এবার নতুন রূপে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ

বিপিএলবাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের অবয়ব পাল্টে এটিকে আরও আকর্ষণীয় ও দর্শকপ্রিয় করে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে বাফুফে। দেশের বিভিন্ন অংশে আয়োজন করতে পাঁচ বছরের জন্য বার্ষিক ৪ কোটি টাকা মোট ২০ কোটি টাকায় বিপিএল-এর স্বত্ব কিনেছে সাইফ গ্লোবাল স্পোর্টস। সমগ্র দেশে খেলা ছড়িয়ে দি‌‌‌তে এবারের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ ঢাকার বাইরেও ছয়টি ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে।

আজ রাজধানীর একটি পাঁচ তারা হোটেলে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করে সাইফ গ্লোবাল স্পোর্টস। নতুন চুক্তি অনুযায়ী ঢাকাসহ সারা দেশের ৬টি ভেন্যুতে প্রিমিয়ার লিগের খেলা অনুষ্ঠিত হবে।
বিপিএল-এর ইতিহাসে এটি সর্বোচ্চ স্পন্সরশিপ মানি। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে মাঠে গড়াবে ২০১৫-১৬ মৌসুমের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ ফুটবল। গত বছর ঘরোয়া ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই আসরের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিল ফ্যাশন হাউজ মান্যবর।

লিগের টিকেট বিক্রি থেকে সাইফ পাওয়ারটেক লভ্যাংশ পাবে ৭৫ শতাংশ। বাফুফে, জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ও জেলা ক্রীড়া সংস্থা পাবে ২৫ শতাংশ। লিগের মিডিয়া পার্টনারও থাকবে। লিগের সিংহভাগ খেলাই হবে ঢাকার বাইরে, যার সবগুলোই বিটিভিতে সরাসরি সম্প্রচারিত হবে।

খেলা হবে ২২ রাউন্ডের। সপ্তাহে কমপক্ষে ৬ দিনই খেলা হবে। বাফুফে লিগের স্বত্ব বিক্রি করলেও টেকনিক্যাল সাপোর্ট, ম্যাচ কমিশনারসহ ম্যাচ সংক্রান্ত সবকিছুর স্বত্ব থাকছে বাফুফের হাতেই। এবারের লিগের খেলা হবে একটু ভিন্ন পদ্ধতিতে। এক ভেন্যুতে এক রাউন্ডের খেলা হবে। সেখানে ১২ দলই গিয়ে হাজির হবে। তারপর খেলা শেষ হলে তারা অন্য ভেন্যুতে চলে যাবে। এভাবে প্রতিটি ভেন্যুতেই পর্যায়ক্রমে মোট ১৩২টি খেলা হবে। এর মাঝে ১১০টি খেলা হবে ঢাকার বাইরে।

মোট সাতটি ভেন্যুকে বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। পরে একটি ভেন্যুকে বাদ দেওয়া হবে। ভেন্যুগুলো হলো : ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম, চট্টগ্রামের এমএ আজিজ স্টেডিয়াম, সিলেট জেলা স্টেডিয়াম, রাজশাহীর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়াম, বরিশাল জেলা স্টেডিয়াম, ময়মনসিংহের জেলা স্টেডিয়াম এবং গোপালগঞ্জের শেখ মনি ফজলুল হক স্টেডিয়াম। প্রথম চারটি স্টেডিয়ামে ফ্লাডলাইট আছে। রাজশাহীতে ফ্লাডলাইট থাকলেও এর সংস্কার কাজ করা হবে।

উল্লেখ্য, বিপিএল শুরুর তারিখ ছিল আগামী ১৫ জুলাই তবে এটি ঈদুল ফিতরের কারণে কয়েকদিন পিছিয়ে যেতে পারে। সাইফ গ্লোবাল স্পোর্টস প্রথমে চেয়েছিল আগামী বছর থেকে লিগের সঙ্গে যুক্ত হতে। কিন্তু চলতি বছরের শেষদিকে বাংলাদেশ সুপার লিগ (বিএসএল) ভেন্যু সমস্যার স্থগিত হয়ে যাওয়ায় আগেভাগেই বাফুফের সঙ্গে যুক্ত হতে আগ্রহী হয় তারা। বাংলাদেশ সুপার লিগের প্রধান পৃষ্ঠপোষকও তারা।

ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয় বলেন, 'সরকার সবসময় ফুটবলের উন্নয়নের জন্য সহায়তা করতে প্রস্তুত, ঢাকার বাইরের ভেন্যুগুলোকে প্রস্তুত করার দায়িত্ব নিলাম।' বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন বলেন, 'আজ বাংলাদেশের ফুটবলের একটি ঐতিহাসিক দিন কারণ বাংলাদেশ ফুটবলের একটি আধুনিক অবকাঠামোতে প্রবেশ করলো। এখন ঢাকার বাইরে ফুটবল খেলা হবে এবং এটির ব্যবস্থাপনায় থাকবে আধুনিকতা।'

সাইফ গ্লোবাল স্পোর্টসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তরফদার মো. রুহুল আমিন বলেন, 'আমি আশা করি অচিরেই ফুটবল নিয়ে আমরা গর্ব করতে পারবো, বাংলদেশের ফুটবলের অগ্রযাত্রার নতুন দিগন্ত আজ থেকে শুরু হল।'

/আরএম/এমআর/