আজ শুক্রবার বাফুফে ভবনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে ফিফার সিনিয়র ডেভলপমেন্ট ম্যানেজার মাইক ফিস্টার বাংলাদেশের খসড়া উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রশংসা করে বলেন, ‘সবদেশেরই ফুটবলে বাজে সময় আসে এবং এটি কাটিয়ে উঠতে যথাযথ পরিকল্পনা নিতে হয়। বাংলাদেশ তাই করেছে এবং ফিফা বাংলাদেশের ফুটবলে নতুন দিন আনার জন্য সহযোগিতা করতে তৈরি।’
বাংলাদেশের সাবেক জার্মান কোচ অটো ফিস্টারের ছেলে মাইক বাংলাদেশের সমস্যাটা ভালোভাবেই বুঝেছেন, ‘২০ বছর আগে আমি বাংলাদেশে ছিলাম। তখন মনে হয়েছিল বাংলাদেশের ফুটবল একটা শক্ত অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছে। আজ দুর্ভাগ্যজনকভাবে চিত্রটা ভিন্ন। কিন্তু আমি যতটুকু বাংলাদেশের ফুটবলকে জানি এখানে সম্ভাবনার কোনও কমতি নেই। আর ফুটবলের প্রতি তাদের ভালোবাসা তো রয়েছেই।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ ফুটবলকে একটা কঠিন সময়ের মাঝেই দেখতে পাচ্ছি । একটি দেশের আন্তর্জাতিক অবস্থান প্রতিফলিত হয় ঘরোয়া ফুটবলের কী অবস্থা, সেটির ওপর। র্যাংকিং দিন দিন নেমে গিয়েছে। এই অবস্থায় ফিফা সাহায্য করতে সর্বদাই প্রস্তুত।’
বর্তমান অবস্থায় করণীয় কী, সে সস্পর্কেও ধারণা দিয়েছেন মাইক, ‘অবনমনের এ ধারা থেকে বাংলাদেশকে তুলে ধরতে নতুন উন্নয়ন কর্মসূচি দরকার। ঘুরে দাঁড়ানোর প্লাটফর্ম তৈরি করা প্রয়োজন। ফিফা বাংলাদেশের সঙ্গে এ কাজটি করার জন্য সর্বদাই তৈরি। তবে মনে রাখতে হবে ফিফা কোনও ব্যাংক নয়। টাকা চাইলেই যে টাকা পাওয়া যাবে, তা কিন্তু নয়। ফিফার নতুন সভাপতি জিওভান্নি ইনফান্তিনো ফিফার ২১১ টি দেশের জন্যই একটি অংক নির্ধারিত রেখেছেন। কিন্তু এটি নিতে হলে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও প্রকল্প প্রয়োজন হবে। শুধু তাই নয় এ অর্থ কখনোই এক বরাদ্দে দিয়ে দেওয়া হবে না। জাতিসংঘ ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের মতো ফিফারও শক্তিশালী একটি মূল্যায়ন কাঠামো রয়েছে। যেখানে প্রতি পদক্ষেপেই এই অর্থের সদ্ব্যবহার করা হয়েছে কিনা, তা যাচাই বাছাই করা হয়। তবে এই মুহূর্তে বাফুফে এ অর্থ পাওয়ার যোগ্য।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয়েছে তৃণমূল ও যুব পর্যায়ে বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে কাজ করতে হবে। এটা লজ্জার বিষয় যে বাংলাদেশের পেশাদার লিগের ক্লাবগুলোর বয়সভিত্তিক দল নেই, বাংলাদেশের একটি সুষ্ঠু ও সমন্বিত ফুটবল কাঠামো প্রয়োজন। এটি অত্যন্ত জটিল একটি কাজ। কারণ এতে ফুটবলের যাবতীয় বিভাগই জড়িত। ক্লাব, ডিএফএ, প্রশাসন,ট্যাকনিক্যাল অবকাঠামোসহ সব কিছু মিলিয়ে বর্তমানে বাংলাদেশের ফুটবলের যে ধারা চলছে তার পুনঃমূল্যায়ন ও পুনঃপর্যবেক্ষণ খুবই জরুরি।’
এসময় সরকার ও ফিফা সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা দিয়েছেন মাইক, ‘সরকারি সহযোগিতা ছাড়া ফুটবলের উন্নয়ন সম্ভব নয়। আমরা যেটি সমর্থন করি না, সেটি হয়েছে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ। ফিফা এখানে কঠোর ও কঠিন। ডিএফএর সমস্যা হয়েছে যে এটি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না। তাই আমার মনে হয় এ ব্যাপারে আমাদের নতুন কোনও মডেল প্রস্তুত করতে হবে। তবে ফিফা বিশ্বাস করে শক্তিশালী আঞ্চলিক অবকাঠামো থাকলে তা ফুটবলের জন্য সর্বদাই উপকারী।’
এ ব্যাপারে বাফুফে সভাপতি কাজি সালাউদ্দীনও তুলে ধরেন তাদের পরিকল্পনার কথা, ‘অনূর্ধ্ব-১৬ ও অনূর্ধ্ব-১৮ অনূর্ধ্ব-১৬ মহিলা দলের জন্য উন্নত প্রশিক্ষণ ও যাবতীয় খরচ, একটি জিমনেসিয়াস, বাফুফে ভবনে নতুন ডরমেটরি, যুব পর্যায়ে সোহরাওয়ার্দী কাপসহ দুটি ফুটবল টুর্নামেন্ট, বাফুফে সংলগ্ন অ্যাস্ট্রো টার্ফে ফ্লাড লাইট ও বাফুফের সামনে ছোট মাঠটিতে একটি টার্ফ স্থাপন করাসহ দুই বছরের একটি পরিকল্পনা আমরা দিয়েছি।’
এই বিষয়টিতে অর্থ প্রদান সম্পর্কে মাইক ফিস্টার বলেছেন, ‘এটি আমরা যাচাই বাছাই করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবো। আমরা কী পরিমাণ টাকা দেব সেটি এখনো নিশ্চিত নয়। তবে এটি নিশ্চিত যে খুব কড়াকড়ি থাকবে, এই অর্থ ব্যয়কে নিয়মিত মূল্যায়ন ও নিরীক্ষণ করা হবে। বাংলাদেশের মাস্টার প্লানটা আমার কাছে পরিকল্পিত ও উচ্চাভিলাষী মনে হয়েছে।’
/আরএম/এফআইআর/