অথচ কয়েক দিন আগে জাতীয় দল নিয়ে নতুন পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন ওর্ড। পরিকল্পনার কপি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) কাছে জমা দেওয়ার কথাও বলেছিলেন। কিন্তু সেই পরিকল্পনা আর আলোর মুখ দেখলো না, কাগজে-কলমেই রয়ে গেলো। গত ২৭ মার্চ লাওসের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্রয়ের পর যখন নতুন দিনের স্বপ্ন দেখছিল দেশের ফুটবল, ঠিক তখনই স্বপ্নভঙ্গ।
শুধু জাতীয় দল নয়, বয়সভিত্তিক দলগুলো নিয়েও কাজ করেছেন ওর্ড। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ চলার সময় বেশ কয়েকজন কোচ ও খেলোয়াড়ের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি, তাদের বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়েছেন। নতুনভাবে জাতীয় দল গড়ার কাজ শুরু করে দিয়েছিলেন। কিন্তু শুরু হতে না হতেই তা শেষ।
২০১০ সালে ওর্ডের কোচিং ক্যারিয়ার শুরু থাইল্যান্ডেই। দেশটির বেক তেরো সাসানা ও মুয়াংথং ইউনাইটেড ক্লাবের কোচের দায়িত্ব পালনের পর ২০১৩ সালে সহকারী কোচ হিসেবে যোগ দেন অস্ট্রেলিয়ার পার্থ গ্লোরি ক্লাবে। সেখান থেকেই গত বছরের জুনে চলে আসেন বাংলাদেশে। মাত্র ১০ মাস পরই থাইল্যান্ড আবার তার ঠিকানা।
ওর্ডের কোচিংয়ে সফলই বলতে হবে বাংলাদেশকে। লাওসের বিপক্ষে একমাত্র আন্তর্জাতিক ম্যাচে দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও শেষ দিকে দুর্দান্ত খেলে ড্র করেছেন মামুনুলরা। লাওস সফরের আগে থাইল্যান্ডে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছিল বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে শেষ মুহূর্তের গোলে হেরে গেলেও পরেরটি জিতেছিল তৌহিদুল আলম সবুজের হ্যাটট্রিকে। এমন পারফরম্যান্সের জন্যই ওর্ডের সঙ্গে চুক্তি নবায়নের চিন্তা-ভাবনা করছিলেন বাফুফে কর্মকর্তারা। কিন্তু তা আর হলো না।
হঠাৎ কেন বাংলাদেশকে বিদায় জানালেন ওর্ড? বাফুফে সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম সোহাগ বাংলা ট্রিবিউনকে জানালেন, কারণটা নেহাত ‘পারিবারিক’, ‘গত ১ এপ্রিল ওর্ড আমাদের জানিয়েছেন, তিনি পরিবার সহ থাইল্যান্ডে থিতু হতে চান। আর তাই বাংলাদেশে আর চাকরি করতে চান না। থাইল্যান্ডে একটা ভালো অফার পাওয়ার কথা জানিয়ে ছাড়পত্র দেওয়ার অনুরোধও করেন। আমরা তার সঙ্গে কথা বলেই এ বিষয়ে সমঝোতা করেছি। তিনি আর আমাদের সঙ্গে নেই। এখন আমাদের নতুন কোচ খুঁজতে হবে। তবে এটা ঠিক, ওর্ড থাকলে তার সঙ্গে বাফুফের চুক্তির মেয়াদ বাড়তে পারতো। সাফ ফুটবল সহ বেশ কয়েকটি প্রতিযোগিতা তার অধীনেই খেলতো বাংলাদেশ।’