সাঈদ আনোয়ারের যে রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন ফখর

চাপের মুখেই যেন সবচেয়ে বেশি জ্বলে ওঠেন ফখর জামান। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ঘরের মাঠে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করে পাকিস্তানের কিংবদন্তি সাঈদ আনোয়ারের দীর্ঘদিনের রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন বাঁহাতি এই ওপেনার। একই সঙ্গে পা রেখেছেন ওয়ানডেতে চার হাজার রানের মাইলফলকেও।

শনিবার লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে ঘরের মাঠে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের ফাইনালে পাকিস্তানের সামনে ৩২৬ রানের কঠিন লক্ষ্য ছুড়ে দিয়েছিল শ্রীলঙ্কা। সেই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই দায়িত্বশীল ব্যাটিং করেন ফখর। মাত্র ৮৪ বলে তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছে ওয়ানডেতে নিজের ১২তম সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি।

শেষ পর্যন্ত ৯৯ বলে ১২৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেছেন। তার ইনিংসে ছিল ১১টি চার ও ছয়টি ছক্কা। তবে ৩৪তম ওভারে দিলশান মাদুশঙ্কার বলে আউট হয়ে থামে তার লড়াই।

ওয়ানডে টুর্নামেন্টের ফাইনালে এটি ফখরের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। এর আগে ২০১৭ সালে লন্ডনের ওভালে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে শতকের দেখা পেয়েছিলেন তিনি। সেই ম্যাচে তার সেঞ্চুরিতে ভর করেই শিরোপা জিতেছিল পাকিস্তান। গতকালকেও তার ইনিংসে ভর করেই ৩ উইকেটের জয় পেয়েছে পাকিস্তান। 

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এই সেঞ্চুরির সুবাদে ওয়ানডে টুর্নামেন্টের ফাইনালে পাকিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ দুটি সেঞ্চুরি করার রেকর্ডে সাঈদ আনোয়ারের পাশে বসেছেন ফখর। ১৯৯৩ সালের উইলস ট্রফির ফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এবং ১৯৯৮ সালের সিলভার জুবিলি ইন্ডিপেনডেন্স কাপে ভারতের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করে এই রেকর্ড গড়েছিলেন আনোয়ার।

শুধু রেকর্ডে ভাগ বসানোই নয়, ১২৭ রানের ইনিংসে ওয়ানডেতে চার হাজার রানের মাইলফলকও পেরিয়েছেন ফখর। পাকিস্তানের হয়ে এই কীর্তি গড়া ১৬তম ব্যাটার তিনি। এর আগে এই তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন ইনজামাম-উল-হক, জাভেদ মিয়াঁদাদ, ইউনিস খান ও সাঈদ আনোয়ারের মতো কিংবদন্তিরা।

এখন পর্যন্ত ৯৬ ইনিংসে ফখরের সংগ্রহ ৪ হাজার ১৯ রান। গড় ৪৪.৬৫, স্ট্রাইক রেট ৯৩.৫৭। ১২টি সেঞ্চুরির পাশাপাশি ওয়ানডেতে রয়েছে ১৯টি হাফসেঞ্চুরি।