বিসিবির সভায় ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি বাড়লো, এলো আরও যেসব সিদ্ধান্ত

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদের চতুর্থ সভায় ঘরোয়া ক্রিকেট, ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি এবং অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত হয়েছে। ঢাকার শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে (এসবিএনসিএস) নতুন সুযোগ-সুবিধা তৈরির পাশাপাশি ঘরোয়া ক্রিকেটে অংশ নেওয়া খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফি বাড়ানোর অনুমোদন দিয়েছে বোর্ড। একই সঙ্গে ঘরোয়া ক্রিকেটের কাঠামো ঢেলে সাজানোর বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

পর্ষদ শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ন্যাশনাল ক্রিকেট একাডেমি (এনসিএ) মাঠে আন্তর্জাতিক মানের, আইএএএফ-অনুমোদিত অ্যাথলেটিক রানিং ট্র্যাক স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে। ক্রিকেটারদের অনুশীলন, ফিটনেস কার্যক্রমসহ অন্যান্য খেলাধুলার প্রয়োজন মেটাতে সেখানে তিন লেনের একটি বিশেষায়িত রানিং ট্র্যাক তৈরি করা হবে।

এছাড়া শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের দুটি বিকল্প ড্রেসিংরুম, খেলোয়াড়দের প্রবেশপথ এবং সাধারণ লবি এলাকার আধুনিকায়ন কাজেরও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

মিরপুরের এই স্টেডিয়ামে আরও দুটি নতুন ড্রেসিংরুম নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি। ঘরোয়া টুর্নামেন্ট, অনুশীলন ম্যাচ এবং অন্যান্য ক্রিকেট কার্যক্রম পরিচালনায় নতুন ড্রেসিংরুমগুলো ব্যবহার করা হবে। এর ফলে প্যাভিলিয়ন ভবনের বিদ্যমান ড্রেসিংরুমগুলো মূলত আন্তর্জাতিক ম্যাচের জন্য নির্ধারিত রাখা সম্ভব হবে।

বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামের সংস্কার ও উন্নয়ন নিয়েও সিদ্ধান্ত হয়েছে সভায়। প্রস্তাবিত সংস্কার ও উন্নয়নকাজের জন্য স্থাপত্য, প্রকৌশল ও প্রকল্প-প্রস্তুতিমূলক পরামর্শক সেবা দিতে একজন পরামর্শক নিয়োগের অনুমোদন দিয়েছে পর্ষদ।

ঘরোয়া ক্রিকেটে অংশ নেওয়া খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফিও বাড়ানো হয়েছে। ওয়ার্কিং কমিটির প্রস্তাব অনুযায়ী নতুন ম্যাচ ফি অনুমোদন করেছে বিসিবির পরিচালনা পর্ষদ।

পুরুষদের চার দিনের ক্রিকেটে ম্যাচ প্রতি ম্যাচ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এক দিনের ক্রিকেটে ১ লাখ টাকা এবং টি-টোয়েন্টিতে ৮০ হাজার টাকা পাবেন খেলোয়াড়েরা। জাতীয় ক্রিকেট লিগের দ্বিতীয় একাদশের ম্যাচ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫ হাজার টাকা।

নারীদের ঘরোয়া ক্রিকেটেও বাড়ানো হয়েছে ম্যাচ ফি। তিন দিনের ক্রিকেটে ম্যাচ প্রতি ৪০ হাজার টাকা, এক দিনের ক্রিকেটে ৩০ হাজার টাকা এবং টি-টোয়েন্টিতে ২০ হাজার টাকা ম্যাচ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের খেলোয়াড়দের দৈনিক ভাতা দ্বিগুণ করার অনুমোদন দিয়েছে পর্ষদ। এত দিন দৈনিক ১০ হাজার টাকা করে ভাতা পেলেও এখন থেকে তারা পাবেন ২০ হাজার টাকা।

ঘরোয়া ক্রিকেটের কাঠামোতেও বড় পরিবর্তনের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে সভায়। একটি একক প্রতিযোগিতামূলক কাঠামোর অধীনে ফার্স্ট ক্লাস বা চার দিনের ক্রিকেট, লিস্ট ‘এ’ ওয়ানডে এবং লিস্ট ‘এ’ টি-টোয়েন্টি-তিন ফরম্যাটকে নিয়ে ছয় দলের ঘরোয়া প্রতিযোগিতা পদ্ধতি চালুর বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে বিসিবি।

প্রস্তাবিত কাঠামোর অধীনে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠিত ও স্বনামধন্য করপোরেট এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে প্রাথমিকভাবে তিন বছরের জন্য দলগুলোর স্বত্ব বিক্রি বা অফার করা হবে। অর্থাৎ ঘরোয়া ক্রিকেটে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পৃক্ততা বাড়ানোর মাধ্যমে নতুন কাঠামো চালুর পরিকল্পনা করছে বিসিবি।

নতুন এই কাঠামোর অধীনে প্রথম ইভেন্ট হিসেবে টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতা আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সম্ভাব্য সময়সূচি অনুযায়ী, নতুন কাঠামোর প্রথম টি-টোয়েন্টি আসর হতে পারে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে।