বিতর্কে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া চেয়ারম্যানের পদত্যাগ, দায়িত্বে ডেভিড বুন 

বিগ ব্যাশে বেসরকারি বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত ঘিরে বিতর্ক যখন তুঙ্গে, তখনই ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলেন মাইক বেয়ার্ড। সোমবার পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। 

মেলবোর্ন রেনেগেডসের মালিকানা বিক্রির উদ্যোগে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া এগিয়ে যাওয়ার পরই তার বিরুদ্ধে সমালোচনা ও বিরোধিতা আরও তীব্র হয়। সংকটে থাকা মেলবোর্ন রেনেগেডস ফ্র্যাঞ্চাইজি বিক্রির প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার পর বেয়ার্ডের প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করে নেয় ক্রিকেট নিউ সাউথ ওয়েলস।

এক বিবৃতিতে বেয়ার্ড বলেন, ‘অনেক ভেবেচিন্তে আমি ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার চেয়ারম্যান ও পরিচালক পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি বিশ্বাস করি, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার বোর্ড অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটকে ভালোভাবেই নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছে।’

আগামী অক্টোবরের শেষ দিকে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার বার্ষিক সাধারণ সভার পর আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব ছাড়বেন বেয়ার্ড।

তার অন্তর্বর্তীকালীন উত্তরসূরি হিসেবে সাবেক টেস্ট ওপেনার ডেভিড বুনকে নিয়োগ দিয়েছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। ঘন গোঁফের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত বুন অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট অঙ্গনে অনেকটা ‘কাল্ট ফিগার’ হিসেবেই পরিচিত।

খেলোয়াড়ি জীবন শেষ করার পর অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় দলের নির্বাচক এবং রাজ্য ক্রিকেট প্রশাসক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন বুন।

অন্তর্বর্তীকালীন চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পাওয়ার পর বুন বলেন, ‘ক্রিকেটের জন্য অত্যন্ত রোমাঞ্চকর এবং একই সঙ্গে চ্যালেঞ্জিং সময়ে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেওয়া আমার জন্য বিশাল সম্মানের।’

ক্রিকেটের আর্থিক ভবিষ্যৎ আরও শক্তিশালী করতে ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতা বিগ ব্যাশ লিগে (বিবিএল) বেসরকারি বিনিয়োগ আনার চেষ্টা করছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। তবে প্রতিযোগিতাটির বেসরকারিকরণ নিয়ে শুরু থেকেই তীব্র বিতর্ক রয়েছে।

বিবিএলের আটটি দলের অংশীদারিত্ব বিক্রির প্রাথমিক একটি প্রস্তাব চলতি বছরের শুরুতেই থমকে যায়। স্থানীয় ক্রিকেট কর্তাদের হাতে নিয়ন্ত্রণ কমে যাওয়ার আশঙ্কাই এর পেছনে বড় কারণ হিসেবে দেখা হয়।

ভিক্টোরিয়া, ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া ও তাসমানিয়া ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন এই উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিল। সাউথ অস্ট্রেলিয়াও জানিয়েছিল, তারা বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য উন্মুক্ত। তবে নিউ সাউথ ওয়েলস ও কুইন্সল্যান্ড সরাসরি এই উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান করে।