মকপো আন্তর্জাতিক ট্রেনিং সেন্টারে কোচ জেমি ডে দুই অর্ধে পরখ করে দেখেছেন শিষ্যদের। ম্যাচের ২২ মিনিটে প্রথম গোল হজম করে বাংলাদেশ। ডিফেন্ডার তপু বর্মনের শরীরে লেগে বল দিক পাল্টে জড়িয়ে যায় জালে। গোলরক্ষক আশরাফুল ইসলামের কিছুই করার ছিল না। ওই গোলে পিছিয়ে থেকেই প্রথমার্ধ শেষ করে সফরকারীরা।
গোল শোধে মরিয়া বাংলাদেশ দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই ছিল আক্রমণাত্মক। ৪-২-৩-১ ফর্মেশনে খেলে একাধিক সুযোগও তৈরি করেছে। প্রতিআক্রমণ থেকেও গোলের চেষ্টা করেছে। যদিও তরুণ মিডফিল্ডার রবিউল হাসান, মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ ও শাখাওয়াত রনি নষ্ট করেছেন সুযোগগুলো। বসে থাকেনি গুয়াংজু, বিদেশি খেলোয়াড় নামিয়ে নিজেদের শক্তি আরও বাড়িয়ে নেয় তারা।
ভাগ্যও সহায় ছিল স্বাগতিকদের। দ্বিতীয়ার্ধের ইনজুরি টাইমের শেষ মিনিটে বাংলাদেশের আশা একেবারে ভেঙে দেয় তারা দ্বিতীয়বার লক্ষ্যভেদ করে। কর্নার থেকে উড়ে আসা বল বদলি গোলরক্ষক আনিসুর রহমান ঠিকমতো ‘ক্লিয়ার’ করতে না পারায় দূর পাল্লার শটে গুয়াংজু ব্যবধান ২-০ করে।
ইংলিশ কোচ জেমি ডে’র অধীনে তিনটি অনুশীলন ম্যাচ খেললো বাংলাদেশ। প্রথম দুটি ড্র হয়েছে, আর তৃতীয়টিতে পেতে হলো হারের তিক্ততা। জেমি অবশ্য দলের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেছেন, ‘প্রথম গোলটিকে আত্মঘাতী বলতে পারেন। আর দ্বিতীয়টি হয়েছে শেষ মিনিটে, ২০ গজ দূর থেকে নেওয়া শটে। এমনিতে দল ভালো লড়াই করেছে। প্রাপ্ত সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারলে ম্যাচ ড্রও হতে পারতো। আমি খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে খুশি।’
ম্যানেজার সত্যজিত দাশ রুপুর বক্তব্য, ‘গুয়াংজু এফসি আমাদের চেয়ে শক্তিশালী দল। আমরা আমাদের সাধ্য মতো চেষ্টা করেছি। প্রথম গোলটি তপুর শরীরে লেগে হয়েছে। গোলরক্ষকের কিছুই করার ছিল না। শেষেরটি (দ্বিতীয় গোল) ঠিকমতো ক্লিয়ার হলে হারের ব্যবধান কম হতো। তবে আমরা একাধিক সুযোগ নষ্ট করেছি। গোল শোধও হয়ে যেতে পারতো। কিন্তু শাখওয়াত রনি-আব্দুল্লাহরা গোল করতে পারেনি।’
প্রস্তুতি ম্যাচে হারের দুঃখ থাকলেও কোচ কিংবা ম্যানেজার কেউই পারফরম্যান্স নিয়ে খুব বেশি হতাশ নন। নিজেদের ঝালিয়ে নিতে শুক্রবার দ্বিতীয় ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ।