প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞ মুন্না-পুশকিনের পরিবার

জাতীয় দলের সাবেক খেলোয়াড়ের পরিবারের হাতে পুরস্কার তুলে দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (ছবি: ফোকাস বাংলা)জাতীয় ফুটবল ও হকিতে অনেক বড় অবদান মোনেম মুন্না ও জাহিদুর রহমান পুশকিনের। দুজনেই মারা গেছেন ২০০৫ সালে। তারপর থেকে তাদের পরিবার কষ্টে জীবন পার করেছেন। এবার এই দুই পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মুন্না ও পুশকিনের পরিবার এবং স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের সদস্য, জাতীয় দল ও আবাহনীর আরেক সাবেক ফুটবলার শেখ আশ্রাফ আলীকে আবাসিক ফ্ল্যাট বরাদ্দ দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে এই উপহার পেয়ে উচ্ছ্বসিত মুন্নার স্ত্রী ইয়াসমীন মোনেম সুরভী, পুশকিনের স্ত্রী ফাহমিদা রহমান ও আশ্রাফ। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) প্রেসিডেন্ট কাজী সালাউদ্দিন, সাবেক ফুটবলার ও সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মুর্শেদী, বাফুফে সহ-সভাপতি কাজী নাবিল আহমেদ,আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক হারুনুর রশিদ এবং বাফুফে সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম সোহাগের উপস্থিতিতে তাদের হাতে মিরপুরে ফ্ল্যাটের বরাদ্দপত্র তুলে দেন শেখ হাসিনা।

আবাহনীকে পাঁচবার লিগ ও তিনটি ফেডারেশন কাপ জেতানো মুন্নার হাত ধরে আন্তর্জাতিক আসরে প্রথম ট্রফি পায় বাংলাদেশ। ১৯৯৫ সালে মিয়ানমারে চার জাতির আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তার দল। শুধু দেশেই নয়, ভারতের ইস্ট বেঙ্গলের হয়ে দেশের বাইরে সুনাম কুড়িয়েছেন তিনি। খেলা ছাড়ার পর আবাহনীর ম্যানেজারের দায়িত্বে থাকার সময় অসুস্থ হয়ে পড়েন মুন্না। কিডনি প্রতিস্থাপনের পর বেশ কিছুদিন ভালো ছিলেন এই ডিফেন্ডার। কিন্তু আবারও অসুস্থ হলে মৃত্যুর কাছে হার মানেন। 

এতদিন পর হলেও প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে এমন উপহার পেয়ে কৃতজ্ঞ মুন্নার স্ত্রী ইয়াসমীন মোনেম। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেছেন, ‘আমাদের জন্য এটা অনেক খুশির খবর। অনেকেই অনেক কিছু আশা দিয়েছিল, কিন্তু পূরণ করেনি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোয় আমরা বেশ খুশি।’

প্রধানমন্ত্রী এসময়ে তাদের খোঁজ-খবরও নিয়েছেন জানান ইয়াসমীন, ‘আমরা কেমন আছি। ছেলে ফুটবল খেলে কিনা এমন নানা বিষয়ে খোঁজ-খবর নিয়েছেন তিনি। আমার বিশ্বাস ছিল, প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে একদিন ডাক পাব। অবশেষে পেয়েছি। এখন অনেক ভালো লাগছে।’

৮০’র দশকে আবাহনীর ফরোয়ার্ড পজিশনে খেলা পুশকিন ছিলেন আবাহনীর অন্তঃপ্রাণ। জাতীয় পর্যায়ে হকিকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য তার চেষ্টার কম ছিল না। ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় মারা যান তিনি।

প্রয়াত এই কর্মকর্তার স্ত্রী ফাহমিদা প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে এমন উপহার পেয়ে আপ্লুত, ‘প্রধামন্ত্রীর কাছ থেকে উপহার পেয়ে খুবই ভালো লাগছে। আগে যখন তিনি বিরোধী দলীয় নেত্রী ছিলেন, তখনও আমাদের সাহায্য করেছিলেন।’