কমলাপুর স্টেডিয়ামে চেনচো গেইলশেনকে ঘিরে বেশ কয়েকজনের ভিড়। বাংলাদেশ সফরে আসা ভুটানের অধিনায়কই দলটির প্রধান তারকা। স্বদেশে তিনি দারুণ জনপ্রিয়। ভুটানের মানুষের কাছে ‘রোনালদো’ নামেই বেশি পরিচিত। ৩৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ১০টি গোল করা চেনচোর কাছে বাংলাদেশ অপরিচিত নয়। বছর তিনেক আগে প্রিমিয়ার ফুটবল লিগে চট্টগ্রাম আবাহনীর হয়ে খেলা এই স্ট্রাইকার একান্ত আলাপচারিতায় মেতে উঠলেন বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে।
চেনচো: ফুটবলে সবার দিন একরকম যায় না। তিন বছর আগের সেই দিনটির কথা এখনও মনে পড়ে। আমরা ভালো খেলে বাংলাদেশকে হারিয়েছিলাম। সেই ম্যাচে আমি দুই গোল করেছিলাম। ২০১৬ সালের ১০ অক্টোবরের দিনটি ছিল অন্যরকম। সেই দিনটির কথা আমরা কখনও ভুলবো না। এরপরে আমরা বাংলাদেশের কাছে দুটো ম্যাচ হেরেছি। দুই ম্যাচেই বাংলাদেশ ভালো খেলে জিতেছে।
বাংলা ট্রিবিউন: এই তিন বছরে বাংলাদেশের কী পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছেন?
চেনচো: বাংলাদেশের ফুটবল অনেক উন্নতি করেছে। তিন বছর আগের দলের সঙ্গে বর্তমান দলের কোনও মিল নেই। এখনকার দলটি তারুণ্যনির্ভর হলেও ভালো করছে, বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে দ্বিতীয় ধাপে খেলছে।
বাংলা ট্রিবিউন: গত রবিবার প্রথম প্রীতি ম্যাচে বাংলাদেশের কাছে ৪-১ গোলে হেরেছে ভুটান। সেদিন বাংলাদেশের আক্রমণাত্মক ফুটবল নিয়ে আপনার মতামত কী?
চেনচো: আমরা ধারণা করেছিলাম বাংলাদেশ ভালো খেলবে। কিন্তু এত বড় ব্যবধানে হারার কথা কল্পনাও করিনি। বাংলাদেশকে এতটা আক্রমণাত্মক খেলতে দেখে অবাক হয়েছি। অবশ্য মাঠও আমাদের অনুকূলে ছিল না। এত ভারি মাঠে খেলতে আমরা অভ্যস্ত নই। ভুটানে আমরা সাধারণত টার্ফে খেলি।
চেনচো: অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়ার খেলা ভালো লেগেছে। তার নেতৃত্বে সেদিন মাঝমাঠ শাসন করেছে বাংলাদেশ।
বাংলা ট্রিবিউন: আপনি তো তিন বছর আগে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে খেলেছিলেন। এরপর ভারতের লিগেও খেলেছেন। দুই দেশের ঘরোয়া ফুটবলের পার্থক্য কী?
চেনচো: অবকাঠামো এবং অন্যান্য কিছু দিকে বাংলাদেশের চেয়ে ভারত এগিয়ে। বাংলাদেশের ক্লাবগুলো পুরোপুরি পেশাদার হতে পারলে এই দেশের ফুটবল অনেক এগিয়ে যাবে।
বাংলা ট্রিবিউন: বাংলাদেশের কোনও ক্লাব থেকে আবার আমন্ত্রণ পেলে খেলবেন?
চেনচো: ভালো পারিশ্রমিক পেলে অবশ্যই খেলবো। তবে এখানে ফুটবল কিছুটা শারীরিক শক্তি নির্ভর। তাই অনেক সময় ভালো খেলাটা কঠিন হয়ে পড়ে।
বাংলা ট্রিবিউন: ভুটানের ফুটবল অবকাঠামো কেমন?
চেনচো: আমাদের ফুটবলে টাকা-পয়সার বেশ অভাব। তাই দিন দিন পেশাদার ফুটবলারের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। হাতে গোনা কয়েকজন পেশাদার ফুটবলার, বাকিরা ছাত্র অথবা চাকরি করে।
বাংলা ট্রিবিউন: তাহলে আপনাদের ফুটবলার তৈরির উৎস কী?
চেনচো: আমাদের ফুটবল টিকে আছে একাডেমির ওপর। ফেডারেশনের নিজস্ব একাডেমি আছে। আর প্রতিটি ক্লাবের আছে বয়সভিত্তিক একাডেমি। এসব একাডেমি থেকে খেলোয়াড় উঠে আসছে।