লর্ডসে ইংল্যান্ডের কাছে বড় ব্যবধানে হারের পর পাকিস্তান ক্রিকেটে শুরু হয়েছে তোলপাড়। ব্যর্থতার দায়ে শুধু খেলোয়াড় নয়, টিম ম্যানেজমেন্টেও বড় ধরনের পরিবর্তনের কথা ভাবছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। তৃতীয় ও শেষ টেস্টের আগে দলে একাধিক নতুন মুখ যোগ করার পাশাপাশি কোচিং স্টাফেও আসতে পারে রদবদল।
ক্রিকইনফোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবারই কয়েকজন ক্রিকেটারের ইংল্যান্ডে যাওয়ার কথা। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর এজবাস্টনে শুরু হবে সিরিজের তৃতীয় টেস্ট। সেই ম্যাচের জন্য দলের বিকল্প বাড়াতেই এই তৎপরতা।
হেডিংলিতে প্রথম টেস্টেও বড় ব্যবধানে হেরেছিল পাকিস্তান। তবে দুই টেস্টের মাঝে সময় কম থাকায় তখন বড় কোনও পরিবর্তন করেনি পিসিবি। শুধু একটি পরিবর্তন এসেছিল একাদশে—ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক সালমান আলী আগার জায়গায় অধিনায়ক হিসেবে ফিরেছিলেন বাবর আজম।
কিন্তু লর্ডসে আরেকটি হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর এবার কঠোর অবস্থানে যেতে চাইছে বোর্ড।
পাকিস্তানের সাদা বলের কোচ মাইক হেসন বর্তমানে লন্ডনে আছেন। তার সফরটি আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল, লর্ডসের ফলের সঙ্গে এর সরাসরি সম্পর্ক নেই। তবে পরিস্থিতি বদলে যাওয়ায় টেস্ট দলের দায়িত্বেও তাকে অন্তত সাময়িকভাবে যুক্ত করার জোর গুঞ্জন তৈরি হয়েছে।
ক্রিকইনফো জানিয়েছে, হেসনের সঙ্গে আরও কয়েকজন সাপোর্ট স্টাফ এবং ক্রিকেটারের ইংল্যান্ডে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে। এর ফলে তৃতীয় টেস্টে পাকিস্তানের কোচিং সেটআপে বড় পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।
বর্তমান টেস্ট প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ এবং বোলিং কোচ উমর গুলের ভবিষ্যৎ নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। মাত্র তিন মাসের কিছু বেশি সময় ধরে টেস্ট দলের কোচের দায়িত্বে আছেন সরফরাজ। কিন্তু তার অধীনে ছয়টি টেস্টের পাঁচটিতেই হেরেছে পাকিস্তান।
এই সময়ের মধ্যেই টেস্ট অধিনায়ক শান মাসুদকে সরিয়ে বাবর আজমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অধিনায়ক বদলালেও ফলাফলে কোনও দৃশ্যমান পরিবর্তন আসেনি। এবার তাই কোচিং স্টাফের দিকেও নজর পড়েছে পিসিবির।
পাকিস্তানের আরেক তারকা মোহাম্মদ রিজওয়ানের জায়গা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। লর্ডস টেস্টে তার ইনিংস শেষ হয় অদ্ভুত এক শটে। ভেতরের দিকে ঢুকে আসা বলে আবারও স্লগ করার চেষ্টা করেন তিনি, কিন্তু বল তার প্যাডে আঘাত করে। এই সফরে একই ধরনের শট বারবার খেলেছেন রিজওয়ান, যার বেশিরভাগই সফল হয়নি। ব্যাট হাতে তার সাম্প্রতিক ব্যর্থতাও এখন আলোচনায়। ফলে তৃতীয় টেস্টে রিজওয়ানের জায়গা নিয়েও সিদ্ধান্ত বদলের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।