বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের এমন হাল কেন, জানালেন হৃদয়

বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের ওয়ানডে ব্যর্থতা যেন কাটছেই না। একের পর এক হার, ব্যাটিংয়ে ধস। ঘুরে দাঁড়ানোর পথ কোথায়? ত্রিদেশীয় সিরিজে আফগানিস্তানের কাছে ৭ উইকেটে হেরে বিদায়ের পর সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে নিজেদের সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করলেন বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত ওয়ানডে অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়। তার স্বীকারোক্তি, কথার সঙ্গে কাজের মিল ঘটাতে পারছে না দল।

বুধবার (২১ অক্টোবর) আফগানিস্তানের কাছে হারের পর সাংবাদিকদের হৃদয় বলেছেন, ‘সত্যি বলতে, আমরা কথাগুলো কাজে পরিণত করতে পারছি না।’

বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রেকর্ডও সেই ব্যর্থতার সাক্ষ্য দিচ্ছে। গত দুই বছরে দেশের বাইরে ১৬টি ওয়ানডে খেলেছে বাংলাদেশ, জয় মাত্র দুটিতে। বাকি ম্যাচগুলোতে হারতে হয়েছে। এর মধ্যে আফগানিস্তানের কাছে টানা পাঁচ ওয়ানডেতে পরাজয়ও রয়েছে। চলমান ত্রিদেশীয় সিরিজে সর্বশেষ হারটি বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকেই ছিটকে দিয়েছে। অন্যদিকে, ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আফগানিস্তান, তাদের সঙ্গী জিম্বাবুয়ে।

বিদেশের কন্ডিশনের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে হৃদয় বলেছেন, ‘আমি অবশ্যই একমত যে দেশের বাইরে আমরা ভালো করছি না। প্রায় দেড় বছর ধরে এমনটা চলছে। বাইরের কন্ডিশনের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে ম্যাচ ও পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলতে হবে। শুধু মুখে বললে হবে না, সেটা মাঠেও করে দেখাতে হবে।’

তবে সাম্প্রতিক ব্যর্থতার কারণে পুরো দলকে বিচার করতে রাজি নন এই ব্যাটার। ঘরের মাঠে বড় দলগুলোর বিপক্ষে বাংলাদেশের সাফল্যের কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি। হৃদয়ের ভাষায়, ‘এই একই দল বড় দলগুলোকে হারিয়েছে। দেশের মাটিতে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও পাকিস্তানকে হারিয়েছি আমরা। এক, দুটি ম্যাচ বা সিরিজের ভিত্তিতে পুরো দলকে বিচার করতে চাই না। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বাইরে খেলা ম্যাচগুলোতে আমাদের ব্যাটিং ইউনিট ধারাবাহিকভাবে খুব খারাপ করেছে। সে কারণেই পুরো দলকে ভুগতে হচ্ছে।’

ঘরের মাঠে ব্যাটাররা প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই ভালো করেছেন বলে মনে করেন হৃদয়। তার মতে, দেশের বাইরে খেলতে গেলে কিছু জায়গায় আরও উন্নতি করতে হবে। বিশেষ করে মানসিকতা ও ম্যাচের পরিস্থিতি বোঝার ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়েছে, যার মূল্য দিতে হচ্ছে দলকে।

হৃদয় বলেন, ‘সমস্যাটা অবশ্যই মানসিকতার। এই জায়গায় আমাদের আরও উন্নতির সুযোগ আছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে রক্ষণাত্মক মানসিকতা নিয়ে সাফল্য পাওয়া খুব কঠিন। পুরো দল, বিশেষ করে ব্যাটিং ইউনিট যখন একসঙ্গে ধসে পড়ে এবং সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়াতে পারে না, তখন আমাদের আরও ভালো পরিকল্পনা করতে হবে।’

ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে খেলার ওপরও জোর দিয়েছেন তিনি। শুরুতেই কিংবা মাঝপথে দ্রুত কয়েকটি উইকেট পড়ে গেলে কীভাবে ইনিংস সামলাতে হবে, সেটি নিয়ে আরও কাজ করা প্রয়োজন বলে মনে করেন হৃদয়। তার মতে, ‘ম্যাচের পরিস্থিতি বোঝার জায়গায় আমাদের কাজ করতে হবে। কখনও দ্রুত উইকেট পড়ে যায়, কখনও বেশির ভাগ উইকেট হারিয়ে ফেলি। তখন ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা জরুরি। কিন্তু আমরা যখন ধসে পড়ি, সবাই একসঙ্গেই ধসে পড়ি। এই জায়গায় একজন কিংবা দুজন খেলোয়াড়ের দায়িত্ব নিয়ে দলকে খারাপ অবস্থা থেকে ভালো অবস্থায় নিয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ।’

দলের আরেকটি দুর্বলতার কথাও অকপটে স্বীকার করেছেন হৃদয়। তার মতে, ‘প্রতিটি দলেই কয়েকজন অসাধারণ খেলোয়াড় থাকে, যারা বিশ্বাস করে খারাপ পরিস্থিতি থেকেও দলকে এগিয়ে নিতে পারবে। আমার মনে হয়, এই জায়গায় আমাদের কিছুটা ঘাটতি আছে।’