সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলবেন না মেসিরা

সংবাদ সম্মেলনে পুরো দলকে নিয়ে হাজির মেসি
আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ শঙ্কা কিছুটা হলেও দূর হয়েছে কলম্বিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে। লিওনেল মেসি দেখালেন জাদুকরি পারফরম্যান্স। ম্যাচ শেষে স্বাভাবিকভাবে তার কাছ থেকে অভিব্যক্তি জানতে সম্মেলনকক্ষে অপেক্ষা করছিলেন কয়েক ডজন সাংবাদিক। কিন্তু অবাক হতে হলো তাদের। কারণ শুধু একা নন, পুরো দল নিয়ে তাদের সামনে দাঁড়ালেন মেসি। এরপর অভিমানে ভরা বক্তব্যে ২৯ বছর বয়সী ঘোষণা দিলেন, সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলবেন না তারা।
সতীর্থ এজিকুয়েইল লাভেজ্জিকে নিয়ে মিথ্যা অভিযোগের প্রতিবাদে সতীর্থদের নিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য সংবাদমাধ্যমকে বয়কটের ঘোষণা দিলেন মেসি। ঘটনার সূত্রপাত রিপোর্টার গ্যাব্রিয়েল আনেয়ো’র একটি টুইট থেকে, যেখানে তার দাবি- দলের ট্রেনিং ক্যাম্পে গাজা সেবন করায় কলম্বিয়ার বিপক্ষে বাদ পড়েন লাভেজ্জি। এমন অভিযোগের কারণে পরিবারের সদস্যরা কষ্ট পাওয়ায় ও তার ক্যারিয়ার ঝুঁকির মুখে পড়েছে মনে করেন ৩১ বছর বয়সী। তাই হেবেই চায়না ফরচুনের স্ট্রাইকার ওই রিপোর্টারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান। তবে জাতীয় দলের অধিনায়ক মেসি বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছেন। আর তাই প্রতিবাদ জানাতে ২৩ জনের সবাইকে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে হাজির হন তিনি। ক্ষোভ প্রকাশ করলেন বার্সা ফরোয়ার্ড, ‘আমরা এখানে আপনাদের বলতে এসেছি যে আর সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ রাখব না। লাভেজ্জিকে নিয়ে করা অভিযোগ মারাত্মক। আমাদের আফসোস এভাবে কথাগুলো বলতে হলো, কিন্তু আর কোনও পথ নেই। আমরা জানি আপনাদের অনেকেই এই কাজটা করেননি।’

কিন্তু আগের মনোকষ্টগুলো উগড়ে দিলেন ২৯ বছর বয়সী, ‘আমাদের নিয়ে অনেক অভিযোগ ছিল। কোনও সম্মান দেখানো হয়নি আমাদের এবং আমরা কখনও কিছু বলিনি। কিন্তু লাভেজ্জির বিরুদ্ধে যে অভিযোগ সেটা যদি আজ আমরা না থামাই কখনও থামাতে পারব না। আমরা জানি আপনারা আমাদের সমালোচনা করে যাবেন, ভালো। হয়তো কেউ কেউ আমাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নাক গলাবেন। আমরা কারও কাছ থেকে নিজেদের লুকিয়ে রাখব না। এই দুই সপ্তাহ ফুটবল নিয়ে সমালোচনা নয় ব্যক্তিগত আক্রমণের শিকার হয়েছি আমরা। জয় বা হারের কারণে আপনারা সমালোচনা করতে পারেন আমাদের, কিন্তু যখন ব্যক্তি নিয়ে টানাটানি করবেন তখন আমরা সীমারেখা টানব।’ আগামী বছর আবার বিশ্বকাপ বাছাইয়ে নামবে আর্জেন্টিনা, ততদিনে সাংবাদিকদের সঙ্গে রাগটা কাটে কী না দেখা যাক।

/এফএইচএম/