হতাশার সঙ্গে তৃপ্তিও আছে সাবিনার

সাবিনা খাতুনভারতীয় মহিলা ফুটবল লিগে প্রথমবার খেলেই নিজের জাত চিনিয়েছেন সাবিনা খাতুন। যদিও বাংলাদেশ অধিনায়কের দল সেথু এফসি সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিয়েছে। তাতে ফাইনাল খেলতে না পারার হতাশা থাকলেও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট এই ফরোয়ার্ড।

সেথু এফসির সর্বোচ্চ গোলদাতা বাংলাদেশ মহিলা দলের অধিনায়ক, সাত ম্যাচে করেছেন ৬ গোল। যদিও শেষ দুটি ম্যাচে গোল পাননি সাবিনা। সেমিফাইনালের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে স্বরূপে দেখা যায়নি তাকে। এই অংশ বাদ দিলে ভারতীয় মহিলা ফুটবল লিগে নিজের প্রথম মিশনের সবকিছুতে তার কণ্ঠে তৃপ্তিই ঝরেছে ‘বাংলা ট্রিবিউন’-এর সঙ্গে কথোপকথনে।

ভারতীয় মহিলা ফুটবল লিগে তামিলনাড়ু প্রদেশের সেথু এফসির হয়ে খেলেছেন দুই বাংলাদেশি। বাংলাদেশ জাতীয় দলের অধিনায়ক সাবিনার সঙ্গে ছিলেন অনূর্ধ্ব-১৬ দলের কৃষ্ণা রাণী সরকার। সাবিনার পারফরম্যান্সের কারণে কৃষ্ণা সরকার খুব একটা খেলার সুযোগ পাননি। শুধু কৃষ্ণা নয়, ইংলিশ লিগে খেলা ভারতীয় বংশোদ্ভূত তানভি হ্যান্সকেও বেঞ্চে বসে থাকতে হয়েছে।

প্রথমবার অংশ নিয়েই সাবিনা করেছেন বাজিমাত। নিজের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্টই ঝরল তার কণ্ঠে, ‘লিগে ভালো করার আশা নিয়েই ভারতে এসেছিলাম। আমি আমার মতো চেষ্টা করে গেছি, গোলও পেয়েছি। নিজের পারফরম্যান্স খুশিই বলতে পারেন। হয়তো আরও ভালো হতে পারতো; তবে প্রথমবার যা হয়েছে, তাতেই খুশি।’

ম্যাচের ৬০ মিনিটে মাঠের বাইরে চলে আসেন সাবিনা। তার জায়গায় কৃষ্ণা নেমেও কিছু করে দেখাতে পারেননি। সাবিনার প্রশ্ন অবশ্য অন্য জায়গায়, ‘আমাদের দুর্ভাগ্য যে ফাইনাল খেলা হলো না। দল চেষ্টা করেছে, আমিও চেষ্টা করেছি। কিন্তু ফাইনালে খেলা হলো না। তবে আমি না হয় মাঠের বাইরে চলে গেছি, কিন্তু কৃষ্ণাকেও কেন শেষের দিকে সাইড লাইনে চলে আসতে হলো, বুঝতে পারছি না।’

প্রথমবার অংশ নিয়েই সফল, সাবিনা চাইছেন আগামীতেও খেলতে। তার মতো অন্যরা যেন সুযোগ পায়, সেই আশাও করেছেন তিনি, ‘অন্তত একাদশে দুজন করে বিদেশি হলে দলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও ভালো হতো। বিদেশি খেলোয়াড়দের খেলার সুযোগ হতো। এখন ভবিষ্যতে আবার খেলতে পারব কিনা জানি না। তবে সুযোগ পেলে খেলতে চাই। এমন লিগে খেললে নিজের পারফরম্যান্স আরও বাড়িয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকে। শেখার সুযোগও আছে।’

সেথু এফসিতে একটি পরিবার হয়ে ছিলেন সাবিনারা। বিদায়বেলায় সেই পরিবার নিয়ে বললেন, ‘সবার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। ম্যাচে কিংবা ম্যাচের বাইরে কোনও সমস্যা হলে সবার সঙ্গে তা ভাগ করে নেওয়া গেছে। ভুল-ত্রুটি নিয়েও কথা বলতে কেউ কার্পণ্য করেনি।’