রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে শেখ জামালকে হারিয়ে সেমিফাইনালে আরামবাগ

টানটান উত্তেজনা ও শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে ট্রাইবেকার লটারিতে শেখ জামালকে হারিয়ে ওয়ালটন ফেডারেশন কাপের সেমিফাইনালে পৌঁছেছে আরামবাগ ক্রীড়া সংঘ। এদিন খেলার প্রথমার্ধে দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও দ্বিতীয়ার্ধে সমতা আনে আরামবাগ। খেলা গড়ায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে। সেখানেও কোনও দল গোল করতে না পারায় খেলা গড়ায় ট্রাইবেকার ভাগ্যে। পেনাল্টি শুটআউটে সাডেন ডেথে গিয়ে শেখ জামালকে হারিয়ে সেমিফাইনালে নিশ্চিত করে আরামবাগ।

index

খেলার শুরু থেকেই সতর্ক সূচনা করে দুই দলই। তবে আরামবাগের খেলার ধারায় ছিল ঘোরতর রক্ষণাত্মক মনোভাব। সঙ্গে নাইজেরিয়ান মার্কসম্যান কেস্টার একন ও দ্রুত গতির দুই উইঙ্গার আবু সুফিয়ান সুপির ও জাফর ইকবালকে নিয়ে আরামবাগ তটস্থই রাখে জামালকে।

তবে এমেকা ডারলিংটন, ল্যান্ডিং ডারবো ও ওয়েডসন এনসেলমের সমন্বিত আক্রমণ প্রথমে গোলের কাছাকাছি নিয়ে গিয়েছিল জামালকে। ২৩ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে এনামুলের হালকা পুশ আরমাবাগ ডিফেন্সের মাঝে দিয়ে থ্রু করে দেন ওয়েডসন। এমেকা পোস্টের নিচে একা পেয়েছিলেন আরামবাগ গোলরক্ষক মিটুল হাসানকে। কিন্তু তার ডান পায়ের শটটি পাঞ্চ করে ফিরিয়ে দেন মিটুল।

‌‌‌শেখ জামালকে প্রথমে এগিয়ে দেন ডিফেন্ডার লিংকন। আরামবগের ডিফেন্স তাদের মনোসংযোগ দিয়ে রেখেছিল ওয়েডসন, এমেকা ও ল্যান্ডিং এর প্রতি। এ সুযোগটাই নেন লিংকন। মাঝমাঠ থেকে ওয়েডসনের করা জামালকে এগিয়ে দেন লিংকন।

৪২ মিনিটে জামালকে সেমিফাইনালের পথে আরও এগিয়ে দেন অধিনায়ক ওয়েডসন এনসেলমে। মাঝমাঠ থেকে নিখুঁত একটি থ্রু দিয়েছিলেন মিডফিল্ডার এনামুল হক শরিফ, সেটি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে মার্কারকে পাশ কাটিয়ে প্লেসিং শটে দলকে দ্বিতীয় গোল উপহার দেন ওয়েডসন। ২-০ গোলে এগিয়ে বিরতিতে যায় জামাল।

কিন্তু ম্যাচের যাবতীয় নাটকীয়তা দ্বিতীয়ার্ধের জন্য অপেক্ষা করছিল। আট মিনিটের এক ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় জামাল। ৬১ মিনিটে দ্রুতগতির উইঙ্গার জাফর ইকবালের একটি ক্রস থেকে জোরোলো হেডে গোল করেন ক্যামেরুনিয়ান মিডফিল্ডার ইয়োকো সামনিক। গোল পেয়ে যেন উজ্জিবীত হয়ে ওঠে আরামবাগ। এর ধারাবহিকতায় ৬৯ মিনিটে ইয়োকো সামনিকের থ্রু পাস থেকে একক নৈপুণ্যে সমতা আনেন কেস্টার একন। হালকা চিপ শটে আগুয়ান মিটুল হাসানকে পরাস্ত করেন ।

তবে নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে প্রচন্ড চাপ সৃষ্টি করে জামাল। তাবে আরামবাগের গোলরক্ষক মিটুলকে পরাস্ত করতে পারেনি তারা। এমেকা ডারলিংটনের হেড, এনামুলের জোরালো শট ও ওয়েডসনের কোনাকুনি গ্রাউন্ডার তিনি আপন দক্ষতায় রুখে দেন।

নির্ধারিত সময়ে ২-২ গোলে ড্র হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে। কিন্তু কোনও দলই গোল করতে পারেনি। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় ২-২ গোলে শেষ হওয়ার পর পেনাল্টি শুটআউটে আরামবাগের ইয়োকো সামনিক প্রথম শটটিই মারেন মিটুল হাসানের হাতে। জামালের এমেকা ডারলিংটন করেন গোল। দ্বিতীয়টিতে আরামবাগের ইসা ইউসুফ গোল করেন। জামালের ওয়েডসন এনেসেলমেও গোল করেন। তৃতীয়টিতে আারামবাগের শিহাব গোল করেন্ জামালের এনামুল মারেন পোস্টের বাইরে। সমতা আসে শুটআউটে। আরামবাগের ডিফেন্ডার ভাসানি চতুর্থ শটে গোল করেন। জামালের ইয়াসিনও লক্ষ্যভেদ করেন। আরামবাগের কেস্টার একন ও জামালের ল্যান্ডিং শেষ শটে গোল করলে শুটআউট গড়ায় সাডেন ডেথে। সাডেন ডেথের প্রথম শটে আরামবাগের মনসুর লক্ষ্যভেদ করেন কিন্তু জামালের কেষ্ট কুমার বোস বল বাইরে মারলে সেমিফাইনালে পৌঁছে যায় আরামবাগ। 

/আরএম/এমআর/