বিশ্ব ফুটবল র্যাংকিংয়ে ৫৪ নাম্বারে অবস্থান করছে ভারত, আর বাংলাদেশ আছে ১১৪ নাম্বারে। অর্থাৎ ৬০ ধাপ এগিয়ে থাকা ভারত শক্তিমওার দিক দিয়ে অবশ্যই বাংলাদেশের চেয়ে অনেক এগিয়ে। সিনিয়র ফুটবলে সাতবারের মুখোমুখিতে ছয়টি হারের বিপরীতে মাত্র একটি ড্র করতে পেরেছে বাংলাদেশ। তা চলতি সাফের গ্রুপ পর্বতেই। চার দিন আগের সেই ড্র’ই ফাইনালে অনুপ্রেরণা জুগাচ্ছে বাংলাদেশকে।
কোচ গোলাম রব্বানি ছোটন সম্ভবত তার দলের ছক সাজাবেন ৪-৩-৩ ছকে। সেই দলটা কেমন হতে পারে দেখে নেওয়া যাক-
গোলরক্ষক :
সাবিনা আক্তার- নিঃসন্দেহে টুর্নামেন্টের সেরা গোলরক্ষক বাংলাদেশের সাবিনা আক্তার। ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ৫-৬টি নিশ্চিত গোল রক্ষা করেছেন তিনি। সময়মত পোষ্ট ছেড়ে বের হয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা খুবই ভালো তার। সেট পিস থেকে আসা এরিয়াল বলগুলো আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে গ্রিপে নিচ্ছেন। তবে নিচ থেকে বিল্ডআপ অ্যাটাক করার ক্ষেত্রে কিছুটা দুর্বলতা আছে তার।
রক্ষণভাগ :
চার ডিফেন্ডারের গড় বয়স মাত্র ১৬! কিন্তু মাঠে ট্যাকল, ইন্টার সেভ, হেডিং, ম্যান মার্কিং, কাভারিং সবকিছুতেই পরিপক্কতার ছাপ। ফলে রক্ষনভাগটা থাকছে জমাট। দুই স্টপার শামসুন্নাহার ও মাসুরা পারভীনের মধ্যে বোঝাপড়াটাও দারুণ । উচ্চতা ও শারীরিকভাবে শক্তিশালী হওয়ায় এরিয়াল বলে দুজনেই খুব ভালো। দুই টপারের সমস্যা বলতে মাঝে মাঝে মনযোগ হারিয়ে ফেলা।
দুই ফুলব্যাক শিউলি আজম ও নার্গিস সুলতানা অ্যাটাকিংয়ে ভালো অবদান রাখছে। ট্যাকল ও ইন্টারসেভ নিখুঁত। কিন্তু ওভারলেপিংয়ে গিয়ে সময়মত রক্ষণভাগে যোগ দিতে পারছে না।
মাঝমাঠ :
বাংলাদেশ দলের হোল্ডিং মিডফিল্ডার মৌসুমী জাহানকে টুর্নামেন্টের সেরা মিডফিল্ডারের খেতাব দেওয়ায় যায়। অনূর্ধ্ব ১৬ দলে খেলে আসা এ মিডফিল্ডারের পজিশন জ্ঞান খুব ভালো। দুই সাইড ব্যাকের ভুলক্রটি তিনিই সামলাচ্ছেন। অন্য দুই ইনসাইড অ্যাটার্কিং মিডফিল্ডারের একজন মাইনু মারমার কিছুটা ফিটনেসের ঘাটতি আছে। তবে টানা চার সাফ খেলা এ মিডফিল্ডার অভিজ্ঞ হওয়ায় নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন। অন্য মিডফিল্ডার মারিয়া মান্ডা প্রচুর পরিশ্রমী। মিস পাসের প্রবণতা থাকলেও প্রতিপক্ষের পা থেকে বল কেড়ে নিতে জুড়ি নেই তার। দুঃখের ব্যাপার পুরো মিডফিল্ড লাইনে কোনও প্লে মেকার নেই।
ফরোয়ার্ড লাইন :
বাংলাদেশ দলের সবচেয়ে শক্তিশালী বিভাগ । অধিনায়ক সাবিনা খাতুন , কৃষ্ণা ও স্বপ্না। এমন ফরোয়ার্ড লাইন থাকলে যে কোনও কোচই নির্ভার থাকতে পারেন। সাবিনা ও স্বপ্না নিখুঁত ফিনিশার। টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের ১২ গোলের মধ্যে দুজনে মিলে করেছেন ১১ গোল । সাবিনা প্রয়োজনে নিচে নেমে অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারের ভূমিকা পালন করে থাকেন। অন্যতম কুশলী ফুটবলার কৃষ্ণা এখনও গোল না পেলেও প্রতিপক্ষ রক্ষভাগের ওপর চাপ প্রয়োগ করে থাকেন তিনিই।
/কেআর/