মোহামেডানের দুর্দশা কাটবে কবে?

মোহামেডান যেন ক্রমেই দূর আকাশের তারা!দেশের দুই জনপ্রিয় ক্লাব আবাহনী ও মোহামেডান। আকাশী-হলুদরা নিজেদের সাফল্য ধরে রাখতে পারলেও সাদা-কালোদের অবস্থা সঙ্গীন! আবাহনী নিজেদের মান ধরে রেখেছে। ঘরোয়া ফুটবলে একের পর এক শিরোপা জিতে সমর্থকদের মন জয় করে যাচ্ছে।

বিপরীতে মোহামেডান যেন ক্রমেই দূর আকাশের তারা!আন্তর্জাতিক আসর তো দূরে থাক, ঘরোয়া আসরে কবে ট্রফি জিতেছে; তা রীতিমত গবেষণার বিষয়।  শুধুই নামের ভারে চলছে ক্লাবটি।  সাফল্য পেতে হবে- এদিকে যেন দৃষ্টি ধূসর হয়ে গেছে মোহামেডানের।  মতিঝিলের ক্লাব প্রাঙ্গনে আগের সেই ভিড় নেই।  মাঠেও হাতে গোনা সমর্থক।  শুধু চিৎকার আর চেচামেচিতে নিজেদের কষ্টের কথা জানান দিতেই যেন উপস্থিত হন তারা।

করুণ এই দশা রয়েছে এবারও।  ব্যর্থতার একটি মৌসুম অতিবাহিত করেছে ঐতিহ্যবাহী মোহামেডান।  ফেডারেশন কাপের কোয়ার্টার ফাইনাল, লিগে পঞ্চম এবং সর্বশেষ স্বাধীনতা কাপে গ্রুপ পর্ব পর্যন্ত ছিল তাদের অভিযান।  শুধু যে এই বছরই খারাপ গেছে তা কিন্তু নয়।  পেশাদার লিগের একটি ট্রফিও তাদের নেই।  সবশেষ প্রিমিয়ার লিগের ট্রফি জিতেছে ২০০২ সালে। এছাড়া ২০০৯ সালে ফেডারেশন কাপ, ২০১৩ সালে সুপার কাপ ও সর্বশেষ ২০১৪ সালে স্বাধীনতা কাপ জয়ের ট্রফি রয়েছে ঝুলিতে।

ক্লাবটির এমন ব্যর্থতায় কারও যেন কোনও বিকার নেই।  দলটির সাবেক খেলোয়াড় ও কোচ সাইফুল বারী টিটু হতাশ হয়েই বাংলা ট্রিবিউনকে বললেন,‘শুধু কোচ, খেলোয়াড় ও ম্যানেজার দিয়ে হবে না।  সবার অংশগ্রহণ লাগবে।  লক্ষ্য থাকবে শীর্ষস্থানে যাবো-যেমনটা আবাহনী চিন্তা করে। এই চিন্তা মোহামেডানে কম।  তাদের সেই মানসিকতাটা নেই।’

ফুটবল দলটির প্রতি যে অবহেলা হচ্ছে-তা একভাবে স্বীকার করে নিয়েছেন সাবেক এই তারকা, ‘এবার কোচ নিয়ে কত কিছু হল।  নাইমুদ্দিন থাকলো, আবার নেই। এসব দলে প্রভাব পড়ে। টিমকে এক সুতোয় গাঁথতে হবে। এছাড়া ভালো দল হচ্ছে না, শিরোপাও নেই।  সমর্থকদের চাপ ছিল আগে, এখন সেটাও নেই।  অবহেলা থেকেই হচ্ছে সবকিছু।’

দলটির আরেক সাবেক তারকা যিনি ক্লাবের হয়ে একাধিক শিরোপা জিতেছেন।  অধিনায়কত্বের পাশাপাশি কোচিংও করিয়েছেন।  সেই জুয়েল রানা সরাসরি বলে দিলেন ব্যর্থতার পেছনে দায়ী কারা, ‘ব্যর্থতার মূল কারণ হল ম্যানেজমেন্ট।  আগে অফিসিয়ালরা ক্লাবকে নিয়ে ভালো কিছু চিন্তা করতো।  বর্তমানের অফিসিয়ালরা ক্লাবের চেয়ে নিজেদের ব্যক্তিগত চিন্তা বেশি করছে।  নিজেদের স্বার্থ বেশি দেখছে।  জবাবদিহিতার কোনও ব্যবস্থা নেই।  ফল এখানে ভালো কিংবা খারাপ হলেই কী? ক্লাবের কী হলো, না হলো-কর্মকর্তাদের কোনও চিন্তা নেই।  তারা নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত।’

মোহামেডান ক্লাবে দীর্ঘদিন ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করে আসা আমিরুল ইসলাম বাবু স্বাধীনতা কাপ চলাকালীন সময়ে প্রেসবক্সে এসে নতুন করে প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছিলেন, ‘ভালো দল গড়তে হলে তো অনেক টাকার প্রয়োজন।  এই দল গড়তে গিয়েই তো অনেক ব্যয় হয়েছে।  তবে আশা করছি আগামীতে ভালো কোচ থাকবে।  ভালো দলও হবে, যাতে সাফল্য আসে।’

এমন প্রতিশ্রুতি প্রতিটি মৌসুমের আগেই দেওয়া হয়। তবে তা বাস্তবে রূপ নিয়েছে কমই।  আগামীতে হবে কিনা সেটাই এখন দেখার বিষয়।