কারাগারের চার দেয়ালের ভেতর দিন কাটছে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও ক্রিকেট কিংবদন্তি ইমরান খানের। বাইরে তার মুক্তির দাবিতে চলছে লড়াই। তবে তার জীবন নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগও। এবার সরাসরি আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন ইমরানের বোন আলিমা খান। তার দাবি, কারাগারেই ইমরানকে হত্যা করা হতে পারে।
মঙ্গলবার ‘এ কারেন্ট অ্যাফেয়ার’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আলিমা বলেন, ইমরানের জীবন এখন গুরুতর ঝুঁকিতে। তাকে রক্ষায় যতটা সম্ভব সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘তারা তাকে কারাগারেই হত্যা করবে।’
দুর্নীতি ও গোপন তথ্য ফাঁসের অভিযোগসহ ১০০টির বেশি মামলায় অভিযুক্ত হয়েছেন ইমরান। ২০২২ সালে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। তবে সব অভিযোগই অস্বীকার করে আসছেন ৭৩ বছর বয়সী সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।
ইমরানের সমর্থকদের দাবি, গত তিন বছর ধরে তাকে একটি ছোট কক্ষে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবাও দেওয়া হচ্ছে না।
গত বছরের অক্টোবরে ইমরানের সঙ্গে দেখা করেছিলেন তার বোন। সে সময় ইমরান তাকে বলেছিলেন, ‘আমি কখনো কোনো ফেরাউন বা স্বৈরাচারের কাছে মাথা নত করবো না। এর চেয়ে কারাগারেই মারা যাবো, কিন্তু সেটা করবো না।’
ভাইয়ের পক্ষে প্রকাশ্যে কথা বলায় নিজের জীবন নিয়েও শঙ্কায় আছেন আলিমা। তার আশঙ্কা, তাকেও হত্যা করা হতে পারে অথবা কারাগারে পাঠানো হতে পারে।
ইমরানের কারাকক্ষের পরিবেশ নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছেন তিনি। আলিমা বলেন, ‘তার কক্ষের তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে, তবু সে কখনো অভিযোগ করেনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘তারা তার পরিবারের সদস্যদের, সন্তানদের, বৈঠক এবং আইনজীবীদের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে।’
দীর্ঘ সময় একাকী বন্দিত্বের কারণে ইমরানের উচ্চ রক্তচাপ দেখা দিয়েছে বলেও দাবি করেছেন তার বোন। আলিমা বলেন, ‘একাকী বন্দিত্বের কারণে তার উচ্চ রক্তচাপ দেখা দিয়েছে।’
চিকিৎসা নিয়ে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘দুই সপ্তাহ ধরে তারা কোনো চিকিৎসককে তার কাছে গিয়ে দেখার অনুমতি দেয়নি… এই বিলম্বের কারণে তার চোখে স্থায়ী ক্ষতি হয়েছে। বিষয়টি এমন নয় যে সে অসুস্থ হয়ে পড়ছে, বরং তার সঙ্গে এমন কিছু করা হচ্ছে, যার কারণে তার এই অবস্থা হয়েছে।’
ইমরানকে কারাগারে আটকে রাখলেই তিনি মানুষের কাছ থেকে হারিয়ে যাবেন, এমন ধারণাও নাকচ করে দিয়েছেন তাঁর বোন।
তিনি বলেন, ‘তারা ভেবেছিল, তাকে কারাগারে ঢুকিয়ে দিলে সে চিরতরে হারিয়ে যাবে। কিন্তু সে হারিয়ে যাবে না, কারণ সে জনগণের কণ্ঠস্বর।’








