এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের ক্রিকেটে হতাশার এক অধ্যায় শেষ হয়েছে। প্রথমবারের মতো এশিয়ান গেমসের ক্রিকেটে কোনো পদক ছাড়াই ফিরছে বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কার কাছে ৬৩ রানে হেরে ব্রোঞ্জও হাতছাড়া হয়েছে। তবে এই ব্যর্থতার পরও অধিনায়কত্ব ছাড়ার কথা ভাবছেন না লিটন দাস।
শনিবার ম্যাচ শেষে লিটন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এমন পরিস্থিতিতে তার অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনো কারণ দেখছেন না তিনি।
শনিবার ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচে শ্রীলঙ্কার কাছে ৬৩ রানে হারের আগে লঙ্কানদের ২১ রানে ৪ উইকেট তুলে চাপে ফেলেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু থারিন্দু রত্নায়েকের আক্রমণাত্মক ৬৫ রানের ইনিংস ম্যাচের গতিপথ পুরোপুরি বদলে দেয়।
বাংলাদেশ নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারেনি বলে স্বীকার করেছেন লিটন। একই সঙ্গে রত্নায়েকের প্রশংসাও করেছেন তিনি। ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের লিটন বলেন, ‘আমার মনে হয়, প্রথম ৮ ওভারে আমরা খুব ভালো বোলিং করেছি। এরপর আপনারা দেখেছেন, এই উইকেটে রত্নায়েকে যেভাবে এসে শট খেলেছে, সেটা সামলানো খুব কঠিন ছিল।’
এশিয়ান গেমসে দুটি ম্যাচ খেলে লিটনের ব্যাট থেকে এসেছে মাত্র ২ ও ০ রান। নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে লিটন বলেন, ‘আমার পারফরম্যান্স মানসম্মত ছিল না। দুই ম্যাচেই আমি ভালো করতে পারিনি।’
তার পর অধিনায়কত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই তিনি বলেন, ‘আমি পদত্যাগ করতে চাই না। ক্রিকেটে উত্থান-পতন থাকবেই। কোনো দিন ভালো যাবে, কোনো দিন খারাপ যাবে। এখানে পদত্যাগ করার কোনো মানে নেই। আমি বড় একটা লক্ষ্য নিয়ে এসেছিলাম। যখন সেটা দিতে পারি না…তখন সবারই খারাপ লাগবে, এটাই স্বাভাবিক।’
তিনি আরও বলেন, ‘তবে দল হিসেবে আমরা অতীতে অনেক কিছু দিয়েছি। ভবিষ্যতেও দেবো বলে আমি মনে করি। আমরা আবারও সেটার চেষ্টা করব।’
এদিকে এশিয়ান গেমস চলাকালে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে টিম হোটেলের বাইরে যাওয়ায় বাংলাদেশ দলের কয়েকজন খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার খবরও সামনে এসেছে। শ্রীলঙ্কার কাছে হারের পর বিষয়টি আলোচনায় আসে। তবে খেলোয়াড়েরা কেন হোটেলের বাইরে গিয়েছিলেন, তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন লিটন। একই সঙ্গে এশিয়ান গেমসে দলের জন্য থাকার সুযোগ-সুবিধা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।
লিটন বলেন, ‘অনুশীলন করা প্রয়োজন। সেখানে কি সেই সুবিধা আছে? নেই। তাহলে একজন খেলোয়াড় কি সারাদিন একটা কক্ষে বন্দি থাকবে?’
তিনি আরও বলেন, ‘তাদের শক্তি দরকার। আপনি যদি মনে করেন, এখানে ফেডারেশন যে খাবার দিচ্ছে বা এশিয়ান গেমস কর্তৃপক্ষ যে খাবার দিচ্ছে, সেটা আমাদের জন্য উপযুক্ত নয়, তাহলে কি একজন খেলোয়াড় না খেয়ে থাকবে? তাই খেতে হলে তাদের বাইরে যেতে হবে। খেলোয়াড়েরা সেটাই করেছে।’