জিম্বাবুয়ের কাছে বড় হারের ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়ানোর অপেক্ষায় বাংলাদেশ। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় সিরিজের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে দলের জন্য স্বস্তির খবর হতে পারেন মেহেদী হাসান। জ্বরে আক্রান্ত হয়ে প্রথম ম্যাচে খেলতে না পারা এই অলরাউন্ডারকে আগামী ২১ অক্টোবরের ম্যাচে পাওয়ার আশা করছেন প্রধান কোচ ফিল সিমন্স।
শারজায় চলমান ত্রিদেশীয় সিরিজে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ৯৯ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। ওই ম্যাচে জ্বরের কারণে খেলতে পারেননি মেহেদী। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেও ধাক্কা খেয়েছে দল। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচের আগে ফিটনেস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারায় ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজ থেকে ছিটকে যান নিয়মিত অধিনায়ক লিটন দাস।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের পর প্রথমবারের মতো হোটেলকক্ষ থেকে বের হয়ে সোমবার আবুধাবিতে অনুশীলনে যোগ দেন মেহেদী। তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হওয়ায় স্বস্তি পেয়েছেন সিমন্স।
বাংলাদেশ কোচ বলেছেন, ‘ওকে দেখে ভালো লাগছে। গত কয়েক দিন সে বিছানায় শুয়ে অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করেছে।’
তবে মেহেদী এখনও পুরোপুরি সুস্থ নন। সিমন্সের আশা, আরও এক-দুদিন বিশ্রাম পেলে পরের ম্যাচের জন্য প্রস্তুত হয়ে উঠবেন এই অলরাউন্ডার। তিনি বলেন, ‘সে এখনও পুরোপুরি সুস্থ নয়। তবে আশা করছি আরও কিছুটা বিশ্রাম নিতে পারবে এবং পরের ম্যাচের জন্য প্রস্তুত হবে।’
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ভালো শুরু পেয়েও ব্যাটিংয়ে ধস নামার কারণ হিসেবে পরিস্থিতি বুঝতে না পারাকেই দায়ী করেছেন সিমন্স। তার মতে, শুরুটা কাজে লাগিয়ে পুরো ৫০ ওভার ব্যাট করতে পারলে ম্যাচের ফল ভিন্ন হতে পারতো।
বাংলাদেশ কোচ বলেছেন, ‘ব্যাটিংয়ের সময় আমরা পরিস্থিতিটা ঠিকভাবে বুঝতে পারিনি। ওই রকম ভালো শুরুর পর আমাদের শুধু নিশ্চিত করতে হতো, যেন পুরো ৫০ ওভার ব্যাট করতে পারি। তাহলেই আমরা ম্যাচটি জিততাম।’
জিম্বাবুয়ের কাছে হারের কয়েক ঘণ্টা পরই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবাল ড্রেসিংরুমে খেলোয়াড় ও টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন। রাত পর্যন্ত চলা সেই বৈঠকে দলের পারফরম্যান্স ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়।
বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, দলের অগ্রগতি নিয়ে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে কড়া ভাষায় নিজের অবস্থান জানিয়েছেন তামিম ইকবাল। তবে সভাপতির বার্তাকে অন্যভাবে ব্যাখ্যা করেছেন সিমন্স। তার মতে, দেশের প্রতিনিধিত্ব করার দায়িত্ব মনে করিয়ে দিয়ে খেলোয়াড়দের কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তামিম।
সিমন্স বলেন, ‘এখানে মূল বার্তা ছিল কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে যেতে হবে এবং বুঝতে হবে, আমরা বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছি। আমরা কোটি কোটি মানুষের প্রতিনিধিত্ব করছি, আর সবাই আমাদের সফল দেখতে চায়। আমার মনে হয় এটাই ছিল তার মূল বার্তা।’