চট্টগ্রাম আবাহনী ১ (৪)- শেখ রাসেল ১ (২)

স্বাধীনতা কাপে 'অল আবাহনী' ফাইনাল

_DSC7145কেএফসি স্বাধীনতা কাপের ফাইনালে পৌঁছেছে চট্টগ্রাম আবহনী। আজ বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় সেমিফাইনালে পেনাল্টি শ্যুট-আউটে তারা ৪-২ গোলে শেখ রাসেলকে পরাজিত করে। নির্ধারিত সময়ে খেলা ১-১ গোলে ড্র হয়েছিল। শনিবার শিরোপা নির্ধারণী লড়াইয়ে ঢাকা আবাহনীর মুখোমুখি হবে চট্টগ্রাম আবাহনী।

পেনাল্টি শ্যুটআউটে শেখ রাসেলের ফিকরু টেফেরা, ভ্যালেরি নাহায়ো, গোল করলেও মিস করেন মিথুন চৌধুরী ও শাহেদুল আলম। চট্টগ্রাম আবাহনীর তারেক আল জানাবি, অ্যালিসন উডোকা, লিওনেল প্রিউক্স ও জাহিদ হোসেন লক্ষ্য ভেদ করলে ফাইনালে চলে যায় চট্টগ্রাম আবাহনী।

গত সেপ্টেম্বরে শেখ কামাল আন্তর্জাতিক গোল্ড কাপের শিরোপা জেতার পর এবারই ঘরোয়া কোনও টুর্নামেন্টের ফাইনালে পৌঁছাল চট্টগ্রাম আবাহনী।
খেলা শুরুর ১৫ মিনিটে চট্টগ্রাম আবাহনীর রক্ষণে কাঁপন ধরিয়েছিল শেখ রাসেল। ইথিওপিয়ান ফরোয়ার্ড ফিকরু টেফেরা সতীর্থ মিডফিল্ডার মোনায়েম কান রাজুর করা একটি নিচু ক্রস ঠেলে দেন আগুয়ান মিডফিল্ডার শাহেদেুল আলম শাহেদের সামনে। শাহেদ চট্টগ্রাম আবহনী গোলরক্ষক আশরাফুল রানাকে একা পেয়েও বল সোজা তার হাতে তুলে দেন।

৪২ মিনিটে চট্টগ্রাম আবাহনী মিডফিল্ডার কৌশিক বড়ুয়া ব্যর্থ হন দলকে গোল উপহার দিতে। অধিনায়ক জাহিদ হোসেনের ডিফেন্স চেরা থ্রু পাসে প্রতিপক্ষ শিবিরে ঢুকে পড়েন কৌশিক। আগুয়ান গোলরক্ষক লিটনকেও পাশ কাটিয়ে যান তিনি। তবে গোলে শট নিতে দেরি করায় রাসেল ডিফেন্ডাররা বল ছিনিয়ে নেন।

প্রথমার্ধের শেষ মিনিটে গোলের দেখা পায় শেখ রাসেল। বক্সের বাম প্রান্ত থেকে নেওয়া ফরোয়ার্ড সাখাওয়াত রনির মাটি কামড়ানো শটটি আবাহনী গোলরক্ষক রানার হাত ফসকে বাতাসে ভেসে যায়। সামনেই দাঁড়িয়ে ছিলেন দীর্ঘদেহী ফিকরু। হেড করে বল জালে জড়িয়ে দিতে তিনি ভুল করেননি।

বিরতির পর আক্রমণে ধার বাড়ায় আবাহনী। ৬৬ মিনিটে আনে সমতা তারা। দ্রুতগতির একটি পাল্টা আক্রমণে ডানপ্রান্ত দিয়ে রাসেল শিবিরে ঢুকে পড়েন হাইতিয়ান ফরোয়ার্ড লিওনেল প্রিউক্স। উইং থেকে দৌড়ে আসা রুবেল মিয়ার উদ্দেশ্যে ভাসিয়ে দেন ছোট একটি ক্রস। আলতো ভলিতে সমতা আনেন রুবেল মিয়া।

ইথিওপিয়ান ফরোয়ার্ড ফিকরু ৮০ মিনিটে লক্ষ্য ভেদ করতে পারলে নির্ধারিত সময়েই শেষ হতে পারতো দ্বিতীয় সেমিফাইনালটি। শাহেদুল আলম শাহেদের নিখুঁত থ্রু পাস আয়ত্বে নিয়ে তিনি একা পেয়ে যান গোলরক্ষক রানাকে। কিন্তু তার গ্রাউন্ডরাটি ডাইভ দিয়ে রক্ষা করেন রানা।

অতিরিক্ত সময়ে দুই দলের সতর্কতামূলক মনোভাবের কারণে গোলের দেখা পায়নি কেউই। ফলে জয়-পরাজয় নিষ্পত্তি করতে তাই পেনাল্টিতে গড়ায় ম্যাচ। তাতে শেষ হাসি হাসে চট্টগ্রাম আবাহনী।

চট্টগ্রাম আবাহনী: রানা, রেজা, সৈকত, আরমান আজিজ, জাহিদ, লিওনেল প্রিউক্স, কৌশিক বড়ুয়া, বিপ্লব, রুবেল মিয়া, তারিক আল জানবি, অ্যালিসন উডোকা।

শেখ রাসেল: লিটন, মনি, মিশু, শাহেদ, রাজু, শাখাওয়াত রনি, অরুপ বৈদ্য, বাবলু, নাহায়ো ভ্যালেরি, জুলস ইকাঙ্গা, ফিকরু টেফেরা।

/আরএম/এমআর/