপর ক্লান্ত শরীর নিয়েই সরাসরি মাঠে নেমে করতে হবে ম্যাচের প্রথম বল। অবিশ্বাস্য এই চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন ইংল্যান্ডের ক্রিকেটার স্যাম বডোয়ানো।

ম্যাচে বল করার আগে সবচেয়ে দীর্ঘ এই রান-আপের বিশ্ব রেকর্ড গড়ার চেষ্টা করছেন ইংল্যান্ডের ওয়ার্পলসডনের এই ক্রিকেটার। এজন্য তাকে দৌড়াতে হবে ৬২ মাইল বা ১০০ কিলোমিটার।

শনিবার দিবাগত রাত ১২টায় উত্তর লন্ডনের ঐতিহাসিক লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ড থেকে শুরু হবে তার দৌড়। গন্তব্য ওয়াকিংয়ের ভ্যালি এন্ড ক্রিকেট ক্লাব (ভিইসিসি)। সেখানে রবিবার ব্রিটিশ সময় দুপুর ২টায় ম্যাচের প্রথম বল করে চ্যালেঞ্জটি শেষ করবেন তিনি।

এই উদ্যোগের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের ক্যানসারবিষয়ক দাতব্য সংস্থা দ্য রুথ স্ট্রস ফাউন্ডেশনের জন্য অর্থ সংগ্রহ করা হবে।

বডোয়ানো জানান, বর্তমান রেকর্ডধারীর ভিডিও দেখেই এমন কঠিন চ্যালেঞ্জ নেওয়ার অনুপ্রেরণা পেয়েছেন তিনি, ‘আমি বর্তমান রেকর্ডধারীর একটি ভিডিও দেখেছিলাম। তিনি ২৪ কিলোমিটার (১৫ মাইল) দৌড়েছিলেন। তখন আমার মনে হলো, আমাকেও এটা চেষ্টা করতে হবে।’

বিবিসি রেডিও সারেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, বিশ্ব রেকর্ডের প্রচেষ্টাটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি পেতে বেশ কিছু কঠিন শর্তও পূরণ করতে হবে। তার কথায়, ‘রেকর্ডের প্রচেষ্টাটি আনুষ্ঠানিক করতে হলে আমাকে ১০০ কিলোমিটার দৌড়াতে হবে, হাতে ক্রিকেট বল রাখতে হবে এবং পুরো ক্রিকেট পোশাক পরেই দৌড়াতে হবে।’

এরপরও অবশ্য চ্যালেঞ্জ শেষ হবে না। ১০০ কিলোমিটার দৌড় শেষ করে তাকে সরাসরি একটি পূর্ণাঙ্গ ক্রিকেট ম্যাচে অংশ নিতে হবে। সেখানে থাকবেন আম্পায়ার, স্কোরার এবং দুই দলের ১১ জন করে খেলোয়াড়।

১০০ কিলোমিটারের দৌড় শেষ করতে সময় লাগবে প্রায় ১৪ ঘণ্টা। এরপর প্রথম বলটি কার বিপক্ষে করবেন, সেটিও ঠিক হয়ে গেছে। বডোয়ানোর বাবা থাকবেন ব্যাটসম্যান হিসেবে!

তিনি আরও বলেছেন, ‘আগের দৌড়টি শেষ করতে আমার প্রায় ১৪ ঘণ্টা লাগবে। আর শেষ পর্যন্ত যখন প্রথম বলটি করতে যাবো, তখন আমার বাবা ব্যাটসম্যান হিসেবে আমার মুখোমুখি হবেন।’

এরপর মজা করে যোগ করেন, ‘তাই আমার ওপর একটু বাড়তি চাপ থাকবে। তবে আমি হয়তো তাকে আউটও করে দিতে পারি, কে জানে!’

বডোয়ানোর এই উদ্যোগে সমর্থন দিয়েছে ভ্যালি এন্ড ক্রিকেট ক্লাব। সমর্থকদের ম্যাচটি সরাসরি অনুসরণ করার পাশাপাশি দাতব্য কাজে অনুদান দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। তহবিল সংগ্রহের জন্য র‍্যাফেলে পুরস্কার দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

বডোয়ানোর এই ব্যতিক্রমী চ্যালেঞ্জের সঙ্গে যুক্ত দ্য রুথ স্ট্রস ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন ইংল্যান্ডের সাবেক ক্রিকেট অধিনায়ক স্যার অ্যান্ড্রু স্ট্রস। তার স্ত্রী রুথ ৪৬ বছর বয়সে বিরল ধরনের ফুসফুসের ক্যানসারে মারা যাওয়ার পর তিনি এই ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। রুথ দুই সন্তান রেখে গিয়েছিলেন।