তারকাখচিত রিয়াল বনাম 'টিম অ্যাটলেটিকো'


রিয়াল বনাম `টিম অ্যাটলেটিকো`অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ থেকে রিয়াল মাদ্রিদের দূরত্ব মাত্র ছয় কিলোমিটার। তবে ফুটবলের দৃষ্টিকোণে দূরত্বটা প্রায় আকাশ-পাতাল। রিয়াল শুধু স্পেন নয় বিশ্বের সফলতম ক্লাব। অন্যদিকে অ্যাটলেটিকো বরাবরই থেকেছে তাদের ছায়া হয়ে।

তবে সম্প্রতি রিয়ালের ছায়া থেকে বের হয়ে নিজেদের শ্রেষ্ঠতর আসনে তুলে ধরেছে অ্যাটলেটিকো। যার নেপথ্যে আর্জেন্টাইন কোচ ডিয়েগো সিমিওনে। লা লিগা থেকে শুরু করে ইউরোপা, কোনও কিছুই বাদ নেই সিমিওনের ট্রফি ক্যাবিনেটে। কিন্তু শূন্যতা কেবল এক জায়গাতেই। উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ। দু'বছর আগে ফাইনালে রিয়ালের কাছে অ্যাটলেটিকোর চ্যাম্পিয়ন্স লিগ স্বপ্ন ভেস্তে গিয়েছিল। আগামীকাল শনিবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে সেই রিয়ালের মুখোমুখি অ্যাটিলেটিকো।

তার আগে গ্যারেথ বেল অবশ্য মনে করিয়ে দিলেন, 'আমাদের প্রথম টিমে অ্যাটলেটিকোর কোনও ফুটবলারের জায়গা হত না। এ বারও আমরাই জিতব।' হয়তো বেল ভুলে গিয়েছেন তার চেয়ে বেশি গোল আছে অ্যাটলেটিকোর গ্রিজম্যানের।

শনিবারের ফাইনালে রিয়াল খাতায়-কলমে বেশি শক্তিশালী হতে পারে কিন্তু এবার এখন পর্যন্ত রোনালদোরা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে হারিয়েছেন রোমা, উলফসবার্গ, ম্যানচেস্টার সিটির মতো দলকে। অ্যাটলেটিকো সেখানে ফাইনালে উঠেছে বার্সেলোনা, বায়ার্ন মিউনিখকে হারিয়ে। তার ওপর সান সিরো আবার রিয়ালের নরক। আজ পর্যন্ত ইতালির এই মাঠ থেকে জিতে বেরোতে পারেনি রিয়াল।

কিন্তু অ্যাটলেটিকোর সিমিওনে থাকলেও রিয়ালের আছে একটা সোনার মগজ। যে মাথার জোরে ফ্রান্স বিশ্বকাপ জিতেছিল সেটাই এখন রিয়ালের ফ্লপ মৌসুমকে ব্লকবাস্টার হওয়ার দোড়গোরায় এনে দাঁড় করিয়েছে। তিনি জিনেদিন জিদান। মাদ্রিদের প্রিয় জিজু ফুটবলার হিসেবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এনে দিয়েছিলেন রিয়ালকে। এবার পালা কোচ হিসেবে সফল হওয়ার। কোচ জিদানের গলায় অবশ্য প্রতিপক্ষ সম্পর্কে সমীহ। তার মতে, 'আটলেটিকো খুবই ভাল দল। কঠিন লড়াই জিতে ফাইনালে উঠেছে।'

রিয়ালের আছে তারকাখচিত বিশ্বসেরা দল। অন্যদিকে অ্যাটলেটিকোর ১১জন। এই ১১ জনের দলটির বিপক্ষে নেইমার-মেসি-সুয়ারেজ, মুলার-লেভানডস্কিরাও হার মেনেছেন! দেখা যাক রিয়াল পারে কিনা!

/এমআর/