২০০৪ সালের পর থেকে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে প্রতিপক্ষের মাঠে জয়বঞ্চিত ছিল পেরু। এরপর দুই সপ্তাহ আগের ঘটনা, তাদের দুঃস্বপ্নের শেষ হলো এক অদ্ভুত পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে। গত সেপ্টেম্বরে বলিভিয়ার কাছে ২-০ গোলে হেরে যায় তারা। কিন্তু অযোগ্য খেলোয়াড়কে মাঠে নামানোয় তাদের প্রতিপক্ষকে শাস্তি পেতে হলো। আর ওই শাস্তি পেরুভিয়ানদের জন্য এলো সোনায় সোহাগা হয়ে। ওই ম্যাচে পেরুকে ৩-০ গোলে জয়ী ঘোষণা করে ফিফা। এরপর হঠাৎ করে জয়ে অভ্যস্ত হয়ে গেল তারা। গত বৃহস্পতিবার প্যারাগুয়ের কাছে ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়েও বিরতির পর ৪-১ গোলের চমৎকার জয় পায় পেরু। কোচ রিকার্ডো গারেসা বলেন, ‘এমন পারফরম্যান্সই আমরা সারাক্ষণ খুঁজেছি।’
ওই রাতটা পেরুর জন্য সত্যিই অসাধারণ ছিল। একই দিন বাছাইপর্ব টেবিলে তাদের ওপরে থাকা পাঁচ দল জিততে ব্যর্থ হয়। তাই পুরস্কার হিসেবে পাওয়া তিন পয়েন্ট ও প্যারাগুয়ানবধের তিন পয়েন্টে হঠাৎ করে বিশ্বকাপ স্বপ্ন উঁকি দিতে শুরু করে তাদের মনে। বর্তমানে তারা তিন নম্বর দল কলম্বিয়ার চেয়ে চার পয়েন্ট পিছিয়ে। গারেসার শিষ্যরা যদি তাদের ফর্ম ধরে রাখতে পারে তাহলে ১৯৮২ সালের পর প্রথম বিশ্বকাপ খেলার সম্ভাবনাটা আরও শক্তিশালী হবে। এজন্য উড়তে থাকা ব্রাজিলকে থামানোর দৃঢ়তা নিয়ে মাঠে নামতে হবে পেরুকে।
তারা জানে, নতুন কোচ তিতের ব্রাজিলের সামনে কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে দলকে। সর্বশেষ চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনাকে ৩-০ গোলে হারিয়ে তিতের অধীনে ব্রাজিল পাঁচ ম্যাচের সবগুলো জিতেছে। ওই ম্যাচ জিতে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান অটুট রেখেছে সেলেসাওরা এবং মূল পর্বে ওঠার দ্বারপ্রান্তে। অতীতে সর্বমোট ২৮ পয়েন্ট পাওয়া দলগুলো সরাসরি মূল মঞ্চে খেলেছে, যেখানে ব্রাজিলের সংগ্রহ এরই মধ্যে ২৪ পয়েন্ট।
এখন দেখার অপেক্ষা- পেরু তেজোদ্দীপ্ত ব্রাজিলকে থামাতে পারে কি না; জন্মসূত্রে তাদের দুই ব্রাজিলিয়ান সেন্টার-ফরোয়ার্ড পাওলো গুয়েরেরো ও প্লেমেকার ক্রিস্তিয়ান কুয়েভা কি পারবেন তিতের রক্ষণে ভাঙন ধরাতে? সম্ভাবনা থাকলেও স্বাগতিকদের মনে কষ্ট বাড়াবে রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার রেইনালদো তালিয়া ও লেফট-ব্যাক মিগুয়েল ত্রাউসোর নিষেধাজ্ঞা। তারপরও নিজের মাঠ বলে ব্রাজিলকে থামানোর সাহস সঞ্চয় করছে তারা। আগামীকাল বুধবার বাংলাদেশ সময় সকালে সোয়া ৮টায় মুখোমুখি হবে দুই দল।
/এফএইচএম/