এখনই বিশ্বকাপ পরিকল্পনা শুরু করতে পারে ব্রাজিল

ব্রাজিলকে শীর্ষ সফলতার স্বপ্ন দেখাতে শুরু করেছেন তিতেব্রাজিল নিজ দেশে গত বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে বিধ্বস্ত হওয়ার লজ্জা কি কোনোদিন কাটিয়ে উঠতে পারবে? এই প্রশ্নের উত্তরে দ্বিধায় পড়ে যেতে পারেন অনেকে। কিন্তু যারা মিনেইরোতে ওই শোচনীয় হারের সঙ্গে বর্তমান ব্রাজিলকে মেলাতে যাবেন তারা বলবেন, এবার বুঝি সময় এলো সেলেসাওদের ষষ্ঠ শিরোপা হাতে নেওয়ার সুযোগ। তিতের ছোঁয়ায় বদলে যাওয়া দলটি তেমন আভাসই দিচ্ছে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে। তরুণ একটি দলের ওপর জাদুকাঠি ঘুরিয়েছেন সান্তোসের সাবেক কোচ। অতীতের পয়েন্ট হিসাবে রাশিয়া বিশ্বকাপ থেকে এক পা দূরে ব্রাজিল। তাই এখন থেকেই ২০১৮ সালের বিশ্বকাপ নিয়ে পরিকল্পনা শুরু করতে পারেন তিতে।
গত আড়াই মাসের মধ্যে দক্ষিণ আমেরিকার বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব মিশনের দ্বিতীয় পর্ব এখন পর্যন্ত বলছে, ব্রাজিলের প্রস্তুতিটা হচ্ছে অসাধারণ। গত সেপ্টেম্বরে দুই রাউন্ড, অক্টোবরে দুই রাউন্ডের পর এই নভেম্বরের দুই ম্যাচের চিত্র বলে দেবে কতটা বদলে গেছে ব্রাজিল। তখনকার টেবিলের দিকে এক পলক দেখলে খেয়াল করা যাবে- তখনকার ৬ ম্যাচের পর এবং এখন পর্যন্ত ১২ ম্যাচের হিসাব নিকাশে খুব বেশি পার্থক্য নেই। প্রায় প্রত্যেক দল হয় একই অবস্থানে নয়তো খুব কাছাকাছি। কিন্তু ব্যতিক্রম দুইটি- তৃতীয় থেকে পঞ্চম স্থানে নেমে গেছে আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে ব্রাজিল, যারা ছয় নম্বরে ছিল প্রথম পর্বে। অথচ তারা এখন শীর্ষস্থানে। অতীতের অভিজ্ঞতা বলে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে উঠতে লাতিন আমেরিকান অঞ্চলের কোনও দলের জন্য ২৮ পয়েন্ট যথেষ্ঠ। কিন্তু ছয় ম্যাচ হাতে রেখে ব্রাজিলের অর্জন এরই মধ্যে ২৭। রাশিয়া সফরকে ঘিরে শক্ত কোনও পরিকল্পনা শুরু করে দিতে পারে তারা। আর বর্তমান ফর্ম ধরে রাখতে পারলে তাদের সঙ্গে রাশিয়া থেকে শিরোপাও দেশে ফিরতে পারে।

কোচ তিতে যেন বর্তমান ব্রাজিলের সাফল্যের কারিগর। পেরুর বিপক্ষে ২-০ গোলে জয়টি ছিল তার টানা ষষ্ঠ; ১৭ গোলের বিপরীতে মাত্র একটি গোল খেয়েছে তারা যেটা আবার আত্মঘাতী। সর্বশেষ জয়টা ব্রাজিলের কোচকে আরও খুশি করতে পারে। গত বৃহস্পতিবার ১-০ গোলে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয়ার্ধে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় পাওয়া পেরুভিয়ানরা লিমায় স্বাগত জানায় সেলেসাওদের। স্বাগতিকরা ছিল আত্মবিশ্বাসে ভরপুর। তার প্রতিফলন ছিল ব্রাজিলের পারফরম্যান্সে, কষ্ট করতে হয়েছে জয়কে হাতের মুঠোয় নিতে। প্রথমার্ধে গোলশূন্য, বিরতির পর ভাগ্যের জোরে সেন্টার ফরোয়ার্ড গ্র্যাব্রিয়েল হেসুস গোলমুখ খুললেন। এরপর রেনাতো অগাস্তোর শেষ আঘাতে অ্যাওয়ে চ্যালেঞ্জটি সফলভাবে মোকাবিলা করে সফরকারী ব্রাজিল। ২৭ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে তারা, তাদের চেয়ে পরিষ্কার চার পয়েন্টে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় স্থানে উরুগুয়ে। স্বাভাবিকভাবে রাশিয়ার মঞ্চটা নাগালের মধ্যে থাকছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। নেইমার, কৌতিনিয়ো, পাউলিনিয়ো ও ফিরমিনোদের নিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের হারানো মর্যাদা ফিরে পাওয়ার প্রস্তুতি তারা নিতে পারে পরের ছয় বাছাইপর্ব ম্যাচে।

সাম্প্রতিক সময়ে ব্রাজিলের কাউন্টার-অ্যাটাক ছিল বিধ্বংসী। এখনও আছে, কিন্তু তিতের অধীনে সেটা আরও বেড়ে গেছে। বল নিয়ন্ত্রণেও বেশ পটু দেখা যাচ্ছে তাদের। এখন সামনের ম্যাচগুলোতে ছোটখাটো বৈচিত্র্য তিতে আনতে পারেন, যেগুলো  পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। গত দুই ম্যাচে মাঝমাঠে অদলবদল সান্তোসের সাবেক কোচকে হাতেনাতে ফল এনে দেয়। মাঝমাঠে অগাস্তোর কারুকার্যের সঙ্গে কৌতিনিয়োর চমৎকার ড্রিবলিংগুলো পেরুভিয়ানদের রক্ষণকে তটস্থ করেছিল। হেসুস তার মতো করে ডিবক্সে জায়গা খুঁজে পেতে সফল হয়েছেন। রাশিয়ান বিশ্বকাপের জন্য এবার তাদের আরও শাণিত করে তুলতে হবে তিতেকে।

কিন্তু ব্রাজিলের কোচকে একটি ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হচ্ছে। একটি গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়ার পর কেমন জবাব দেয় দল, এটা দেখা হয়নি তার। কারণ এখন পর্যন্ত ওই পরিস্থিতিতে পড়তে হয়নি তাকে। সামনে এরকম ঘটনা যে ঘটবে না নিশ্চিত বলা যায় না। ওইসময়টা মোকাবিলা কীভাবে করতে হবে সেটা নিয়েও ভাবতে পারেন তিতে। আর বাছাইপর্বে এমন সফলতার পর কিন্তু ব্রাজিলের কাছে প্রত্যাশাও বেড়ে যাচ্ছে। সেই চাপ কাটিয়ে বরফাচ্ছন্ন রাশিয়াতে শারীরিক ও মানসিকভাবে দলকে চাঙ্গা রাখার কৌশলটা অবশ্যই আয়ত্ত করতে হবে কোচকে।

/এফএইচএম/