অ্যাকশন শোধরানোর আগে আলিসের মানসিক দিকে দৃষ্টি সালাহউদ্দিনের

বোলিং অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন আলিস আল ইসলাম। তার অ্যাকশন শুধরে দেওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী বাংলাদেশ হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) ইউনিটের প্রধান কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন। তবে অ্যাকশন শুধরাতে গিয়ে বোলিংয়ের কার্যকারিতা নষ্ট হোক, সেটি চান না তিনি। এই মুহূর্তে আলিসের মানসিক শক্তি বাড়ানো এবং তার পাশে থাকাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন সালাহউদ্দিন।

বুধবার সালাহউদ্দিন জানান, অ্যাকশন শুধরে দেওয়ার পাশাপাশি আলিসের আত্মবিশ্বাস ধরে রাখাও জরুরি। সংযুক্ত আরব আমিরাতে সম্প্রতি শেষ হওয়া ত্রিদেশীয় সিরিজে আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের ম্যাচে সন্দেহজনক বোলিং অ্যাকশনের অভিযোগ ওঠে আলিসের বিরুদ্ধে।

ক্রিকবাজের তথ্য অনুযায়ী, আইসিসি-স্বীকৃত পরীক্ষাগারে বোলিং অ্যাকশনের মূল্যায়নের আগে আলিসকে নিয়ে কাজ করার দায়িত্ব সালাহউদ্দিনকে দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। অভিযোগ ওঠার ১৪ দিনের মধ্যে তাকে এই পরীক্ষা দিতে হবে। বিসিবি আইসিসিকে জানিয়েছে, মূল্যায়নের জন্য আলিসকে চেন্নাইয়ে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

এর আগে সন্দেহজনক বোলিং অ্যাকশনের অভিযোগে পড়া একাধিক বোলারের সঙ্গে কাজ করেছেন সালাহউদ্দিন। তার মতে, এমন পরিস্থিতিতে কারিগরি দিকের চেয়ে মানসিক সমর্থন বেশি জরুরি, ‘আসলে এই সময়টা যেকোনো মানুষের জন্য মানসিক সমর্থন পাওয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। আমার মনে হয়, এই মুহূর্তে কারিগরি সমস্যার চেয়েও মানসিক সমর্থন অনেক বেশি জরুরি। গত দুই দিন আমার খুব খারাপ লাগছে। কারণ, আমি অন্য একটি দলের সঙ্গে অনুশীলন করাচ্ছি বলে ওকে সময় দিতে পারছি না।’

তিনি আরও বলেন, ‘একজন খেলোয়াড়ের জন্য ক্রিকেট খেলতে না পারার চেয়ে বড় কিছু হতে পারে না। তাই মানসিকভাবে তাকে সহায়তা করা এবং পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ওর উন্নতি আমি দেখছি। আমার বিশ্বাস, খুব দ্রুতই সে সমস্যাটা কাটিয়ে উঠতে পারবে।’

তবে অ্যাকশন শুধরানোর প্রক্রিয়ায় আলিসের বোলিংয়ের কার্যকারিতা যেন কমে না যায়, সে বিষয়ে সতর্ক সালাহউদ্দিন। তার মতে, শুধু অ্যাকশন ঠিক করাই যথেষ্ট নয়, আগের মতো কার্যকর বোলিং করতে পারাটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

সালাহউদ্দিন বলেন, ‘একটা বিষয় আমাদের মাথায় রাখতে হবে। হয়তো আমি ওর অ্যাকশন ঠিক করে দিলাম, কিন্তু আগের মতো বল কার্যকর হলো না। তাহলে সেটা করে লাভ কী?’

তিনি আরও বলেন, ‘অ্যাকশন শুধরে নেওয়ার পরও কার্যকারিতা ধরে রাখতে পেরেছে শুধু রাজ্জাক। তাই আমাদের দুটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে, ওর বোলিংয়ের কার্যকারিতা নিশ্চিত করা এবং মানসিকভাবে শক্ত রাখা। একই সঙ্গে ওকে আমাদের সমর্থন দিতে হবে। তবে আমি আশাবাদী, ও ঠিক হয়ে যাবে।’