আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে কৌতিনিয়োর স্বপ্নপূরণ

ফিলিপ কৌতিনিয়োসারা বিশ্বে উত্তাপ ছড়াতে যথেষ্ঠ ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার ফুটবল ম্যাচ, যাকে সবাই সুপার ক্লাসিকো হিসেবে এক নামে চেনে। কিন্তু শুক্রবার মাঠে উত্তেজনা ছড়াল না দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াই। বড্ড একপেশে ম্যাচ হলো, যার উৎফুল্ল শুরুটা করলেন ফিলিপ কৌতিনিয়ো। ২৫ মিনিটে তার গোলমুখ খোলার পর একে একে নেইমার ও পাউলিনিয়ো গোল করে লিওনেল মেসির ফেরাটা মাটি করে দেন। দুই বছর আগে বিশ্বকাপে চরম লজ্জা পাওয়া ভেন্যুতে এমন জয়ে ওই ক্ষত কিছুটা হলেও সারিয়ে তুলতে পেরেছে সেলেকাওরা। কিন্তু এ ম্যাচটা কৌতিনিয়োর জন্য ছিল স্বপ্নপূরণের। ব্রাজিলের হলুদ জার্সিতে আকাশী নীল জার্সিধারী আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার স্বপ্ন সেই ছোট্টবেলা থেকে দেখতেন তিনি। আর সেই স্বপ্ন তিনি পূরণ করলেন রাজকীয়ভাবে।
ব্রাজিলকে টানা পঞ্চম জয় এনে দেয়ার পথে প্রথম গোলদাতা গর্ব নিয়ে ম্যাচ শেষ করলেন, ‘দলে থাকতে পারা আমার জন্য খুব গর্বের মুহূর্ত। সেরা খেলোয়াড়দের পাশে থেকে এই দলে অংশ নিতে পারা সত্যিই সুখের, তাও আবার ম্যাচটা ক্লাসিক। ’ তবে এখনই চূড়ান্ত লক্ষ্য পূরণ হয়নি মনে করেন কৌতিনিয়ো, ‘কিন্তু আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জন করার বাকি আছে এখনও, আর সেটা হচ্ছে বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়া।’ এরপরই লিভারপুলের তারকা বললেন স্বপ্নের কথা, ‘আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলা সবসময় ছিল একটা বড় স্বপ্ন। প্রত্যেক শিশু ব্রাজিলের জার্সিতে এমন ম্যাচ খেলার স্বপ্ন দেখে। আজ আমরা মাঠে জিতেছি, আর বাঁশি বাজার পর থেকে সমর্থকরা অনেক সহায়তা করেছে। খুব খুশি মনে মাঠ ছেড়েছি।’

ব্রাজিলের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার একপেশে হারকে অনেকে মেনে নিতে পারছেন না। কিন্তু ব্রাজিলিয়ান সেন্টার ব্যাক মিরান্দা মনে করেন রক্ষণের দারুণ নৈপুণ্যের কাছে হেরেছে তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী, ‘জাতীয় দলের হয়ে প্রতিদিনকার পরিশ্রমের ফলে আমরা খুব কৌশলী হয়ে উঠছি এবং আমরা প্রতিপক্ষকে চমকে দিতে পারছি কারণ আমাদের আছে গুণগত একটা রক্ষণভাগ।’ স্ট্রাইকারদের প্রশংসাও ঝরল তার কণ্ঠে, ‘আর আমাদের স্ট্রাইকারদের নিয়ে মন্তব্য করার কোনো প্রয়োজন নেই। তারা এমন খেলোয়াড় যারা অন্য পর্যায়ের। তারা খুব ভালো।’

আর্জেন্টিনার তারকাখচিত আক্রমণকে রুখে দিয়ে জয় পাওয়ায় অভিভূত আরেক গোলদাতা পাউলিনিয়ো, ‘আর্জেন্টিনার অল্পকিছু সুযোগ ছিল কিন্তু আমরা জানি কীভাবে ম্যাচ ভালো খেলতে হয়। আমরা আক্রমণের সঠিক সময় জানতাম। আমাদেরও অনেক সুযোগ ছিল।’ জাতীয় দল ভালো সময় কাটালেও সতীর্থদের মাটিতে পা রাখার আহ্বান জানান গুয়াংঝু এভারগ্রান্দের এ তারকা।

/এফএইচএম/