ক্রিকেট আবিষ্কারের কৃতিত্ব ইংল্যান্ডের হলেও ক্রিকেটে চা-বিরতি চালুর কৃতিত্ব কিন্তু তাদের নয়। ইংল্যান্ডে শুরুর দিকের টেস্ট ম্যাচগুলোতে চা-বিরতির কোনও নিয়ম ছিল না। বরং ১৮৮১-৮২ সালের সিরিজে অস্ট্রেলিয়াই প্রথম চা বিরতির প্রচলন করে।
১৮৯৯ সালে অস্ট্রেলিয়া যখন ইংল্যান্ড সফরে যায়, তখন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক জো ডার্লিং চা-বিরতির প্রস্তাব দিয়েছিলেন বলে জানা যায়। ইংল্যান্ড তার ইচ্ছাকে সম্মান জানিয়েছিল, তবে একটু ভিন্নভাবে। খেলা থামানো হলেও ক্রিকেটাররা মাঠ ছাড়তেন না। মাঠেই খেলোয়াড়দের জন্য চা ও অন্যান্য খাবার নিয়ে আসা হতো।
১৯০২ সালের অ্যাশেজেও এই ব্যবস্থা চালু ছিল। এরপর ১৯০৫ সালে প্রথমবারের মতো খেলোয়াড়রা আনুষ্ঠানিকভাবে চা খেতে প্যাভিলিয়নে যান। অবশ্য এরপরও কয়েক বছর মাঠেই চা খাওয়ার ঐতিহ্য চালু ছিল। সেই সময়ের বিভিন্ন ছবিতেও মাঠে বসে চা খাওয়ার এই রীতির প্রমাণ পাওয়া যায়।
তবে দিনের খেলায় চা পানের ঐতিহ্য কীভাবে শুরু হয়েছিল, তা নিয়ে আরেকটি মতও রয়েছে। টেস্ট খেলুড়ে দেশ না হলেও স্কটল্যান্ডের ক্রিকেট ইতিহাস বেশ সমৃদ্ধ। ধারণা করা হয়, উনিশ শতকের শেষ দিকে স্কটিশ ক্রিকেটে চা পানের প্রচলন শুরু হয়।
১৮৯২ সালের মে মাসে গ্লাসগোর টিটউডে নর্থাম্বারল্যান্ড ও গ্লাসগো অ্যান্ড ডিস্ট্রিক্টের একটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। বৃষ্টির কারণে ড্র হওয়া সেই ম্যাচের বর্ণনায় চা-বিরতির উল্লেখ পাওয়া যায়। ম্যাচের দিনগুলোতে মধ্যাহ্নভোজের পর থেকে দিনের খেলা শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত একটি ছোট বিরতিতে ক্রিকেটাররা এক কাপ চা পান করতেন। ধারণা করা হয়, সেখান থেকেই এই ঐতিহ্যের শুরু।
সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে টেস্ট ও প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে চা-বিরতি স্থায়ী একটি রীতিতে পরিণত হয়। তবে অবাক করার মতো বিষয় হলো, ওয়ানডে ক্রিকেটেও একসময় চা-বিরতি নেওয়া হতো।
ইংল্যান্ডে ৬০ ওভারের ওয়ানডে ম্যাচগুলোতে, প্রথম তিনটি বিশ্বকাপও যার অন্তর্ভুক্ত, তখন চা-বিরতি নেওয়ার প্রচলন ছিল। প্রথম ইনিংসের সময় নেওয়া হতো মধ্যাহ্নভোজের বিরতি, আর দ্বিতীয় ইনিংসে থাকতো চা-বিরতি।
বর্তমান ওয়ানডেতে অবশ্য সেই সূচি আর অনুসরণ করা হয় না। এখন সাধারণত দুই ইনিংসের মাঝখানে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ মিনিটের একটি দীর্ঘ বিরতি রাখা হয়, যেখানে খাবার খাওয়ার সুযোগ থাকে। চা, নাশতা ও পানীয় নিয়ে ঐতিহ্যবাহী চা-বিরতি এখন মূলত বহু দিনের টেস্ট ক্রিকেটেরই অংশ।
সময় বদলেছে, বদলেছে ‘চা’-ও। এখন চা-বিরতিতে শুধু চা পরিবেশন করা হয় না। আয়োজকরা মেনুতে নানা ধরনের খাবার যোগ করছেন, এমনকি খাবারের প্রস্তুতির দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে তারকা শেফদেরও।
টেস্ট ম্যাচের বিরতিতে ক্রিকেটাররা আসলে কী খান, তা নিয়ে অনেক জল্পনা রয়েছে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ভারতের ইংল্যান্ড সফরের সময় ইংল্যান্ডের ব্যাটার অলি পোপ দুই বিরতিতে কী খান, তা জানিয়েছিলেন।
চা নিয়ে পোপ বলেছিলেন, ‘কেউ কেউ চা পছন্দ করেন। আমি সাধারণত স্যান্ডউইচের সঙ্গে কফি খাই।’