শেষ দিকে জয়ের আশা যখন ফিকে হয়ে আসছিল, তখনই ব্যাট হাতে ঝড় তুললেন রুবাই ইসলাম রিজন। মাত্র ১৯ বলে অপরাজিত ৩৩ রানের ইনিংসে ম্যাচে রোমাঞ্চ ফিরিয়েছিলেন তিনি। এর আগে বল হাতে নিয়েছিলেন চার উইকেটও। তবে রিজনের অলরাউন্ড নৈপুণ্য সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত আফগানিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় যুব ওয়ানডেতে টাই নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে বাংলাদেশকে।
সোমবার ওমানের আল আমিরাত স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করে ৯ উইকেটে ৩০৪ রানের বড় সংগ্রহ গড়ে আফগানিস্তান। জবাবে বাংলাদেশের জয়ের পথটা সহজ করে দিয়েছিলেন মিডল অর্ডারের ব্যাটাররা। কিন্তু শেষ দিকে দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে দল। রিজনের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে শেষ মুহূর্তে ম্যাচ জমে উঠলেও জয় তুলে নেওয়া সম্ভব হয়নি।
উদ্বোধনী জুটিতে জারিফ সিয়াম ও আবদুল্লাহ আল মুহি ৭০ রান যোগ করে বাংলাদেশকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন। ২২ রান করে জারিফ ফিরলেও দারুণ ছন্দে ব্যাটিং চালিয়ে যান মুহি। ৯টি চারে ৪৫ বলে ৫০ রান করে আউট হন তিনি।
তৃতীয় উইকেটে আল আমিন হোসেন রনি ও আহসান আল মুমিনের ৭৯ রানের জুটি বাংলাদেশকে পথে রাখে। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে আফগান বোলারদের চাপে ফেলেছিলেন রনি। ৫৬ বলে আটটি চার ও দুটি ছক্কায় ৭১ রান করেন তিনি। আমির হামজা এই বিপজ্জনক জুটি ভাঙার পরপর সাজঘরে ফেরেন মুমিনও। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে অর্ধশতক তুলে নিয়ে তার সংগ্রহ ছিল ৫৬ রান।
এরপর নূর আলীর বোলিংয়ে বাংলাদেশের ইনিংসে ধস নামে। মাত্র ২৬ রানের মধ্যে তিন উইকেট হারিয়ে জয়ের আশা থেকে ক্রমেই দূরে সরে যেতে থাকে দল। এমন পরিস্থিতিতে রিজন পাল্টা আক্রমণে ম্যাচে নতুন প্রাণ ফেরান। ১৯ বলে অপরাজিত ৩৩ রানের ইনিংস খেললেও দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিতে পারেননি তিনি।
এর আগে বল হাতেও বাংলাদেশের হয়ে উজ্জ্বল ছিলেন রিজন। ৭২ রান দিয়ে চার উইকেট নেন তিনি। জারিফ সিয়ামের শিকার দুটি উইকেট।
তবে রিজনের বোলিংয়ের পরও বড় সংগ্রহ পায় আফগানিস্তান। নোমান সালারজাইয়ের ৭১ ও ওপেনার ফরিদুল্লাহ ইহসাসের ৫১ রানের ইনিংসে তিনশ পেরিয়ে যায় তাদের স্কোর। তাহির সারওয়ারি করেন ৪৩ রান।
দুই দলের তৃতীয় ম্যাচটি বুধবার একই মাঠে অনুষ্ঠিত হবে।