যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে প্রথম আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, ইতিহাস গড়েছিল যে ম্যাচ

আজকের বিশ্ব ক্রিকেটে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি নিয়ে কত আলোচনা। এই খেলাটির আন্তর্জাতিক ইতিহাসে দেশটির নাম জড়িয়ে আছে সেই ১৮৪৪ সাল থেকে। প্রায় দুই শতাব্দী আগে নিউ ইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছিল ক্রিকেটের প্রথম আনুষ্ঠানিক আন্তর্জাতিক ম্যাচ। সব মিলিয়ে ম্যাচটি হয়ে আছে ক্রিকেট ইতিহাসের এক স্মরণীয় অধ্যায়।

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যকার ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল নিউ ইয়র্কের সেন্ট জর্জ ক্রিকেট ক্লাব মাঠে। দুই দিনের জন্য নির্ধারিত ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে গড়ায় তৃতীয় দিনে। শেষ পর্যন্ত ২৩ রানে জয় পায় কানাডা। তবে ম্যাচের ফল নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়েছিল।

চতুর্থ ইনিংসে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাটার জর্জ হুইটক্রফটের তিন নম্বরে ব্যাট করতে নামার কথা ছিল। আগের উইকেট পতনের পর তিনি মাঠে পৌঁছান ২০ মিনিট দেরিতে। যুক্তরাষ্ট্র দল তাকে ব্যাট করার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানালেও কানাডা তাতে রাজি হয়নি। শেষ পর্যন্ত এই সিদ্ধান্তের মধ্যেই ম্যাচের নিষ্পত্তি ঘটে।

ম্যাচে কানাডার হয়ে উজ্জ্বল ছিলেন ডেভিড উইঙ্কওয়ার্থ। দুই ইনিংস মিলিয়ে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ রান করার পাশাপাশি প্রথম ইনিংসে চারটি উইকেট নিয়েছিলেন তিনি।

পরে ক্রিকেটের প্রথম দ্বৈত আন্তর্জাতিক খেলোয়াড় হিসেবে পরিচিতি পান উইঙ্কওয়ার্থ। ১৮৪৫ সালে কানাডার হয়ে আরও দুটি ম্যাচ খেলেন তিনি, দুটিতেই জয় পায় দল। এরপর ১৮৪৬ সালে হারলেমে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে একটি ম্যাচ খেলেন উইঙ্কওয়ার্থ। সেই ম্যাচে জয়ী হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।

এরপর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে ইংল্যান্ড। ১৮৫৯ সালে প্রথমবারের মতো উত্তর আমেরিকা সফরে যায় ইংল্যান্ডের ক্রিকেট দল। সেই দলে ছিলেন তৎকালীন সময়ের পরিচিত ক্রিকেটার জর্জ পার ও জন উইজডেন। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বিভিন্ন স্থানে একাধিক প্রদর্শনী ম্যাচ খেলে দলটি। ক্রিকেটের আন্তর্জাতিক যাত্রায় এই সফর ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

খেলার বাইরেও সফরটি সাংস্কৃতিক বিনিময়ের সুযোগ তৈরি করেছিল। উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা ছিল উল্লেখযোগ্য। বিশেষ করে দেশটির গৃহযুদ্ধের সময়ও খেলাটির ব্যাপক প্রচলন ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বেসবলের জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। তুলনামূলক কম সময়ের ও দ্রুতগতির খেলা বেসবল ধীরে ধীরে ক্রিকেটকে ছাড়িয়ে যায়। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা কমতে শুরু করে।

ব্রিটিশ উপনিবেশবাদীদের হাত ধরেই যুক্তরাষ্ট্রে ক্রিকেটের আগমন। ১৭০৯ সালে দেশটিতে খেলাটির প্রথম উল্লেখযোগ্য ইতিহাস পাওয়া যায়। দীর্ঘ বিরতির পর বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে আবারও ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা বাড়তে শুরু করে। ক্রিকেট খেলুড়ে দেশগুলো থেকে অভিবাসীদের আগমন এই পুনর্জাগরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

১৯৬৫ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সহযোগী সদস্য হয় যুক্তরাষ্ট্র। এরপর ধীরে ধীরে দেশটিতে ক্রিকেটের পরিসর বাড়তে থাকে।