দুর্ভাগ্যজনক হারে বাংলাদেশের মূল পর্বে খেলার সামনে এখন প্রশ্নচিহ্ন। আগামী বুধবার শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে হারাতেই হবে, আর এরপর বসতে হবে হিসাব-নিকাশে। ‘বি’ গ্রুপে তিনটি করে ম্যাচ খেলে উজবেকিস্তান, তাজিকিস্তান আর বাংলাদেশের সংগ্রহ ৯, ৭ ও ৪ পয়েন্ট। বুধবারের অন্য ম্যাচে স্বাগতিক তাজিকিস্তান খেলবে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে। বাছাই পর্বের ১০ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন, সেরা পাঁচ রানার্সআপ আর স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়া অংশ নেবে আগামী বছর অনুষ্ঠেয় মূল পর্বে।
আগের ম্যাচে মালদ্বীপের বিপক্ষে আক্রমণের ঝড় তুলেছিল বাংলাদেশ। তবে আজ সম্পূর্ণ বিপরীত অভিজ্ঞতা হয়েছে বাদশা-জাফর ইকবালদের। উজবেকদের একের পর এক আক্রমণে ব্যতিব্যস্ত ছিল বাংলাদেশের ডিফেন্স। সুযোগ যে একেবারে আসেনি, তা নয়। দশম মিনিটে মাহবুবুর রহমান সুফিল বল পোস্টে রাখতে পারলে এগিয়ে যেতো বাংলাদেশ। এরপর অবশ্য প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকানোর ব্যস্ততাই ছিল বেশি। কিন্তু শেষ মুহূর্তের গোলে হার এড়ানো যায়নি।
তবু শিষ্যদের পারফরম্যান্সে খুশি মাহবুব হোসেন রক্সি। খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের কোচ বলেছেন, ‘উজবেকিস্তান আমাদের চেয়ে ট্যাকটিক্যালি ও টেকনিক্যালি শক্তিশালী। তবে ওরা তেমন গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। দ্বিতীয়ার্ধে একবারই ভালো সুযোগ পেয়েছিল ওরা, কিন্তু গোল করতে পারেনি। পুরো ম্যাচেই ছেলেরা খুব ভালো খেলেছে, কৌশল অনুযায়ী পারফর্ম করেছে। কিন্তু দুর্ভাগ্য, ম্যাচ শেষ হওয়ার ৩০ সেকেন্ড আগে গোল খেতে হয়েছে।’
ম্যাচের ট্যাকটিকস নিয়ে কোচের বিশ্লেষণ, ‘তাজিকিস্তানের বিপক্ষে যে কৌশলে খেলেছিলাম, আজ সেই কৌশলই অনুসরণ করেছি। তাই আধিপত্য থাকলেও উজবেকিস্তান আমাদের চাপে ফেলতে পারেনি। মাঝমাঠে ব্লক ভালো হয়েছে, ডিফেন্সও ভালো খেলেছে। তাই ওরা তেমন গোলের সুযোগ পায়নি। শেষ মুহূর্তের ওই গোল বাদ দিলে আমাদের ছেলেরা খুব ভালো খেলেছে, ওরা প্রতি ম্যাচেই উন্নতি করছে। ম্যাচ শেষে প্রতিপক্ষের কোচও আমাদের দলের অনেক প্রশংসা করেছেন। নেহাত ভাগ্য খারাপ, তাই হেরে গেলাম। মূলে পর্বে যাওয়া অনেক কঠিন হয়ে পড়লো আমাদের জন্য।’
অতি কষ্টে জিতলেও উজবেকিস্তানের কোচ আলেকজান্দার মোচিনভ খুশি, ‘আমাদের ভাগ্য ভালো যে বাংলাদেশের বিপক্ষে জিততে পেরেছি। শেষ মিনিটে গোল হয়েছে, আর আমি তাতেই খুশি। আমার দল লড়াই করেই ম্যাচ জিতেছে।’