রিয়ালকে জেতালেন শেষ মুহূর্তের নায়ক রামোস

আবার শেষ মুহূর্তের নায়ক রামোসঘড়ির কাঁটা তখন নির্ধারিত ৯০ মিনিটের ওপরে, ইনজুরি সময়ের হিসাবে দ্বিতীয় মিনিট। বাঁ প্রান্ত থেকে কর্নার কিক নেওয়ার অপেক্ষায় টোনি ক্রোস। টিভি ক্যামেরা কয়েকবার দেখাল শুধু সের্হিয়ো রামোসকে। যেন তার দিকেই তাকিয়ে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর অগণিত দর্শক। শেষ অঙ্কের নায়কের খ্যাতি পাওয়া রামোস এবারও হতাশ করেননি। তার আরেকটি দুর্দান্ত হেডে বল জড়ায় দেপোর্তিভোর জালে। এবার কোনও ড্র নয়, জয়ই এলো রিয়াল মাদ্রিদের অধিনায়কের গোলে।

পয়েন্ট হারানোর শঙ্কায় থাকা রিয়াল মাদ্রিদ ৩-২ গোলে দেপোর্তিভো লা করুনাকে হারিয়ে লা লিগায় শীর্ষস্থানের ব্যবধান ছয়েই রাখল। ১৫ ম্যাচে ৩৭ পয়েন্ট রিয়ালের, আর বার্সার ৩১।

এ সেন্টার-ব্যাকের গোলে রিয়াল শুধু হারই এড়ায়নি, রেকর্ড টানা ৩৫ ম্যাচ অজেয় থাকল তারা। নিজেদের ইতিহাসে এটিই রিয়ালের টানা সর্বোচ্চ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড।

অথচ ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো ও করিম বেনজিমাকে ছাড়া মাঠে নেমে হারের শঙ্কায় পড়েছিল স্বাগতিকরা। ‘বিবিসি’র অভাব যেন শুরুতে ভালো টের পেয়েছে রিয়াল। প্রথমার্ধে কয়েকটি সুযোগ নষ্ট করে তারা। হামেস রোদ্রিগেস ও আলভারো মোরাতা সুন্দর মুহূর্ত পেয়েও গোলমুখ খুলতে পারেননি। দেপোর্তিভোও কম যায়নি। তবে কোনও দল প্রথম ৪৫ মিনিট গোল পায়নি। বিরতির পর ম্যাচ রূপ নেয় আক্রমণ পাল্টা আক্রমণে। যার পুরস্কার হাতেনাতে পায় রিয়াল। ৫০ মিনিটে আলভারো মোরাতা বক্সের বাইরে থেকে ডানপায়ের উঁচু শটে সফল হন। রিয়াল এগিয়ে যায় ১-০ গোলে। কিন্তু জোসেলোর দুই মিনিটের ব্যবধানে জোড়া গোলে বড় ধরনের ধাক্কা খায় তারা। ৬৩ ও ৬৫ মিনিটে তার গোলে ২-১ এ এগিয়ে থেকে স্বাগতিকদের চমকে দেয় দেপোর্তিভো। রিয়ালকে মৌসুমের প্রথম হারের তেঁতো স্বাদ দেওয়ার জন্যই হয়তো অপেক্ষা করছিল তারা। কিন্তু সেটা হতে দেননি ইসকোর বদলি নামা মারিয়ানো দিয়াস। খেলার ৬ মিনিট বাকি থাকতে ডান প্রান্ত থেকে লুকাস ভাসকেসের সুন্দর ক্রসে বল পান তিনি। দেপোর্তিভো গোলরক্ষক টাইটনকে কোনও সুযোগ না দিয়ে ২-২ গোলে সমতা ফেরান দিয়াস।

এরপর এলো সেই নাটকীয় মুহূর্ত। ইনজুরি সময়ের শেষ পাঁচ মিনিটকেই নাটকের শেষ অঙ্ক হিসেবে বেছে নিয়েছিল রিয়াল। যেখানে নিঃসন্দেহে নায়ক রামোস। তার গোলের জন্যই সময়টা থেমে গিয়েছিল। যখন ক্রোস কর্নার কিক নিচ্ছিলেন তখন বারবার রামোসের চেহারা মনে করিয়ে দিয়েছে কয়েকটি ম্যাচের নাটকীয়তাকে। গত সপ্তাহেই তো বার্সেলোনার বিপক্ষে ক্লাসিকোয় দলের ত্রাতা হয়েছিলেন রিয়ালের অধিনায়ক। এর আগে উয়েফা সুপার কাপ ও ২০১৪ সালের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে তার শেষ মুহূর্তের গোলেই নির্ধারিত সময়ে ড্র করে রিয়াল। অতিরিক্ত সময়ে খেলে তারা জিতে নেয় ও্ই দুই টুর্নামেন্টের শিরোপা। তবে এবার আর ড্র নয়, টানটান উত্তেজনায় ভরা শেষ মুহূর্তে গোল করে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়লেন রামোস, হয়েছেন ম্যাচ সেরাও।

আগামী বৃহস্পতিবার ক্লাব বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের আগে এমন জয় রিয়ালকে আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। সূত্র- মার্কা
/এফএইচএম/