সাবিনার জন্য ট্রফি জিততে চান মারিয়ারা

শেষ বাধা টপকাতে প্রস্তুত বাংলাদেশের মেয়েরানেপাল, ভুটান ও ভারতের বিপক্ষে একের পর এক জয়ে আনন্দে ভেসেছে তহুরা-মনিকা-শামসুন্নাহাররা। কিন্তু কোথাও যেন ছিল শূন্যতা। তারা হয়তো খুঁজে ফিরছিলেন তাদের প্রিয় বন্ধু সাবিনা ইয়াসমিনকে। সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ চ্যাম্পিয়নশিপসে তাদের সঙ্গেই তো খেলার কথা ছিল কলসিন্দুরের প্রতিভাবান ফুটবলারের। কিন্তু মাঠে পা পড়েনি সাবিনার। গত ২৬ সেপ্টেম্বর মাত্র ১৪ বছর বয়সে না ফেরার দেশে চলে গেছেন তিনি। তবে পরপারে থাকা বন্ধুকে খুশী করার উপলক্ষটা কাজে লাগাতে চায় মেয়েরা। রবিবার ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ট্রফিটা সাবিনাকে উৎসর্গ করতে চান মারিয়ারা।

লিগ পর্বের তিন ম্যাচে ১২ গোল করেছে অজেয় বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডাররা কোনও পাত্তাই পায়নি স্বাগতিকদের কাছে। ফাইনালেও গোলের ধারা অব্যাহত রাখতে চাইছেন কিশোরীরা। আরও একটি চাওয়া- ট্রফিটা। দেশের মাঠে প্রথমবারের মতো কোনও আসরের ফাইনাল, জেতার জন্য মরিয়া গোলাম রব্বানী ছোটনের শিষ্যরা।

তাদের অনুপ্রাণিত করছে সাবিনাকে ট্রফি উৎসর্গ করার তাড়না। ফাইনালটা শুধু দেশবাসীর জন্য নয়, প্রয়াত বন্ধুর জন্য জিততে চান অধিনায়ক মারিয়া মান্ডা। তিনি ম্যাচের আগের সংবাদ সম্মেলনে বলছেন, ‘সাবিনা যদি আজ আমাদের সঙ্গে থাকতে পারতো, তাহলে আমাদের দলটা আরও শক্তিশালী হতো। আমরা তার জন্য খেলবো এবং জিতে ট্রফিটা তাকে উৎসর্গ করবো।’

সাবিনা ইয়াসমিনম্যাচের পরিকল্পনা নিয়ে স্বাগতিক অধিনায়ক বলেছেন, ‘আমরা আগের তিনটা ম্যাচ জিতেছি। কাল (রবিবার) আমাদের ফাইনাল। আমরা ভালো খেলার চেষ্টা করবো। আমাদের সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে খেলব। ভারত শক্তিশালী, আমরাও। আমাদের চিন্তা থাকবে আমরা ১৫ মিনিটের মধ্যে গোল দিব।’

লিগের তিনটি ম্যাচে তেমন কোনও ঝড়-ঝাপ্টা পোহাতে হয়নি বাংলাদেশকে। দলের অন্যতম ডিফেন্ডার নিলুফার ইয়াসমিন নীলা আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে বলেছেন, ‘গত তিন ম্যাচে যেভাবে খেলেছি, ফাইনালে সেভাবে খেলে চ্যাম্পিয়ন হতে চাই। এবার লিগ ম্যাচে একবার ওদের হারিয়েছি, এটা আমাদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়েছে। তবে জানি, ফাইনালে ওরাও লড়বে। কিন্তু আমরা নিজেদের খেলাটা খেলে জিততে চাই।’

লিগে দুটি ম্যাচে ম্যাচ সেরা মনিকা চাকমা টানা ‍দ্বিতীয়বার ভারতকে হারাতে চান। আগের ম্যাচে ৩-০ গোলে জিতেছিল বাংলাদেশ। এবারও তেমন কিছু হবে বিশ্বাস তার, ‘একবার ওদের হারিয়েছি, আবারও হারাতে চাই। নিজেদের মধ্যে আমরা আলোচনা করেছি। আগের ম্যাচে যে ভুল হয়েছে, সেটা নিয়ে কোচ আমাদের কাজ করিয়েছেন। ওই ম্যাচে গোল করেছিলাম, ফাইনালেও গোল করতে চাই।’

আরেক ফরোয়ার্ড ঋতুপর্ণা দর্শকদের পাশে চাইলেন, ‘মূল লক্ষ্য ছিল ফাইনাল খেলা। এখন আমরা জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে চাই। দর্শক বেশি মাঠে এলে আমাদের জন্য সুবিধা।’

ভারতের অধিনায়ক মিডফিল্ডার বন্যা কবিরাজ ফাইনালে সেরাটা দেওয়ার অপেক্ষায়, ‘লিগের ম্যাচে হেরেছি। তবে ফাইনালে জিততে চাই। ফাইনালটা আগের ম্যাচের মতো হয়তো হবে না। আমরা আক্রমণাত্মক খেলেই শিরোপা জিতবো।’