চার বছর পর কেন আবার ভারতীয় দলে ভুবনেশ্বর?

চার বছর পর আবারও ভারতীয় টি-টোয়েন্টি দলে ভুবনেশ্বর কুমার। ৩৬ বছর বয়সী এই পেসারের প্রত্যাবর্তন অনেকের কাছেই বিস্ময়ের। তবে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বলছে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এখনও দেওয়ার মতো অনেক কিছুই আছে অভিজ্ঞ এই পেসারের। বিশেষ করে আইপিএলে টানা দুই মৌসুমের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সই তাকে আবারও জাতীয় দলের দরজা খুলে দিয়েছে।

মূলত রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে আইপিএলের দুই মৌসুমে অসাধারণ পারফরম্যান্সের পুরস্কার পেয়েছেন ভুবনেশ্বর। তার ধারাবাহিকতা ও নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে টানা দুইবার শিরোপা জিতেছে আরসিবি। মঙ্গলবার নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের জন্য ভারতের ১৬ সদস্যের দল ঘোষণা করা হয়। সেখানে জায়গা পেয়েছেন এই অভিজ্ঞ পেসার। সিরিজ শুরু হবে ২২ অক্টোবর ক্রাইস্টচার্চে।

ভারতের হয়ে সর্বশেষ ২০২২ সালের নভেম্বরে টি-টোয়েন্টি খেলেছিলেন ভুবনেশ্বর। এরপর আইপিএলে ৭২ উইকেট নিয়েছেন তিনি। এই সময়ে যা যেকোনও বোলারের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর মধ্যে আরসিবির দুই শিরোপা জয়ের অভিযানে তার শিকার ৪৫ উইকেট। ২০২৬ সালের আইপিএলে ২৮ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি তার ইকোনমি রেট ছিল ৭.৯৫। 

তবে একটা সময় ভুবনেশ্বর নিজেও ভারতের হয়ে আর খেলার সম্ভাবনা নিয়ে ভাবা ছেড়ে দিয়েছিলেন। আইপিএল চলাকালে আরসিবির প্রকাশ করা এক ভিডিওতে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি ভারতের হয়ে ফেরার কথা ভাবছি না। অনেক বছর ধরে আমি দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য ঠিক করা বা সে অনুযায়ী পরিকল্পনা করা বন্ধ করে দিয়েছি। কারণ যখনই এমনটা করেছি, সেটা আমার জন্য কাজ করেনি।’

কিন্তু নির্বাচকরা তাকে আরও একটি সুযোগ দিয়েছেন। ভারতের বোলিং বিভাগেও এখন কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। চাপ সামলানোর অংশ হিসেবে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে জসপ্রীত বুমরাহকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। ফলে ভুবনেশ্বরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগ দেখেছেন নির্বাচকরা।

বিশেষ করে পাওয়ারপ্লেতে ভুবনেশ্বরের অভিজ্ঞতা ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। নতুন বলে সুইং করানো এবং আঁটসাঁট লাইন-লেন্থে ধারাবাহিকভাবে বল করার দক্ষতাই দীর্ঘদিন ধরে তার সবচেয়ে বড় শক্তি। নিউজিল্যান্ড সফরে ভারতকে পাঁচটি ওয়ানডে ও দুটি টেস্টও খেলতে হবে। ফলে দলের মূল পেসারদের কাজের চাপ সামলানোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

ভুবনেশ্বরের এই নির্বাচন ওয়ানডে দলে ফেরার সম্ভাবনার দরজাও খুলে দিতে পারে। সামনে ওয়ানডে বিশ্বকাপ। বুমরাহকে বাদ দিলে সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের বোলিংয়ে কিছুটা দুর্বলতা চোখে পড়েছে। নির্ভরযোগ্য বিকল্পের প্রয়োজনীয়তাও তাই স্পষ্ট হয়েছে।

সম্প্রতি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতেছে ভারত। তবে তিন ম্যাচে মোট ১ হাজার ৩৮ রান দিয়েছে ভারতীয় বোলাররা। নিউ চণ্ডীগড়ে সিরিজের শেষ ওয়ানডেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩৫২ রান তাড়া করে জয় পায়, যা এই সংস্করণে তাদের সর্বোচ্চ সফল রান তাড়ার নজির।

২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত ১২টি ওয়ানডেতে ভারতের বোলারদের গড় ৪১.৮৬। পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে যা তৃতীয় সর্বনিম্ন। বিপরীতে ব্যাটারদের গড় ৫০.২৮- এ বছর সব দলের মধ্যে যা সর্বোচ্চ।

ফলে ভুবনেশ্বর এই সমস্যার একটি সমাধান হতে পারেন। তবে ৫০ ওভারের ক্রিকেটে তিনি কতটা প্রস্তুত, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিজেকে মূলত টি-টোয়েন্টিতেই সীমাবদ্ধ রেখেছেন তিনি। সর্বশেষ ২০২৩ সালে বিজয় হাজারে ট্রফিতে খেলেছিলেন।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পারফরম্যান্স তাই তার বর্তমান ফর্ম ও ফিটনেস যাচাইয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাও হতে পারে।

নিজের ইউটিউব চ্যানেলে জতিন সাপ্রুর সঙ্গে কথা বলার সময় ভুবনেশ্বর জানান, ২০২২ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর নির্বাচকরা তাকে বলেছিলেন, ভারত যখন তরুণদের নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে, তখনও তিনি তাদের পরিকল্পনায় ছিলেন। কিন্তু এরপরও যখন প্রত্যাবর্তনের সুযোগ আসেনি, একসময় তিনিও বিষয়টি থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন।

এখন আবার এসেছে নতুন সুযোগ। আরেকটি বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি অভিজ্ঞ এই পেসার। জতিন সাপ্রুকে তিনি বলেছেন, ‘১০০ শতাংশ। যে খেলাই হোক না কেন, বিশ্বকাপে খেলার অনুভূতিকে হারানো যায় না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার শরীর প্রস্তুত। বাড়িতেই আমার ফিজিও ও ট্রেনার আছেন। এই মুহূর্তে আমি প্রস্তুত। অনুশীলন করছি, তবে ৫০ ওভারের বিশ্বকাপকে মাথায় রেখে নয়, বরং নিজের ইচ্ছাতেই করছি। যদি নির্বাচিত হই, আমি খুশি হব। যদি নির্বাচিত না হই, তাতেও হতাশ হব না।’

ভারতীয় দল: শ্রেয়াস আইয়ার (অধিনায়ক), অভিষেক শর্মা, সাঞ্জু স্যামসন (উইকেটকিপার), বৈভব সূর্যবংশী, ঈশান কিষান (উইকেটকিপার), তিলক বর্মা (সহ-অধিনায়ক), অক্ষর প্যাটেল, শিবম দুবে, নীতীশ কুমার রেড্ডি, নমন ধীর, প্রিন্স যাদব, মায়াঙ্ক যাদব, অরশদীপ সিং, ভুবনেশ্বর কুমার, বরুণ চক্রবর্তী ও কুলদীপ যাদব।