ব্যাট হাতে বড় সংগ্রহ হয়নি। স্কোরবোর্ডে উঠেছিল ৭ উইকেটে মাত্র ১০৩ রান। কিন্তু সেই ছোট পুঁজিকেই পাহাড়সম বানিয়ে ফেললেন বাংলাদেশের বোলাররা। শুরু থেকেই চেপে ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ৬৯ রানে আটকে দিয়েছে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। তাতে ৩৪ রানের দাপুটে জয়ে এশিয়া কাপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। শেষ চারে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ভারত।
দুবাইয়ে গ্রুপের শেষ ম্যাচটি ছিল বাঁচা মরার। সেখানে শুরুটা বাংলাদেশের জন্য ছিল হতাশার। ইনিংসের প্রথম ওভারেই রানের খাতা না খুলে ফিরতে হয় দিলারা আক্তারকে। এরপর জুয়ায়রিয়া ফেরদৌস ১৬ রান করেন। অধিনায়ক নিগার সুলতানা ২৩ রানের ইনিংস খেলে দলকে কিছুটা স্থিতি দেন।
তবে বাংলাদেশের ইনিংসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন শারমিন আক্তার। চাপের মধ্যে দারুণ ব্যাটিং করে ৩১ বলে ৩৮ রান করেন তিনি। ইনিংসটি সাজানো ছিল তিনটি চারে। শারমিনের ব্যাটেই মূলত লড়াই করার মতো পুঁজি পায় বাংলাদেশ।
তবে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানোয় বড় সংগ্রহ গড়তে পারেনি বাংলাদেশ। আমিরাতের হয়ে বল হাতে দুর্দান্ত ছিলেন সুরক্ষা কোট্টে। চার ওভারে মাত্র ১১ রান দিয়ে তিনি তুলে নেন তিন উইকেট।
১০৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আমিরাতকে অবশ্য শুরু থেকেই চাপে রাখে বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণ। মারুফা আক্তার দ্রুতই সাজঘরে ফেরান অধিনায়ক ঈশা ওজাকে। চার ওভারে মাত্র ৯ রান দিয়ে দুটি উইকেট নিয়ে নিজের স্পেল শেষ করেন মারুফা।
মারুফার সঙ্গে দুর্দান্ত ছিলেন সুলতানা খাতুনও। চার ওভারে মাত্র ১০ রান খরচ করে একটি উইকেট নেন তিনি।
তবে সবচেয়ে বেশি উজ্জ্বল ছিলেন রাবেয়া খান। ১৪ রান দিয়ে তিন উইকেট তুলে নিয়ে আমিরাতের ব্যাটিং লাইনআপে বড় ধাক্কা দেন তিনি। নাহিদা আক্তার নেন দুটি উইকেট। ফাহিমা খাতুনও পান একটি উইকেট।
বাংলাদেশের বোলিংয়ের সামনে পুরো ইনিংসজুড়েই অসহায় ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত। দলের মাত্র দুজন দুই ডিজিটে স্কোর করতে পেরেছেন। সর্বোচ্চ ১৮ রান আসে হিনা হটচান্দানির ব্যাট থেকে।
শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ৬৯ রানেই থেমে যায় দলটির ইনিংস।