স্কোরবোর্ডে ৪২৯ রান। হ্যারি ব্রুকের রেকর্ডগড়া ডাবল সেঞ্চুরিতে ইংল্যান্ডের সংগ্রহটা ছিল পাহাড়সম। কিন্তু ত্রিদেশীয় সিরিজে সেই পাহাড়ও টপকে গেলো শ্রীলঙ্কা। পাভান রত্নায়েকের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি ও দাসুন শানাকার বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ৪৩০ রানের লক্ষ্য তাড়া করে অবিশ্বাস্য জয় তুলে নিয়েছে লঙ্কানরা। ওয়ানডে ক্রিকেটে সফল রান তাড়ার ইতিহাসে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
বৃহস্পতিবার রাওয়ালপিন্ডিতে ত্রিদেশীয় সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই কীর্তি গড়েছে শ্রীলঙ্কা। ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ সফল রান তাড়ার রেকর্ড এখনো দক্ষিণ আফ্রিকার দখলে। ২০০৬ সালে জোহানেসবার্গে অস্ট্রেলিয়ার ৪৩৪ রানের জবাবে ৯ উইকেটে ৪৩৮ রান তুলে এক উইকেটে জিতেছিল প্রোটিয়ারা।
এর আগে ইংল্যান্ডের ইনিংসের মূল আকর্ষণ ছিলেন হ্যারি ব্রুক। মাত্র ১১৬ বলে ২০২ রান করেন তিনি। পুরুষদের ওয়ানডেতে ইংল্যান্ডের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিয়ান হওয়ার পাশাপাশি দ্রুততম ডাবলের রেকর্ডও গড়েন এই অধিনায়ক। তার ইনিংসে ছিল ২১টি চার ও ১০টি ছক্কা।
ব্রুকের সঙ্গে দারুণ অবদান রাখেন জো রুট ও উইল জ্যাকস। ৬৬ বলে ৬৯ রান করেন রুট। আর মাত্র ৩০ বলে অপরাজিত ৬৬ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন জ্যাকস। তাতে ৪ উইকেটে ৪২৯ রানের বিশাল সংগ্রহ পায় ইংল্যান্ড।
এত বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা অবশ্য ভালো হয়নি শ্রীলঙ্কার। দ্রুত দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে তারা। সেখান থেকে দলকে ম্যাচে ফেরান আভিষ্কা ফার্নান্দো ও পাভান রত্নায়েকে। তাদের গুরুত্বপূর্ণ জুটিতে জয়ের আশা বাঁচিয়ে রাখে স্বাগতিকেরা।
সেঞ্চুরির খুব কাছে গিয়েও শেষ পর্যন্ত তিন রান দূরে থামেন ফার্নান্দো। ৮৩ বলে ৯৭ রান করেন তিনি। অন্য প্রান্তে দুর্দান্ত ব্যাটিং করে ১০৬ বলে ১৩০ রানের ইনিংস খেলেন পাভান। তার সেঞ্চুরিতে বড় লক্ষ্য তাড়ার ভিত পেয়ে যায় শ্রীলঙ্কা।
এরপর ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন শানাকা। মাত্র ৫০ বলে ৯৭ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন তিনি। আটটি ছক্কায় সাজানো তার পাল্টা আক্রমণে জয়ের আরও কাছে পৌঁছে যায় শ্রীলঙ্কা। ফার্নান্দোর মতো শানাকাও সেঞ্চুরি থেকে মাত্র তিন রান দূরে থাকতে আউট হন। তবে ততক্ষণে ইংল্যান্ডের ওপর চাপ অনেকটাই বেড়ে গেছে।
শেষ দিকে দায়িত্বশীল ব্যাটিং করেন জেনিথ লিয়ানাগে। অপরাজিত ফিফটিতে দলের জয়ের পথ সুগম করেন তিনি। অবস্থা এমন ছিল যে শেষ ৬ বলে দরকার ছিল ৮ রান। এই সময় টাংয়ের ওভারে পর পর দুটি উইকেটও পড়ে। কিন্তু এই সময়ে দুটি সিঙ্গেলও নেয় শ্রীলঙ্কা। পঞ্চম বলে লিয়ানাগে ছক্কা মেরে নিশ্চিত করেন অবিশ্বাস্য জয়। ৮ উইকেট হারানো লঙ্কান দল ৪৯.৫ ওভারে জয়ের বন্দরে নোঙর ফেলে।