হাসপাতালের বিছানায় হতাশা-আক্ষেপে দিন কাটছে জনির

হাসপাতালের বিছানায় মাশুক মিয়া জনিআজ (বৃহস্পতিবার) শুরু হয়েছে জাতীয় ফুটবল দলের অনুশীলন। ২০২২ বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে কাতার ও ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ সামনে রেখে শুরু হওয়া অনুশীলনে নেই দলের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার মাশুক মিয়া জনি। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবছেন ইনজুরিতে ১০ মাসের জন্য মাঠের বাইরে ছিটকে যাওয়া এই ফুটবলার।

বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের দ্বিতীয় পর্বে বাংলাদেশের প্রথম প্রতিপক্ষ ছিল আফগানিস্তান। তাদের বিপক্ষে খেলতে তাজিকিস্তানে যাওয়ার আগের দিন হাঁটুতে চোট পান জনি। অনুশীলনে ডিফেন্ডার বিশ্বনাথ ঘোষের ট্যাকলে আঘাত পাওয়া জনি ব্যথা নিয়ে তাজিকিস্তান গেলেও খেলা হয়নি।

শুরুর দিকে অনুশীলন করলেও ব্যথার কারণে আফগানিস্তান ম্যাচে সাইড বেঞ্চে থাকতে হয়। ঢাকায় এসে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ডান পায়ের লিগামেন্টে করতে হয়েছে অস্ত্রোপচার। সেরে উঠতে অন্তত ১০ মাস সময় লাগবে জনির। তাতে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে খেলার স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে তার।

হাসপাতালের বিছানায় বিষণ্ণ মনে আগামীর হিসাব মেলাতে গিয়ে বারবার আক্ষেপে পুড়ছেন জনি। সতীর্থরা যেখানে বিশ্বকাপের বাছাই পর্বের ম্যাচ নিয়ে ব্যস্ত, সেখানে তার সময় কাটছে বিছানায়। বাংলা ট্রিবিউনকে এই মিডফিল্ডার বলেছেন, ‘কখনও চিন্তাই করিনি বিশ্বকাপের কোনও ম্যাচ খেলতে পারব না। শুরুতে মনে করেছিলাম ব্যথা ততটা গুরুতর নয়। কিন্তু পরের দিকে ব্যথা বেড়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ছুরি-কাচির নিচে যেতে হয়েছে।’

সঙ্গে যোগ করেছেন, ‘একজন খেলোয়াড় হিসেবে দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে কাটানো বেশ পীড়াদায়ক। আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া কোনও আসরেই আমি আগামী জুন-জুলাই পর্যন্ত খেলতে পারব না।’

২০১৫ সাল থেকে জাতীয় দলে খেলছেন জনি। জেমি ডে’র অধীনে নিয়মিত একাদশে থেকেছেন মাঝমাঠে খেলার পাশাপাশি ওপরে ওঠে আক্রমণে শক্তি বাড়াতে সমান পারদর্শী এই ফুটবলার। তবে তার জায়গায় এখন বিপলুসহ অন্যদের ওপর আস্থা রাখতে হচ্ছে কোচকে।

জনি অবশ্য আশাবাদী অন্যরা ভালো করবে, ‘আমার জায়গায় অন্য যেই খেলুক না কেন, আশা করছি সে ভালো করবে। পুরো দলের প্রতি শুভকামনা রইলো। সামনে কাতার ও ভারতের সঙ্গে ম্যাচ আছে। আমার প্রত্যাশা দল ভালো খেলবে।’

জনিকে না পেয়ে কিছুটা হতাশ জেমি ডে, ‘আমরা জনিকে মিস করব। তবে অন্য যারা আছে, তাদের ওপর আস্থা রাখতে হচ্ছে।’