কিন্তু এশীয় পর্যায়ে আজও কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পায়নি আবাহনী। এএফসি প্রেসিডেন্ট কাপে পাঁচবার এবং এএফসি কাপে দুবার অংশ নিলেও কখনও গ্রুপ পর্বের গণ্ডি পার হতে পারেনি দলটি।
কেন পারেনি তা নিয়ে নানা জনের নানা মত। জাতীয় দলের সাবেক স্ট্রাইকার শেখ মোহাম্মদ আসলামের বক্তব্য, ‘আমরা যখন খেলতাম তখন দলে বেশ কয়েকজন ভালো মানের ফুটবলার ছিল। তাদের দক্ষিণ এশিয়ার যে কোনও দলের বিপক্ষে লড়াই করার সামর্থ্য ছিল। কিন্তু অনেক দিন ধরেই ফুটবলের মানের অবনতি হচ্ছে। জাতীয় দলের খারাপ অবস্থা। আর তার প্রভাব পড়েছে ক্লাব ফুটবলে।’
১৯৮৯ সালে আবাহনীর জার্সিতে ভারতের নাগজি ট্রফি জিতেছিলেন আসলাম, হয়েছিলেন টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়। ভারতেরই উদাহরণ টেনে তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘একসময় আমরা ভারতের ক্লাবগুলোর সঙ্গে লড়াই করতাম, ভারতে গিয়ে শিরোপা জিততাম। কিন্তু এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। ভারতের ফুটবল এগিয়ে যাচ্ছে, আর আমরা দিন দিন পিছিয়ে পড়ছি।’
এএফসি কাপে দুবার খেললেও সাফল্যের দেখা পাননি অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার ওয়ালী ফয়সাল। তার যুক্তি, ‘অনেক সময় আমাদের দলে বিদেশি খেলোয়াড় কম থাকে, আবার প্রস্তুতিও নেওয়া হয় কম। ঘরোয়া মৌসুম শেষে কিংবা শুরু হওয়ার আগে এএফসি কাপ হলে ভালো ফল করা বেশ কঠিন হয়ে যায়। আমরা অবশ্য বেশ কয়েকবার ভালো খেলেও বিদায় নিয়েছি।’
গত বছর এএফসি কাপে আবাহনীর কোচ ছিলেন সাইফুল বারী টিটু। তিনি বলেছেন, ‘পারফরম্যান্সের অধারাবাহিকতা এএফসি কাপে ব্যর্থতার অন্যতম কারণ। গতবার ঘরের মাঠে খেলার সুবিধা ফুটবলাররা নিতে পারেনি। ভালো বিদেশি খেলোয়াড়েরও অভাব ছিল দলে। আসলে ঘরোয়া ফুটবল চলার সময় এএফসি কাপ হলে সুবিধা হয়। তখন রেজাল্টও ইতিবাচক হয়।’
দীর্ঘদিন আবাহনীর ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করা সত্যজিত দাশ রুপু অবশ্য ভাগ্যকে দুষছেন। কয়েকবার সম্ভাবনা জাগিয়েও দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠতে পারেনি দল। এ নিয়ে রুপুর কণ্ঠে আক্ষেপ, ‘আমরা পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিয়েই এএফসি কাপে অংশগ্রহণ করি। কিন্তু তেমন ভালো করতে পারি না। অনেক সময় সামান্য পয়েন্টের ব্যবধানে বিদায় নিতে হয়। আসলে আমাদেরই দুর্ভাগ্য, অনেকবার খেলেও গ্রুপ পর্ব পেরোতে পারিনি আজও।’
অতীত ব্যর্থতা ভুলতে আবাহনীর সামনে আরেকটি সুযোগ। আগামী ৩ এপ্রিল কাঠমান্ডুতে শুরু হচ্ছে তাদের এএফসি কাপ মিশন। সেদিন লিগ ও ফেডারেশন কাপ চ্যাম্পিয়নদের প্রতিপক্ষ নেপালের মানাং মার্সিয়াংদি ক্লাব। ‘ই’ গ্রুপের অন্য দুই দল ভারতের মিনার্ভা পাঞ্জাব ও চেন্নাইয়ান এফসি।